সারোয়ার হোসেন:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর বাজারে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক (৪৫)কে কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আহত ব্যবসায়ীর স্বজনরা।
পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার (১০ জুন) সকালে সংঘটিত নৃশংস হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। উল্টো মামলা না করার জন্য এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আহতের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আহত ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শরীফ বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু হামলাকারীরা থেমে নেই। আজ সকালে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারা আমার পথরোধ করে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।”
তার দাবি, সালামত, সুজন, কামাল, বাবু গাজী, শাহীন, সাজ্জাদ, জুয়েল, শাহজালাল, রিয়াজুল, লিটন ও আকাশসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এর আগে গত বুধবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কালাপাহাড়িয়া গ্রামের সালামত উল্লার ছেলে সুজন ও সাজ্জাদ, শুক্কুরের ছেলে বাবু গাজী, খলিলের ছেলে শাহজালাল এবং কামালের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কোপে আব্দুর রাজ্জাকের হাত, পা ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মদনপুরের আল-বারাকা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ হামলার পেছনে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বিরোধ কাজ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন আগে অভিযুক্ত বাবু গাজী স্থানীয় রেজেক মোল্লা নামের এক ব্যক্তির কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হামলার ঘটনার পর থেকেই রাধানগর বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত ব্যবসায়ীর পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এমন হামলার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে পুনরায় হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধির নাম 






















