নারায়ণগঞ্জ ০৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নারায়ণগঞ্জে ১০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণ: ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ ভাষাসৈনিক আয়েশা বেগমের প্রয়াণ: তিন দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন প্রচণ্ড রৌদ্রের প্রখরতায় পথচারী, শ্রমজীবী ও ট্রাফিকদের জন্য ডিসি ও এসপির মানবিক উদ্যোগ সর্ব মহলে প্রশংসিত শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬ তম তিরোধান উৎসব উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ব্রিফিং ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর মানববন্ধন কাশিপুর কল্যাণী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ খাল পুনঃখনন শুরু, তৎপর সদর উপজেলা প্রশাসন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি: ফতুল্লার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতা রোধে নারায়ণগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিসি মো:রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে নির্মাণ সামগ্রী লুটের অভিযোগ যুবদল নেতার ২০ হাজার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ

রিয়াদে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

সৌদি আরবের রিয়াদে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ) দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের নিয়ে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত ওমর লিব্বি আমের আজওয়াদ ও কূটনৈতিক কোরের ডীন জিবুতির রাষ্ট্রদূত দায়া আদদীন সাঈদ বামাখারামা বক্তব্য প্রদান করেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রিন্স সুলতান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নুরুন্নবী বক্তব্য প্রদান করেন।
রাষ্ট্রদূত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে মাতৃভাষা বাংলা রক্ষা করার বিষয়ে বাঙালি জাতির অবদানের কথা বিদেশীদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন,দিবসটি পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষা রক্ষার দাবীতে সংগ্রাম ও ভাষার অধিকার আদায়ের এক উজ্জলতম দৃষ্টান্ত। এসময় রাষ্ট্রদূত বলেন, এই বিশেষ দিনে ভাষার বৈচিত্র্য, শান্তি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, যা প্রথমে ইউনেস্কো এবং পরে জাতিসংঘ দ্বারা ঘোষিত হয়েছিল সারা বিশ্বের মানুষের জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণের দিন, যারা তাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।তিনি বলেন,দ্রুতই পৃথিবী থেকে বিভিন্ন ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে, সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তিনি মাতৃভাষা রক্ষায় দেশ কালভেদে পৃথিবীর সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মাতৃভাষায় শিক্ষার ওপর জোর দেন। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বক্তারা।টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে প্রত্যেককে নিজ নিজ ভাষা চর্চা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বজায় রাখতে বক্তারা আহবান করেন। এছাড়া ভাষার বৈচিত্র্য যেকোন দেশের জন্য গর্বের বিষয় বলে জানান বক্তারা। ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারি-কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে। এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ‍্যে একটি তথ্যচিত্র ও বিভিন্ন ভাষায় একুশে ফেব্রুয়ারির গান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন রাষ্ট্রদূতসহ ৪০ জন কূটনীতিক যোগদান করেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নারায়ণগঞ্জে ১০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণ: ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ

রিয়াদে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

আপডেট সময় : ০৪:০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সৌদি আরবের রিয়াদে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ) দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের নিয়ে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত ওমর লিব্বি আমের আজওয়াদ ও কূটনৈতিক কোরের ডীন জিবুতির রাষ্ট্রদূত দায়া আদদীন সাঈদ বামাখারামা বক্তব্য প্রদান করেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রিন্স সুলতান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নুরুন্নবী বক্তব্য প্রদান করেন।
রাষ্ট্রদূত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে মাতৃভাষা বাংলা রক্ষা করার বিষয়ে বাঙালি জাতির অবদানের কথা বিদেশীদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন,দিবসটি পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষা রক্ষার দাবীতে সংগ্রাম ও ভাষার অধিকার আদায়ের এক উজ্জলতম দৃষ্টান্ত। এসময় রাষ্ট্রদূত বলেন, এই বিশেষ দিনে ভাষার বৈচিত্র্য, শান্তি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, যা প্রথমে ইউনেস্কো এবং পরে জাতিসংঘ দ্বারা ঘোষিত হয়েছিল সারা বিশ্বের মানুষের জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণের দিন, যারা তাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।তিনি বলেন,দ্রুতই পৃথিবী থেকে বিভিন্ন ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে, সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তিনি মাতৃভাষা রক্ষায় দেশ কালভেদে পৃথিবীর সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মাতৃভাষায় শিক্ষার ওপর জোর দেন। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বক্তারা।টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে প্রত্যেককে নিজ নিজ ভাষা চর্চা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বজায় রাখতে বক্তারা আহবান করেন। এছাড়া ভাষার বৈচিত্র্য যেকোন দেশের জন্য গর্বের বিষয় বলে জানান বক্তারা। ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারি-কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে। এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ‍্যে একটি তথ্যচিত্র ও বিভিন্ন ভাষায় একুশে ফেব্রুয়ারির গান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন রাষ্ট্রদূতসহ ৪০ জন কূটনীতিক যোগদান করেন।