সংবাদ শিরোনাম ::
সিদ্ধিরগঞ্জে হত-দরিদ্রদের মাঝে যাকাতের নগদ অর্থ বিতরণ নাসিক ৩নং ওয়ার্ডে নতুন নেতৃত্বের ডাক : কাউন্সিলর পদে আলোচনায় এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় এগিয়ে আসতে হবে : এমপি মান্নান বাবার জন্য ভালোবাসা ও দোয়া: সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রানার পিতার বিংশতম মৃত্যুবার্ষিকী আড়াইহাজারে সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Vibra con los casinos que marcan tendencia en entretenimiento আড়াইহাজার উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের মতবিনিময় বিএনপি নেতা মামুনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ মাদকের আখড়ায় পরিণত সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা সাংবাদিক কাজী মোদাচ্ছের হোসেন সুলতান এর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাত মাসে প্রসব মারা গেছে সেই নবজাতক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২
  • ২৩২ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে প্রো-অ্যাকটিভ হসপিটালে সাত মাসে প্রসব করানো সেই নবজাতক মারা গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হসপিটালের এনআইসিওতে বাচ্চাটির মৃত্যু হয়। নির্দিষ্ঠ সময়ের আগেই ডাক্তার নূরজাহান বেগম গত বুধবার রাতে গৃহবধূ সাদিয়ার হাত পা বেঁধে জোরাজোরি করে সন্তান প্রসব করায় বলে করেন নবজাতকের পিতা মাহাবুবুর হাসান।

মাহাবুবুর হাসানের অভিযোগ, পেটে সামন্য ব্যাথা অনুভব করায় গত বুধবার রাতে সাত মাসের অন্তঃসত্তা সাদিয়াকে প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে নেই। তখন হসপিটালের প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ নূরজাহান বেগমের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষা-রিরিক্ষা ছাড়াই সন্তান প্রসবের জন্য রাত ১০ টায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় আমার স্ত্রী কান্না কাটি করতে থাকলে তার হাত ও পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে ৫৫ মিনিট পর থিয়েটার থেকে বের হয়ে ডাক্তার নূরজাহান বেগম আমাকে বলেন বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে এনআইসিও’তে ভর্তী করতে হবে। এনআইসিওতে নিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চার দেহের বিভিন্ন অংশে জখমের দাগ দেখে জিজ্ঞাসা করলে ডাক্তার রেগে যান। বিষয়টি হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারাও আমাকে ধমক দিয়ে অসদাচরণ করেন। জোরাজোরি করে বাচ্চা প্রসব করানোর কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে মাহবুবুর হাসানের অভিযোগ।

ডাক্তার নূরজাহান বেগম বলেন, রোগী সাত মাসের অন্তঃসত্তা ছিলেন। তাকে হসপিটালে আনার পর দেখি বাচ্চার মাথা নিচে চলে এসেছে। তাই দ্রুত লেবার রুমে নিয়ে নরমাল ডেলিভারি করাই। প্রসবের পর বাচ্চা ঠিকমত অক্সিজেন পাচ্ছিলোনা। তাই তাকে এনআইসিওতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন হাসপিটাল কর্তৃপক্ষ। নিহত নবজাতকের ছবি উঠাতে দেওয়া হয়নি। তবে নিহতের পিতার সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হসপিটালের মালিক পক্ষের একজন জানান।

অভিযোগ রয়েছে, প্রো-অ্যাকটিভ হসপিটাল এন্ড কলেজটি চালু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক ডক্তারের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এসব মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুরও চালিয়েছে। হসপিটালটির অপচিকিৎসা বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধমের সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তাছাড়া কারণ ছাড়াই বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা দেখিয়ে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-রিরিক্ষা করানোর অভিযোগ রয়েছে হসপিটালটির বিরুদ্ধে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সিদ্ধিরগঞ্জে হত-দরিদ্রদের মাঝে যাকাতের নগদ অর্থ বিতরণ

সাত মাসে প্রসব মারা গেছে সেই নবজাতক

আপডেট সময় : ১০:২২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে প্রো-অ্যাকটিভ হসপিটালে সাত মাসে প্রসব করানো সেই নবজাতক মারা গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হসপিটালের এনআইসিওতে বাচ্চাটির মৃত্যু হয়। নির্দিষ্ঠ সময়ের আগেই ডাক্তার নূরজাহান বেগম গত বুধবার রাতে গৃহবধূ সাদিয়ার হাত পা বেঁধে জোরাজোরি করে সন্তান প্রসব করায় বলে করেন নবজাতকের পিতা মাহাবুবুর হাসান।

মাহাবুবুর হাসানের অভিযোগ, পেটে সামন্য ব্যাথা অনুভব করায় গত বুধবার রাতে সাত মাসের অন্তঃসত্তা সাদিয়াকে প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে নেই। তখন হসপিটালের প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ নূরজাহান বেগমের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষা-রিরিক্ষা ছাড়াই সন্তান প্রসবের জন্য রাত ১০ টায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় আমার স্ত্রী কান্না কাটি করতে থাকলে তার হাত ও পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে ৫৫ মিনিট পর থিয়েটার থেকে বের হয়ে ডাক্তার নূরজাহান বেগম আমাকে বলেন বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে এনআইসিও’তে ভর্তী করতে হবে। এনআইসিওতে নিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চার দেহের বিভিন্ন অংশে জখমের দাগ দেখে জিজ্ঞাসা করলে ডাক্তার রেগে যান। বিষয়টি হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারাও আমাকে ধমক দিয়ে অসদাচরণ করেন। জোরাজোরি করে বাচ্চা প্রসব করানোর কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে মাহবুবুর হাসানের অভিযোগ।

ডাক্তার নূরজাহান বেগম বলেন, রোগী সাত মাসের অন্তঃসত্তা ছিলেন। তাকে হসপিটালে আনার পর দেখি বাচ্চার মাথা নিচে চলে এসেছে। তাই দ্রুত লেবার রুমে নিয়ে নরমাল ডেলিভারি করাই। প্রসবের পর বাচ্চা ঠিকমত অক্সিজেন পাচ্ছিলোনা। তাই তাকে এনআইসিওতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন হাসপিটাল কর্তৃপক্ষ। নিহত নবজাতকের ছবি উঠাতে দেওয়া হয়নি। তবে নিহতের পিতার সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হসপিটালের মালিক পক্ষের একজন জানান।

অভিযোগ রয়েছে, প্রো-অ্যাকটিভ হসপিটাল এন্ড কলেজটি চালু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক ডক্তারের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এসব মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুরও চালিয়েছে। হসপিটালটির অপচিকিৎসা বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধমের সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তাছাড়া কারণ ছাড়াই বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা দেখিয়ে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-রিরিক্ষা করানোর অভিযোগ রয়েছে হসপিটালটির বিরুদ্ধে।