নারায়ণগঞ্জ ০২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসা বাণিজ্যে ব্যস্ত ডাক্তার মুজিবুর

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সরকারি নিয়ম-নীতি অমান্য করে একজন ডাক্তার দায়িত্ব পালন করছেন তিন প্রতিষ্ঠানে। তার অনুপস্থিতিতে কর্মস্থল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। বহুদিন যাবৎ তিনি মনগড়া কার্যক্রম চালিয়ে রোগীদের গলা কাটলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডে নিজের হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মুজিবুর রহমান। তিনি শিশু কিশোর ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আইসিইউ ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি স্বায়ত্তশাসিত হলেও সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ তিনি নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। তিনি যাত্রাবাড়ীতে ডেল্টা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মোগড়াপাড়ায় সোনারগাঁ কমপে¬ক্সের ইশা খাঁ হসপিটালেও রোগী দেখেন। নিজের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের চেয়ারম্যান তিনি। কর্মস্থলে না থেকে রোগী দেখেন নিজের প্রতিষ্ঠানে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাক্তার মুজিবুর রহমান তার স্ত্রী মাহবুবা সুলতানা আসমাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক করে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল খুলেছেন। চেয়ারম্যান তিনি নিজেই। হাসপাতালটি এখনো পরিপূর্ণভাবে নির্মিত না হলেও রোগীদের ভীরে মুখরিত হয়ে উঠেছে। মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটসহ অন্য দুইটি হাসপাতালে আসা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের হাসপাতালে পাঠিয়ে গলাকাটা ফি আদায় করছেন তিনি। রোগী ভাগানোর দালালি করছেন মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর শিশু বিভাগের ওয়ার্ডবয়, আয়া, বুয়ারা। তারা রোগী ও স্বজনদের পরামর্শ দিয়ে সাইনবোর্ডে মুজিবুর রহমানের নিজের হাসপাতালে পাঠাচ্ছে কমিশনের লোভে।
সরেজমিনে মাতুয়াইল হাসপাতালে গিয়ে রোগী ভাগানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। ফতুল্লার রঘুনাথপুর থেকে আসা নাছিমা আক্তার জানান, নয় মাসের বাচ্চাকে দেখাতে তিনদিন এসেও ডা. মুজিবুর রহমানকে পাইনি। পরে সাইনবোর্ড গিয়ে তার নিজের হাসপাতালে রোগীদের উপচেপড়া ভীর দেখা গেছে। বেশিরভাগ রোগীই মাতুয়াইল হাসপাতাল থেকে আসা। অন্যরা ডেল্টা হেলথ কেয়ারের। কদমতলী থানার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার গৃহবধূ তাসলিমাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ডা. মুজিবুর রহমানকে দেখাতে মাতুয়াইল গিয়েছিলাম ছয় মাসের বাচ্চাকে নিয়ে, সেখান থেকে পাঠিয়ে দেন সাইনবোর্ডে নবজাতক হাসপাতালে। ডেমরার ডগাই থেকে স্ত্রীকে নিয়ে আসা আব্দুল বাতেন বলেন, হাসপাতালটি ঠিকমত চালু হয়নি। তবু এনআইসিও বিল দৈনিক পাঁচ হাজার টাকা, ডাক্তারের ভিজিট দুই হাজার টাকা, ওয়ার্ডের বিল এক হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন হাসপাতালটি ৪০০ বেডে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে। চেয়ারম্যান ডা. মুজিবুর রহমান স্যার প্রতিদিন সকাল- বিকেল নিয়মিত রোগী দেখেন।
এবিষয়ে ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সরকারি নয়। এটি স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল। এখানে দায়িত্ব পালন করে অন্য জায়গায় কাজ করা নিয়ম-নীতি অমান্য হয়না। মিটিং ও জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় তাই নিয়মিত রোগী দেখা সম্ভব হয়না।
মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এম এ মান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুদান ও নিয়মনীতির মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এখানের ডাক্তার অন্য কোন হাসপাতালের দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারেন না। ডাক্তার মুজিবুর রহমানের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

চিকিৎসা বাণিজ্যে ব্যস্ত ডাক্তার মুজিবুর

আপডেট সময় : ০৯:০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সরকারি নিয়ম-নীতি অমান্য করে একজন ডাক্তার দায়িত্ব পালন করছেন তিন প্রতিষ্ঠানে। তার অনুপস্থিতিতে কর্মস্থল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। বহুদিন যাবৎ তিনি মনগড়া কার্যক্রম চালিয়ে রোগীদের গলা কাটলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডে নিজের হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মুজিবুর রহমান। তিনি শিশু কিশোর ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আইসিইউ ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি স্বায়ত্তশাসিত হলেও সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ তিনি নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। তিনি যাত্রাবাড়ীতে ডেল্টা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মোগড়াপাড়ায় সোনারগাঁ কমপে¬ক্সের ইশা খাঁ হসপিটালেও রোগী দেখেন। নিজের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের চেয়ারম্যান তিনি। কর্মস্থলে না থেকে রোগী দেখেন নিজের প্রতিষ্ঠানে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাক্তার মুজিবুর রহমান তার স্ত্রী মাহবুবা সুলতানা আসমাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক করে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল খুলেছেন। চেয়ারম্যান তিনি নিজেই। হাসপাতালটি এখনো পরিপূর্ণভাবে নির্মিত না হলেও রোগীদের ভীরে মুখরিত হয়ে উঠেছে। মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটসহ অন্য দুইটি হাসপাতালে আসা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের হাসপাতালে পাঠিয়ে গলাকাটা ফি আদায় করছেন তিনি। রোগী ভাগানোর দালালি করছেন মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর শিশু বিভাগের ওয়ার্ডবয়, আয়া, বুয়ারা। তারা রোগী ও স্বজনদের পরামর্শ দিয়ে সাইনবোর্ডে মুজিবুর রহমানের নিজের হাসপাতালে পাঠাচ্ছে কমিশনের লোভে।
সরেজমিনে মাতুয়াইল হাসপাতালে গিয়ে রোগী ভাগানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। ফতুল্লার রঘুনাথপুর থেকে আসা নাছিমা আক্তার জানান, নয় মাসের বাচ্চাকে দেখাতে তিনদিন এসেও ডা. মুজিবুর রহমানকে পাইনি। পরে সাইনবোর্ড গিয়ে তার নিজের হাসপাতালে রোগীদের উপচেপড়া ভীর দেখা গেছে। বেশিরভাগ রোগীই মাতুয়াইল হাসপাতাল থেকে আসা। অন্যরা ডেল্টা হেলথ কেয়ারের। কদমতলী থানার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার গৃহবধূ তাসলিমাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ডা. মুজিবুর রহমানকে দেখাতে মাতুয়াইল গিয়েছিলাম ছয় মাসের বাচ্চাকে নিয়ে, সেখান থেকে পাঠিয়ে দেন সাইনবোর্ডে নবজাতক হাসপাতালে। ডেমরার ডগাই থেকে স্ত্রীকে নিয়ে আসা আব্দুল বাতেন বলেন, হাসপাতালটি ঠিকমত চালু হয়নি। তবু এনআইসিও বিল দৈনিক পাঁচ হাজার টাকা, ডাক্তারের ভিজিট দুই হাজার টাকা, ওয়ার্ডের বিল এক হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন হাসপাতালটি ৪০০ বেডে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে। চেয়ারম্যান ডা. মুজিবুর রহমান স্যার প্রতিদিন সকাল- বিকেল নিয়মিত রোগী দেখেন।
এবিষয়ে ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সরকারি নয়। এটি স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল। এখানে দায়িত্ব পালন করে অন্য জায়গায় কাজ করা নিয়ম-নীতি অমান্য হয়না। মিটিং ও জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় তাই নিয়মিত রোগী দেখা সম্ভব হয়না।
মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এম এ মান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুদান ও নিয়মনীতির মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এখানের ডাক্তার অন্য কোন হাসপাতালের দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারেন না। ডাক্তার মুজিবুর রহমানের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।