নারায়ণগঞ্জ ০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ার আহ্বান ডিসির জেলাবাসীর দাবি এসপি শুধু বস্তিতে নয়,অপরাধীদেরপৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদেরও ধরতে হবে সোনারগাঁয়ে মাদকসেবীর ৩ মাসের কারাদণ্ড, সংশোধনের জন্য কুরআন শরীফ প্রদান নবাগত এসপির কাছে যানজট,ছিনতাই,চাঁদাবাজ মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পরিবর্তন চান নারায়ণগঞ্জবাসী কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি চালু, বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের সম্ভাবনা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সদরে উপজেলার ১৫৮ স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান রূপগঞ্জে চোরাই মোবাইলসহ গ্রেফতার – ২ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভায় সোনারগাঁয়ে মাদকের আস্তানায় পুলিশের হানা উদ্ধার গাঁজা-ইয়াবা, আটক ৩০ রূপগঞ্জে মাদকের অপরাধে ১৯ জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সিরাজ মন্ডলের ইন্দনে মদুদীর মিথ্যা মামাল

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০
  • ৮১৩ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের বহু অপকর্মের হোতা এক সময়ের রাখাল সিরাজুল ইসলাম মন্ডল আওয়ামীলীগ নিধনের মিশনে নেমেছে। পরিকল্পিত মিথ্যা ছিনতাই নাটক সাজিয়ে ঘটনার একমাস পর তার আস্থাভাজন দেলোয়ার নামে এক মদখোরকে বাদী বানিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এই মামলার তীব্র প্রতিবাদ নিন্দা জানিয়ে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুবুর রহমান মাহবুব।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গোদনাইল এসও এলাকার দেলোয়ার ওরফে মদুদী দেলোয়ারের ছেলে মাসুম চলতি বছরের গত ১৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯ টায় নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বহুরূপী সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় তার পথ রোধ করে একই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ হাজি মতিউর রহমান মতির ছোট ভাই সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুবুর রহমান মাহবুবের নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত তেল ব্যবসায়ী আশরাফের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ২৬ জন লোক তাকে মারধর করে সমস্ত টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় তার স্ত্রী ছুটে আসলে তারা তাকেও মারধর করে গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার এক মাস পর মাসুমের পিতা মদুদী দেলোয়ার বাদী হয়ে তেল ব্যবসায়ী আশরাফকে প্রধান আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় আরো আসামি করা হয় কাউন্সিলর মতির ছোট ভাই যুবলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান, খন্দকার মানিক মাষ্টার, শামীম, দেলোয়ার হোসেন, মোতলেব, কাউন্সিলর মতির ছেলে মশিউর রহমান বাবু, ভাগিনা মামুন, মাসুদ, ভগ্নিপতি, ইয়াকুব, নাতনী জামাই আক্তার হোসেন, যুবলীগকর্মী ইফতি, নাজির, খোরশেদ আলমম, ওয়াহাব, আরিফ, রাজিব ও জাহিদুলসহ অজ্ঞাত ৬/৭ জন।
স্থানীয় একাধিক আওয়ামীলীগ নেতারা মন্তব্য করেন, মামলায় কাউন্সিলর মতির ভাই ছেলে ও আতœীয়স্বজনকে আসামি করায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এটি প্রতিহিংসার বশবতী হয়ে মামলাটি করা হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই কাউন্সিলর মতির সাথে সিরাজুল ইসলামের দ্বন্ধ চলে আসছে। মতিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে গায়েল করতেই একসময়ের রাখাল এসও এলাকার শীর্ষ তেল চোর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের পরিকল্পনায় মদুদী দেলোয়ার এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এই রকম কোন ঘটনায় ওই এলাকায় ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। পুরো বিষয়টি একটি সাজনো নাটক। আমি প্রশাসনের প্রতি তার সঠিক তদন্ততের দাবি জানাচ্ছি।
সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান ক্ষোভের সাথে জানান, এ ঘটনা বিষয়ে আমি অবগত নই। কবে কখন এ ঘটনা ঘটেছে তা কারো কাছে শোনিওনি। অথচ ঘটনার এক মাস পর দায়ের করা মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকই সনামধণ্য পরিবারের সদস্য । তারা ছিনতাইকারী এটা পাগলের প্রলাব ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই তদন্ত সাপেক্ষে এই মিথ্যা ভুতুরে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বধন মহলের প্রতি দাবি জানান।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত সিটি নির্বাচনে মতির সাথে পরাজিত হওয়ার পর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সে তার পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মতিকে গায়েল করতে নানা ষড়যন্ত শুরু করে। গতবছরে তার নিজের এক কর্মী দিয়ে নিজের বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে আগুন দিয়ে মতির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। স্থানীয় ভাবে নিজের কোন দলীয় পদপদবী না থাকলেও এলাকায় ব্যানার পোষ্টার লাগিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা সাজে। গত সিটি নির্বাচনে আইভীর পক্ষে কাছ করলেও পরাজিত হওয়ার পর বনে যায় এমপি শামীম ওসমান পন্থি। বহুরূপী সুবিধাবাদী এই সিরাজুল ইসলাম মন্ডল পুলিশ কনস্টেবল মফিজ হত্যা মামলার আসামি ছিল। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলাটি মিমাংশার মাধ্যমে হত্যার দায় থেকে রক্ষা পায়। নিজের হারানো অস্থিত ফিরে ফেতে সে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে যে কোন সময় হত্যাকান্ডসহ বড় ধরনের কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই তার বিরুদ্ধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ার আহ্বান ডিসির

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সিরাজ মন্ডলের ইন্দনে মদুদীর মিথ্যা মামাল

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের বহু অপকর্মের হোতা এক সময়ের রাখাল সিরাজুল ইসলাম মন্ডল আওয়ামীলীগ নিধনের মিশনে নেমেছে। পরিকল্পিত মিথ্যা ছিনতাই নাটক সাজিয়ে ঘটনার একমাস পর তার আস্থাভাজন দেলোয়ার নামে এক মদখোরকে বাদী বানিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এই মামলার তীব্র প্রতিবাদ নিন্দা জানিয়ে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুবুর রহমান মাহবুব।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গোদনাইল এসও এলাকার দেলোয়ার ওরফে মদুদী দেলোয়ারের ছেলে মাসুম চলতি বছরের গত ১৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯ টায় নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বহুরূপী সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় তার পথ রোধ করে একই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ হাজি মতিউর রহমান মতির ছোট ভাই সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুবুর রহমান মাহবুবের নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত তেল ব্যবসায়ী আশরাফের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ২৬ জন লোক তাকে মারধর করে সমস্ত টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় তার স্ত্রী ছুটে আসলে তারা তাকেও মারধর করে গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার এক মাস পর মাসুমের পিতা মদুদী দেলোয়ার বাদী হয়ে তেল ব্যবসায়ী আশরাফকে প্রধান আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় আরো আসামি করা হয় কাউন্সিলর মতির ছোট ভাই যুবলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান, খন্দকার মানিক মাষ্টার, শামীম, দেলোয়ার হোসেন, মোতলেব, কাউন্সিলর মতির ছেলে মশিউর রহমান বাবু, ভাগিনা মামুন, মাসুদ, ভগ্নিপতি, ইয়াকুব, নাতনী জামাই আক্তার হোসেন, যুবলীগকর্মী ইফতি, নাজির, খোরশেদ আলমম, ওয়াহাব, আরিফ, রাজিব ও জাহিদুলসহ অজ্ঞাত ৬/৭ জন।
স্থানীয় একাধিক আওয়ামীলীগ নেতারা মন্তব্য করেন, মামলায় কাউন্সিলর মতির ভাই ছেলে ও আতœীয়স্বজনকে আসামি করায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এটি প্রতিহিংসার বশবতী হয়ে মামলাটি করা হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই কাউন্সিলর মতির সাথে সিরাজুল ইসলামের দ্বন্ধ চলে আসছে। মতিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে গায়েল করতেই একসময়ের রাখাল এসও এলাকার শীর্ষ তেল চোর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের পরিকল্পনায় মদুদী দেলোয়ার এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এই রকম কোন ঘটনায় ওই এলাকায় ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। পুরো বিষয়টি একটি সাজনো নাটক। আমি প্রশাসনের প্রতি তার সঠিক তদন্ততের দাবি জানাচ্ছি।
সুমিলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান ক্ষোভের সাথে জানান, এ ঘটনা বিষয়ে আমি অবগত নই। কবে কখন এ ঘটনা ঘটেছে তা কারো কাছে শোনিওনি। অথচ ঘটনার এক মাস পর দায়ের করা মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকই সনামধণ্য পরিবারের সদস্য । তারা ছিনতাইকারী এটা পাগলের প্রলাব ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই তদন্ত সাপেক্ষে এই মিথ্যা ভুতুরে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বধন মহলের প্রতি দাবি জানান।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত সিটি নির্বাচনে মতির সাথে পরাজিত হওয়ার পর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সে তার পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মতিকে গায়েল করতে নানা ষড়যন্ত শুরু করে। গতবছরে তার নিজের এক কর্মী দিয়ে নিজের বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে আগুন দিয়ে মতির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। স্থানীয় ভাবে নিজের কোন দলীয় পদপদবী না থাকলেও এলাকায় ব্যানার পোষ্টার লাগিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা সাজে। গত সিটি নির্বাচনে আইভীর পক্ষে কাছ করলেও পরাজিত হওয়ার পর বনে যায় এমপি শামীম ওসমান পন্থি। বহুরূপী সুবিধাবাদী এই সিরাজুল ইসলাম মন্ডল পুলিশ কনস্টেবল মফিজ হত্যা মামলার আসামি ছিল। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলাটি মিমাংশার মাধ্যমে হত্যার দায় থেকে রক্ষা পায়। নিজের হারানো অস্থিত ফিরে ফেতে সে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে যে কোন সময় হত্যাকান্ডসহ বড় ধরনের কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই তার বিরুদ্ধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।