নারায়ণগঞ্জ ০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভোগান্তির নাম শিবু মার্কেট

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট  হতে পাগলা-পঞ্চবটি লিংক রোডের শাখা সংযোগ সড়কের যাতায়াতকারী মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এই রাস্তাটি অন্যান্য রাস্তার তুলনায় ভালো হওয়াতে এই রাস্তাটিকে শর্টকার্ট হিসেবে ব্যাবহার করে গাড়িগুলো চলাচল করে। রাস্তাটি সংস্কার করে ভালো করা হলেও ভোগান্তি বেড়েছে জন সাধারনের। ধুলাবালি ও জ্যামের কারনে ভোগান্তির অপর নাম হয়ে উঠেছে এই সড়কটি।

প্রতিদিন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ এই পথে যাতায়াত করে, যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন শিল্প কল-কারখানার শ্রমিক। একটি শাখা সড়কে বিপুল পরিমান মানুষ যাতায়াত করার ফলে সার্বক্ষনিক যানজট আর ধুলাবালি লেগেই থাকে। আর কারখানাগুলোতে অফিস টাইমে আর ছুটির সময়ে ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌছায়। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের সহায়তায় রাস্তাটিকে মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু এতে রাস্তা ঠিক হলেও যানজট ও ধুলাবালির কারনে ভোগান্তি বেড়েছে।

কাঠের পুল এলাকার চা দোকানদার মজিদ মিয়া(৫০) বলেন রাস্তা ভালো হবার পর থেকেই জ্যাম বেড়েছে, কারন রাস্তা ভাল পেয়ে বিভিন্ন রুটের ট্রাক এই রাস্তা শর্টকাট হিসেবে ব্যাবহার করার জন্যে ঢুকে, ফলে রাস্তা সরু বিধায় দুটো ট্রাক ক্রস করতে পারে না।  রাস্তা আরেকটু প্রশস্থ করা হলে এই সমস্যা আর হবে না বলে জানান।

এলাকার কমর আলী স্কুলের ক্লাস ৭ এর ছাত্রী ইতি (১৫) ও অজান্তা(১৪) অভিযোগ করে বলেন জ্যামের কারনে স্কুলে যেতে অনেক সময় লেট হয়, একবার জ্যাম লাগলে কখন ছুটবে তা কেউ বলতে পারে না। আর অটোরিক্সা গুলো রং লাইনে অটো চালিয়ে জ্যাম আরো বেশী লাগায়।  বাধ্য হয়ে হেঁটেই যাতায়াত করা হয়।

অটো চালক মামুন শিকদার(৩৫) কে অটো রিক্সার রং লাইনে চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন যে এই অভিযোগ সত্য, তবে নতুন অটো চালকরা এটা বেশী করে, এক্ষেত্রে কাঠেরপুলে একজন ট্রাফিক পুলিশ থাকলে ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রনে থাকত।

এসব অভিযোগ নিয়ে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ পিপিএম এর কাছে জানতে চাইলে এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন এটা সত্য যে এখানে প্রচুর যানজট হয়, কিন্তু সেটা শাখা রাস্তা বিধায় সেই দায়ভার ট্রাফিক বিভাগের নয়। এটা এলাকার ইউনিয়ন বা উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, যদি জেলা প্রশাসক এর থেকে নির্দেশনা আসে তবে ট্রাফিক তা নিরসনে কাজ করবে। তিনি তার ব্যাক্তিগত অভিমতে জানিয়েছেন রাস্তা প্রশস্থ করা এবং রাস্তার মাঝে কারখানার কাচামাল লোড আনলোড করা বন্ধ হলে জ্যাম লাগার সম্ভাবনা নেই। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে আর কে সেই দায়িত্ত নিয়ে তার সমাধান করবে তা জনগনের কাছে অধরাই রয়ে গেল।

 

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোগান্তির নাম শিবু মার্কেট

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট  হতে পাগলা-পঞ্চবটি লিংক রোডের শাখা সংযোগ সড়কের যাতায়াতকারী মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এই রাস্তাটি অন্যান্য রাস্তার তুলনায় ভালো হওয়াতে এই রাস্তাটিকে শর্টকার্ট হিসেবে ব্যাবহার করে গাড়িগুলো চলাচল করে। রাস্তাটি সংস্কার করে ভালো করা হলেও ভোগান্তি বেড়েছে জন সাধারনের। ধুলাবালি ও জ্যামের কারনে ভোগান্তির অপর নাম হয়ে উঠেছে এই সড়কটি।

প্রতিদিন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ এই পথে যাতায়াত করে, যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন শিল্প কল-কারখানার শ্রমিক। একটি শাখা সড়কে বিপুল পরিমান মানুষ যাতায়াত করার ফলে সার্বক্ষনিক যানজট আর ধুলাবালি লেগেই থাকে। আর কারখানাগুলোতে অফিস টাইমে আর ছুটির সময়ে ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌছায়। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের সহায়তায় রাস্তাটিকে মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু এতে রাস্তা ঠিক হলেও যানজট ও ধুলাবালির কারনে ভোগান্তি বেড়েছে।

কাঠের পুল এলাকার চা দোকানদার মজিদ মিয়া(৫০) বলেন রাস্তা ভালো হবার পর থেকেই জ্যাম বেড়েছে, কারন রাস্তা ভাল পেয়ে বিভিন্ন রুটের ট্রাক এই রাস্তা শর্টকাট হিসেবে ব্যাবহার করার জন্যে ঢুকে, ফলে রাস্তা সরু বিধায় দুটো ট্রাক ক্রস করতে পারে না।  রাস্তা আরেকটু প্রশস্থ করা হলে এই সমস্যা আর হবে না বলে জানান।

এলাকার কমর আলী স্কুলের ক্লাস ৭ এর ছাত্রী ইতি (১৫) ও অজান্তা(১৪) অভিযোগ করে বলেন জ্যামের কারনে স্কুলে যেতে অনেক সময় লেট হয়, একবার জ্যাম লাগলে কখন ছুটবে তা কেউ বলতে পারে না। আর অটোরিক্সা গুলো রং লাইনে অটো চালিয়ে জ্যাম আরো বেশী লাগায়।  বাধ্য হয়ে হেঁটেই যাতায়াত করা হয়।

অটো চালক মামুন শিকদার(৩৫) কে অটো রিক্সার রং লাইনে চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন যে এই অভিযোগ সত্য, তবে নতুন অটো চালকরা এটা বেশী করে, এক্ষেত্রে কাঠেরপুলে একজন ট্রাফিক পুলিশ থাকলে ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রনে থাকত।

এসব অভিযোগ নিয়ে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ পিপিএম এর কাছে জানতে চাইলে এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন এটা সত্য যে এখানে প্রচুর যানজট হয়, কিন্তু সেটা শাখা রাস্তা বিধায় সেই দায়ভার ট্রাফিক বিভাগের নয়। এটা এলাকার ইউনিয়ন বা উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, যদি জেলা প্রশাসক এর থেকে নির্দেশনা আসে তবে ট্রাফিক তা নিরসনে কাজ করবে। তিনি তার ব্যাক্তিগত অভিমতে জানিয়েছেন রাস্তা প্রশস্থ করা এবং রাস্তার মাঝে কারখানার কাচামাল লোড আনলোড করা বন্ধ হলে জ্যাম লাগার সম্ভাবনা নেই। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে আর কে সেই দায়িত্ত নিয়ে তার সমাধান করবে তা জনগনের কাছে অধরাই রয়ে গেল।