নারায়ণগঞ্জ ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে ১৮ বছর পর সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের শিক্ষক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পার্থের নতুন দায়িত্বে প্রবাসীদের আশা পূরণের প্রত্যাশা মালয়েশিয়া বিজেপির রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ ডিসির সোনারগাঁওয়ে পানাম গাবতলী সংযোগ সড়কের সিসি ও আরসিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন সৌদিতে প্রবাসীদের সেবায় আরও একধাপ এগিয়ে বিন মিশাল ট্রাভেলস, সুবেকায় ১৯তম শাখার উদ্বোধন প্রবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকারে বিন মিশাল গ্লোবালের ৪র্থ বর্ষপূর্তি বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষতা বাড়াতে মালয়েশিয়ায় কোয়েল আক্তার বন্দরে ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে যুবককে কুপিয়ে জখম ও বাড়ি-ঘরে হামলা পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, হয়রানির শিকার সৌদি প্রবাসীর পরিবার

মেট্রোরেল যুগে বাংলাদেশ ও বাঙালির স্বপ্ন পূরণ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২
  • ২৬৮ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: বাঙালির আরও এক স্বপ্ন পূরণ হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে মেট্রো যুগে পা রাখলো সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা একটা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজ পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন বহু কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেলের।

মেট্রোরেলের ফিতা কেটে উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী, শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যরা।

যানজটের ইতি টানতে ঢাকার বুকে অত্যাধুনিক মেট্রোরেল নির্মাণের স্বপ্নের বীজ বপন হয় সেই ২০০৫ সালে। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী মেট্রোরেলের ট্রেনটি ১৭ মিনিটে উত্তরা নর্থ (দিয়াবাড়ী) স্টেশন থেকে আগারগাঁও পৌঁছানোর মাধ্যমে। ১৭ বছরে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, বাধাহীন উড়াল রেলপথে শত কিলোমিটার গতিতে ছুটছে মেট্রোরেল।

বহুল প্রতীক্ষার মেট্রোরেলের উদ্বোধনের দিনে শুধু দিয়াবাড়ী, আগারগাঁও নয়- উৎসবের আমেজ ছিল রাজধানীজুড়ে। উদ্বোধনের দিন ট্রেনে চড়া যাবে না জেনেও দুরন্ত গতির মেট্রোরেল দেখতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। আজ থেকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও অংশে ১০ মিনিট অন্তর চলবে ট্রেন। পথিমধ্যে সাতটি স্টেশনে আপাতত থামবে না। পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে চলবে ধাপে ধাপে। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সাড়ে তিন মিনিট অন্তর চলবে ট্রেন। এখন প্রতি যাত্রায় শ দুয়েক যাত্রী নিয়ে চললেও, তখন থেকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ যাত্রী চড়তে পারবেন।

দিয়াবাড়ীতে সুধী সমাবেশে বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে আসনে মেট্রোরেলের স্টেশনে। এর আগে মূল ফলক পরিদর্শন করে এর পাশে তেঁতুলগাছের চারা রোপণ করেন। তিন তলা স্টেশনের দ্বিতীয় তলা তথা কনকর্স লেভেলে উঠে দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে এক নম্বর কাউন্টার থেকে টিকিট কাটেন দুই বোন। মন্ত্রিসভার সদস্যরাও ৫০০ টাকায় স্মার্টকার্ড তথা মেট্রো পাস কেনেন।

চলন্ত সিঁড়িতে তিন তলায় তথা প্ল্যাটফর্মে আসেন সরকারপ্রধান। তাঁকে স্বাগত জানায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু লামিতা। আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি ট্রেনে ওঠেন ১টা ৪৫ মিনিটে। প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাসঙ্গী হন বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি, নারী, আগুন সন্ত্রাসে আহত ও নিহতদের স্বজনরা। তাঁরা বসেন তৃতীয় ও চতুর্থ বগিতে।

ট্রেনের দ্বিতীয় বগিতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার মাঝে বসেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। এই বগিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ নেতা এবং মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা ছিলেন।

২০১৩ সালে শাহবাগে বাসে আগুনে পুড়ে নিহত হন তরুণ নাহিদ। তাঁর মা রুনি বেগম প্রধানমন্ত্রীর সহযাত্রী হন। তিনি সমকালকে বলেন, শেখ হাসিনা আমাকে মনে রেখে মেট্রোরেলের উদ্বোধনে ডেকেছেন, এতেই আমি কৃতজ্ঞ। ছেলে দেখে যেতে পারেনি, তবে শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশের উন্নতি হোক।

১টা ৫৩ মিনিটে ট্রেনটি যাত্রা করার পর প্রধানমন্ত্রী সহযাত্রীদের বগিতে আসেন। তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ট্রেনটির অপারেটর ছিলেন মরিয়ম আফিজা। প্রধানমন্ত্রী সবুজ পতাকা উড়িয়ে প্রথম যে ট্রেনের যাত্রার সূচনা করেছিলেন, সেটির চালকের আসনে ছিলেন আসমা আক্তার। সড়ক পরিবহন সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক। তা তুলে ধরতেই উদ্বোধনের দিনে দুই ট্রেন পরিচালনা করেছেন দুই নারী অপারেটর।

প্রধানমন্ত্রীর ট্রেনের যাত্রী হওয়া মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপি, রাজনীতিক, বিশিষ্টজনরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। চলন্ত ট্রেনে বসে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, সড়কে যতই যানজট হোক, মাথার ওপর দিয়ে দ্রুত চলে যাবে মেট্রোরেল। ইউরোপ, জাপানের মতোই উন্নত ঢাকার মেট্রোরেল। শেখ হাসিনার অনবদ্য নেতৃত্বেই তা সম্ভব হয়েছে।

যানজটের শহরে অসম্ভবকে সম্ভব করে ১৭ মিনিটে দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পৌঁছতে মেট্রোরেলকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা (এসটিপি) করা হয়। তাতে যানজট নিরসনে ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল ও তিনটি বিআরটি নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফেরার পর এসটিপির সমীক্ষায় দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন (এমআরটি-৬) নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রকল্প সমীক্ষা শেষে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদন পায়।

উদ্বোধনী যাত্রায় মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কোম্পানি ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক, এমআরটি-৬-এর প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে ১৮ বছর পর সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের শিক্ষক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মেট্রোরেল যুগে বাংলাদেশ ও বাঙালির স্বপ্ন পূরণ

আপডেট সময় : ০৪:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

অনলাইন ডেস্ক: বাঙালির আরও এক স্বপ্ন পূরণ হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে মেট্রো যুগে পা রাখলো সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা একটা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজ পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন বহু কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেলের।

মেট্রোরেলের ফিতা কেটে উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী, শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যরা।

যানজটের ইতি টানতে ঢাকার বুকে অত্যাধুনিক মেট্রোরেল নির্মাণের স্বপ্নের বীজ বপন হয় সেই ২০০৫ সালে। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী মেট্রোরেলের ট্রেনটি ১৭ মিনিটে উত্তরা নর্থ (দিয়াবাড়ী) স্টেশন থেকে আগারগাঁও পৌঁছানোর মাধ্যমে। ১৭ বছরে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, বাধাহীন উড়াল রেলপথে শত কিলোমিটার গতিতে ছুটছে মেট্রোরেল।

বহুল প্রতীক্ষার মেট্রোরেলের উদ্বোধনের দিনে শুধু দিয়াবাড়ী, আগারগাঁও নয়- উৎসবের আমেজ ছিল রাজধানীজুড়ে। উদ্বোধনের দিন ট্রেনে চড়া যাবে না জেনেও দুরন্ত গতির মেট্রোরেল দেখতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। আজ থেকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও অংশে ১০ মিনিট অন্তর চলবে ট্রেন। পথিমধ্যে সাতটি স্টেশনে আপাতত থামবে না। পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে চলবে ধাপে ধাপে। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সাড়ে তিন মিনিট অন্তর চলবে ট্রেন। এখন প্রতি যাত্রায় শ দুয়েক যাত্রী নিয়ে চললেও, তখন থেকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ যাত্রী চড়তে পারবেন।

দিয়াবাড়ীতে সুধী সমাবেশে বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে আসনে মেট্রোরেলের স্টেশনে। এর আগে মূল ফলক পরিদর্শন করে এর পাশে তেঁতুলগাছের চারা রোপণ করেন। তিন তলা স্টেশনের দ্বিতীয় তলা তথা কনকর্স লেভেলে উঠে দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে এক নম্বর কাউন্টার থেকে টিকিট কাটেন দুই বোন। মন্ত্রিসভার সদস্যরাও ৫০০ টাকায় স্মার্টকার্ড তথা মেট্রো পাস কেনেন।

চলন্ত সিঁড়িতে তিন তলায় তথা প্ল্যাটফর্মে আসেন সরকারপ্রধান। তাঁকে স্বাগত জানায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু লামিতা। আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি ট্রেনে ওঠেন ১টা ৪৫ মিনিটে। প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাসঙ্গী হন বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি, নারী, আগুন সন্ত্রাসে আহত ও নিহতদের স্বজনরা। তাঁরা বসেন তৃতীয় ও চতুর্থ বগিতে।

ট্রেনের দ্বিতীয় বগিতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার মাঝে বসেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। এই বগিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ নেতা এবং মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা ছিলেন।

২০১৩ সালে শাহবাগে বাসে আগুনে পুড়ে নিহত হন তরুণ নাহিদ। তাঁর মা রুনি বেগম প্রধানমন্ত্রীর সহযাত্রী হন। তিনি সমকালকে বলেন, শেখ হাসিনা আমাকে মনে রেখে মেট্রোরেলের উদ্বোধনে ডেকেছেন, এতেই আমি কৃতজ্ঞ। ছেলে দেখে যেতে পারেনি, তবে শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশের উন্নতি হোক।

১টা ৫৩ মিনিটে ট্রেনটি যাত্রা করার পর প্রধানমন্ত্রী সহযাত্রীদের বগিতে আসেন। তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ট্রেনটির অপারেটর ছিলেন মরিয়ম আফিজা। প্রধানমন্ত্রী সবুজ পতাকা উড়িয়ে প্রথম যে ট্রেনের যাত্রার সূচনা করেছিলেন, সেটির চালকের আসনে ছিলেন আসমা আক্তার। সড়ক পরিবহন সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক। তা তুলে ধরতেই উদ্বোধনের দিনে দুই ট্রেন পরিচালনা করেছেন দুই নারী অপারেটর।

প্রধানমন্ত্রীর ট্রেনের যাত্রী হওয়া মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপি, রাজনীতিক, বিশিষ্টজনরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। চলন্ত ট্রেনে বসে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, সড়কে যতই যানজট হোক, মাথার ওপর দিয়ে দ্রুত চলে যাবে মেট্রোরেল। ইউরোপ, জাপানের মতোই উন্নত ঢাকার মেট্রোরেল। শেখ হাসিনার অনবদ্য নেতৃত্বেই তা সম্ভব হয়েছে।

যানজটের শহরে অসম্ভবকে সম্ভব করে ১৭ মিনিটে দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পৌঁছতে মেট্রোরেলকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা (এসটিপি) করা হয়। তাতে যানজট নিরসনে ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল ও তিনটি বিআরটি নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফেরার পর এসটিপির সমীক্ষায় দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন (এমআরটি-৬) নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রকল্প সমীক্ষা শেষে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদন পায়।

উদ্বোধনী যাত্রায় মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কোম্পানি ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক, এমআরটি-৬-এর প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।