নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে ছাড়াল বাংলাদেশ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ ৪ ডিসেম্বর থেকে হিন্দি সিনেমায় জয়া আহসান, নায়ক পঙ্কজ ত্রিপাঠি গ্রুপ সেরা আর্জেন্টিনা, শেষ ষোলয় প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধিরগঞ্জে জয়নাল বাহিনীর ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় স্কুলে অনৈতিক আর্থিক সুবিধায় ক্ষমতার চেয়ারে শিক্ষিকা দিলরুবা রূপগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় ৭ বছরের মাদ্রাসা পরুয়া শিশুর মৃত্যু ফতুল্লা ওসি’র কন্যা রাইসা জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন সোনারগাঁয়ে টেক্সটাইল মিলে ও মিষ্টি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ফতুল্লায় অপহরনকারী চক্রের নারী সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৫, অপহৃত উদ্ধার

সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়ায় অবৈধ কয়েল কারখানা : কর্তৃপক্ষ নিরব

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় ঘনবসতি আবাসিক এলাকায় অবৈধ ভাবে মশার কয়েল তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছে মহিউদ্দিন। পরিবেশ নীতিমালা অমান্য করে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর বিভিন্ন রকমের কয়েল তৈরি করা হচ্ছে এই কারখানায়। স্থানীয় প্রভাবশালী ও সংশ্লিষ্ট মহলকে ম্যানেজ করে অবৈধ কয়েল কারখানা গড়ে তুলায় জনমনে বিরাজ করছে ক্ষোভ। রহস্যজনক কারণে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করছেন না স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

অভিযোগ জানা গেছে, নাসিক ১ নং ওয়ার্ড মিজমিজি বাতানপাড়া কবরস্থান এলাকায় মো: আক্তার মিয়ার জমি ভাড়া নিয়ে অনুমোদনহীন ভেজাল জুস তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন মহিউদ্দিন। এই মহিউদ্দন চাঁদপুর জেলার মতলব থানা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। জুস তৈরির কারখানার কোন অনুমোদন নেই বিষয়টি জানাজানি ও স্থানীয় একাধিক দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে, চথুর মহিউদ্দিন জুস কারখানা বন্ধ করে মশার কয়েল তৈরির কারখানা গড়ে তুলে। কয়েল কারখানারো কোন সরকারি অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, অল আউট, পিসিপি, নাইট ফোর্স বোস্টার, বাসক পাতা, অল মার্ডারসহ বিভিন্ন নামের কয়েল তৈরি করা হচ্ছে মহিউদ্দিনের কারখানায়। এসব কয়েল তৈরি করার কোন সরকারি অনুমতি নেই। সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে এসব কয়েল তৈরি ও বাজার জাত করা হচ্ছে। কারখানার প্রধান গেইটে তালা লাগিয়ে ভিতরে গোপনে তৈরি করা হচ্ছে এসব কয়েল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মশার কয়েল তৈরির প্রধান উপাদান হলো পাইরোফ্রয়েড। এটি প্রাকৃতিক যৌগ পাইরোগ্রাম থেকে পাওয়া যায়। তাছাড়া অ্যালেট্রিন-এর মতো সমধর্মী যৌগ থেকেও তা পাওয়া যায়। তাপ পেলে ম্যাটের পাইরোফ্রয়েড বাষ্পীভূত হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রযয়োগের জন্য ম্যাটকে ম্যাটহিটারের হিটপেস্নটে রাখতে হয়। এর আসল সক্রিয় উপাদান হলো কীটনাশক ডিডিটি বা পিন্ডেনের মতো কোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন, প্যারাফিনের মতো আরপ্যানো ফসফরাস যৌগ এবং কার্বন। এসব উপাদান ব্যবহার করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাপ প্রয়োজন। অতিরিক্ত হলে মানব দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর। গবেষকদের মতে, একটি মশার কয়েল থেকে যে পরিমান ধোঁয়া নির্গত হয় তা একশ সিগারেটের সমান। কয়েলে নির্দিষ্ট মাত্রায় কিটনাশক ব্যবহার করলেও শ্বাসকষ্ট, কাশি ও ফুসফুসের সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয় তাহলে মানব দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর।

অভিযোগ জানা গেছে, সরকারি অনোমতি না থাকায় মহিউদ্দিনের কারখানায় তৈরি কয়েলে কিটনাশক ব্যবহার করার পরিক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। নিজের মনগাড়া মতেই ব্যবহার করছে কিটনাশক। ফলে কারখানার আশপাশের বাসিন্দারা রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে। কারণ, কয়েল তৈরির কারখানার চারপাশে কমপক্ষে একশ গজ পর্যন্ত গন্ধ ছড়ায়। এই গন্ধ বিষাক্ত। প্রভাবশালী মহল ম্যানেজ থাকায় এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেম কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

এ বিষয়ে কারখানা মালিক মহিউদ্দিনের সাথে কথা হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন। আর কিছু কাগজ পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্বল্পসময়ের মধ্যে তা পেয়ে যাবেন। একাধিক নামের কয়েল তৈরি প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু কয়েল সাব কন্ট্রাকে তৈরি করেন। তবে কোন কারখানার কয়েল সাবকন্ট্রাক নিয়েছেন তা জানাননি। সবশেষে স্বীকার করতে বাধ্য হন, কাস্টম, বিদ্যুৎ, পরিবেশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালাচ্ছি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে ছাড়াল বাংলাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়ায় অবৈধ কয়েল কারখানা : কর্তৃপক্ষ নিরব

আপডেট সময় : ১০:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার : সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় ঘনবসতি আবাসিক এলাকায় অবৈধ ভাবে মশার কয়েল তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছে মহিউদ্দিন। পরিবেশ নীতিমালা অমান্য করে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর বিভিন্ন রকমের কয়েল তৈরি করা হচ্ছে এই কারখানায়। স্থানীয় প্রভাবশালী ও সংশ্লিষ্ট মহলকে ম্যানেজ করে অবৈধ কয়েল কারখানা গড়ে তুলায় জনমনে বিরাজ করছে ক্ষোভ। রহস্যজনক কারণে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করছেন না স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

অভিযোগ জানা গেছে, নাসিক ১ নং ওয়ার্ড মিজমিজি বাতানপাড়া কবরস্থান এলাকায় মো: আক্তার মিয়ার জমি ভাড়া নিয়ে অনুমোদনহীন ভেজাল জুস তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন মহিউদ্দিন। এই মহিউদ্দন চাঁদপুর জেলার মতলব থানা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। জুস তৈরির কারখানার কোন অনুমোদন নেই বিষয়টি জানাজানি ও স্থানীয় একাধিক দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে, চথুর মহিউদ্দিন জুস কারখানা বন্ধ করে মশার কয়েল তৈরির কারখানা গড়ে তুলে। কয়েল কারখানারো কোন সরকারি অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, অল আউট, পিসিপি, নাইট ফোর্স বোস্টার, বাসক পাতা, অল মার্ডারসহ বিভিন্ন নামের কয়েল তৈরি করা হচ্ছে মহিউদ্দিনের কারখানায়। এসব কয়েল তৈরি করার কোন সরকারি অনুমতি নেই। সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে এসব কয়েল তৈরি ও বাজার জাত করা হচ্ছে। কারখানার প্রধান গেইটে তালা লাগিয়ে ভিতরে গোপনে তৈরি করা হচ্ছে এসব কয়েল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মশার কয়েল তৈরির প্রধান উপাদান হলো পাইরোফ্রয়েড। এটি প্রাকৃতিক যৌগ পাইরোগ্রাম থেকে পাওয়া যায়। তাছাড়া অ্যালেট্রিন-এর মতো সমধর্মী যৌগ থেকেও তা পাওয়া যায়। তাপ পেলে ম্যাটের পাইরোফ্রয়েড বাষ্পীভূত হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রযয়োগের জন্য ম্যাটকে ম্যাটহিটারের হিটপেস্নটে রাখতে হয়। এর আসল সক্রিয় উপাদান হলো কীটনাশক ডিডিটি বা পিন্ডেনের মতো কোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন, প্যারাফিনের মতো আরপ্যানো ফসফরাস যৌগ এবং কার্বন। এসব উপাদান ব্যবহার করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাপ প্রয়োজন। অতিরিক্ত হলে মানব দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর। গবেষকদের মতে, একটি মশার কয়েল থেকে যে পরিমান ধোঁয়া নির্গত হয় তা একশ সিগারেটের সমান। কয়েলে নির্দিষ্ট মাত্রায় কিটনাশক ব্যবহার করলেও শ্বাসকষ্ট, কাশি ও ফুসফুসের সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয় তাহলে মানব দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর।

অভিযোগ জানা গেছে, সরকারি অনোমতি না থাকায় মহিউদ্দিনের কারখানায় তৈরি কয়েলে কিটনাশক ব্যবহার করার পরিক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। নিজের মনগাড়া মতেই ব্যবহার করছে কিটনাশক। ফলে কারখানার আশপাশের বাসিন্দারা রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে। কারণ, কয়েল তৈরির কারখানার চারপাশে কমপক্ষে একশ গজ পর্যন্ত গন্ধ ছড়ায়। এই গন্ধ বিষাক্ত। প্রভাবশালী মহল ম্যানেজ থাকায় এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেম কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

এ বিষয়ে কারখানা মালিক মহিউদ্দিনের সাথে কথা হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন। আর কিছু কাগজ পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্বল্পসময়ের মধ্যে তা পেয়ে যাবেন। একাধিক নামের কয়েল তৈরি প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু কয়েল সাব কন্ট্রাকে তৈরি করেন। তবে কোন কারখানার কয়েল সাবকন্ট্রাক নিয়েছেন তা জানাননি। সবশেষে স্বীকার করতে বাধ্য হন, কাস্টম, বিদ্যুৎ, পরিবেশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালাচ্ছি।