নারায়ণগঞ্জ ০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দুই মুক্তিযোদ্ধাকে ১০ লাখ টাকা চিকিৎসা অনুদান সেলিম ওসমানের

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

নগরীর পাইকপাড়া এলাকার অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহম্মেদ ও আনোয়ার হোসেন এর চিকিৎসার জন্য সহযোগীতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তাদের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগীতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলীর ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলের যথাযথ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনেরও দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় এমপি সেলিম ওসমানের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মধ্যাহ্ন ভোজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি এসব ঘোষণা দেন।

আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানের আয়োজন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সাবলম্বী হয়ে উঠতে দিক নিদের্শনা মূলক বক্তব্যের পর মুক্তিযোদ্ধা সমস্যার কথা শুনতে আলোচনা উন্মুক্ত করে দেন।

এ সময় জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মোহর আলী বলেন, তাঁর ছেলে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। তিনি নিজের সাধ্যমত ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছেন। নিজের স্বল্প আয়ের এখন ছেলে চিকিৎসা খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার ছেলের মাত্র ৩ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি নিজের ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, উনার ছেলের অসুস্থতার কথা আমার জানা ছিল না। উনার ছেলের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আজকে থেকে উনার ছেলের চিকিৎসার জন্য উনাকে কোন চিন্তা করতে হবে না। তার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আজ থেকে আমি বহন করবো।

সাথে সাথে এমপি সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্নাকে হাসপাতালে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপরেই মঞ্চে আসেন মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন। তিনি কোন কিছু বলার আগেই এমপি সেলিম ওসমান মাইক নিয়ে বলেন, উনি আমার চাচা। উনি গুরুতর অসুস্থ্য উনার জন্য কিছু করার আমার দায়িত্ব। আমার আরেকজন চাচা আছেন আনোয়ার হোসেন। উনিও অসুস্থ্য। উনাদের দুইজনকে চিকিৎসার জন্য আমি ৫ লাখ টাকা করে সহযোগীতা করবো। আগামী ৩০ ডিসেম্বর বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা উনাদের চেক তুলে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন-জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা জাসদের সভাপতি এম এ সাত্তার, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নব নির্বাচিত সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বন্দর ইউনিটের কমান্ডার আব্দুল লতিফ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসেম শকু, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

দুই মুক্তিযোদ্ধাকে ১০ লাখ টাকা চিকিৎসা অনুদান সেলিম ওসমানের

আপডেট সময় : ০৫:১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭

নগরীর পাইকপাড়া এলাকার অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহম্মেদ ও আনোয়ার হোসেন এর চিকিৎসার জন্য সহযোগীতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তাদের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগীতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলীর ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলের যথাযথ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনেরও দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় এমপি সেলিম ওসমানের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মধ্যাহ্ন ভোজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি এসব ঘোষণা দেন।

আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানের আয়োজন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সাবলম্বী হয়ে উঠতে দিক নিদের্শনা মূলক বক্তব্যের পর মুক্তিযোদ্ধা সমস্যার কথা শুনতে আলোচনা উন্মুক্ত করে দেন।

এ সময় জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মোহর আলী বলেন, তাঁর ছেলে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। তিনি নিজের সাধ্যমত ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছেন। নিজের স্বল্প আয়ের এখন ছেলে চিকিৎসা খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার ছেলের মাত্র ৩ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি নিজের ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, উনার ছেলের অসুস্থতার কথা আমার জানা ছিল না। উনার ছেলের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আজকে থেকে উনার ছেলের চিকিৎসার জন্য উনাকে কোন চিন্তা করতে হবে না। তার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আজ থেকে আমি বহন করবো।

সাথে সাথে এমপি সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্নাকে হাসপাতালে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপরেই মঞ্চে আসেন মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন। তিনি কোন কিছু বলার আগেই এমপি সেলিম ওসমান মাইক নিয়ে বলেন, উনি আমার চাচা। উনি গুরুতর অসুস্থ্য উনার জন্য কিছু করার আমার দায়িত্ব। আমার আরেকজন চাচা আছেন আনোয়ার হোসেন। উনিও অসুস্থ্য। উনাদের দুইজনকে চিকিৎসার জন্য আমি ৫ লাখ টাকা করে সহযোগীতা করবো। আগামী ৩০ ডিসেম্বর বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা উনাদের চেক তুলে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন-জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা জাসদের সভাপতি এম এ সাত্তার, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নব নির্বাচিত সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বন্দর ইউনিটের কমান্ডার আব্দুল লতিফ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসেম শকু, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।