নারায়ণগঞ্জ ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে মধ্যরাতে বিএনপি নেত্রীর বাসায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে গনধোলাই

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল ভূইয়া পাড়া এলাকায় (নাসিক ৮নং ওয়ার্ডে) অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে আটক করে গনধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী।
গত শুক্রবার দিবাগত মধ্য রাতে গোদনাইল ভুইয়া পাড়া রেল লাইন এলাকায় বিএনপি’র মহিলাদলের নেত্রী মিনু আক্তারের নিজ বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। গনধোলাইয়ের শিকার স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হলেন কাজী ওয়াসিম। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ন্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মহসিনের ছোট ভাই। এদিকে একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন অপকর্মের কারণে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কার্যক্রম থেকে কাজী ওয়াসিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাজী ওয়াসিম ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলাদলের সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মিনু আক্তার দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ সম্পর্কের সূত্রে প্রায় রাতেই মিনুর বাড়িতে যাতায়াত ছিলো ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার।
পূর্বের মতো গত শুক্রবার রাতে মিনুর বাড়িতে যায় কাজী ওয়াসিম। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী বাড়ি ঘিরে রাখে। এসময় অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তাদের আটক করে গনধোলাই দেয় এলাকাবাসী।
এদিকে গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে হিয়ে এ ঘটনার তথ্যচিত্র সংগ্রহ করতে গেলে কাজী ওয়াসিম ও তার লোকজন গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে জুম্মন নামে এক ফটো সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ভুইয়া নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষানিক সংরক্ষিত কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনাকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি পুলিশকে জানানোর জন্য বলে এবং এ ঘটনায় সামাজিক বিচার হবে। বিচারে যা হবে সেটা মেনে নিবে।
পরবর্তীতে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মহসিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার ভাই কাজী ওয়াসিমকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এবং বলে আমার ভাই অপরাধ করলে তার উপযুক্ত বিচার হবে।
ঘটনার পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই হুমায়ন গিয়ে এর সত্যতা পেয়ে উভয় পক্ষকে বলে আসে আপনাদের কোন অভিযোগ থাকলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারেন।
ঘটনার পরের দিন গতকাল শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলাদলের সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মিনু আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১১’জনকে বিবাদী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
একই সময়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাজী ওয়াসিম বাদী হয়ে থানায় একই ব্যক্তিদের নামে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলাদলের সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মিনু আক্তার বলেন, আমি টিসিবির পণ্যর জন্য কাজী মহসিনকে ফোন দিলে তিনি তার ভাইকে আমার কাছে পাঠায়, পরে এলাকার কিছু অসামাজিক ব্যক্তিরা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।
তবে এ বিষয়ে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মহসিন বলেন, আমার ছোট ভাই মানিক মামার বাড়িতে গিয়ে ছিল। বৃষ্টির কারনে তার বাড়িতে আটকে যায়।
আমি পরে জানতে পারি স্থানীয় কিছু লোক আমার ভাই ওয়াসিমকে আটক করে রেখেছে। আমার সাথে রাজনৈতিক দ্বন্দের জের ধরেই আমার ভাইকে হেনস্থা করার পরিকল্পনা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
ঘটনাস্থলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই হুমায়ন এ বিষয়ে জানান, মিনু আক্তার ও ওয়াসিম থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।#

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জে মধ্যরাতে বিএনপি নেত্রীর বাসায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে গনধোলাই

আপডেট সময় : ১১:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল ভূইয়া পাড়া এলাকায় (নাসিক ৮নং ওয়ার্ডে) অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে আটক করে গনধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী।
গত শুক্রবার দিবাগত মধ্য রাতে গোদনাইল ভুইয়া পাড়া রেল লাইন এলাকায় বিএনপি’র মহিলাদলের নেত্রী মিনু আক্তারের নিজ বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। গনধোলাইয়ের শিকার স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হলেন কাজী ওয়াসিম। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ন্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মহসিনের ছোট ভাই। এদিকে একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন অপকর্মের কারণে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কার্যক্রম থেকে কাজী ওয়াসিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাজী ওয়াসিম ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলাদলের সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মিনু আক্তার দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ সম্পর্কের সূত্রে প্রায় রাতেই মিনুর বাড়িতে যাতায়াত ছিলো ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার।
পূর্বের মতো গত শুক্রবার রাতে মিনুর বাড়িতে যায় কাজী ওয়াসিম। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী বাড়ি ঘিরে রাখে। এসময় অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তাদের আটক করে গনধোলাই দেয় এলাকাবাসী।
এদিকে গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে হিয়ে এ ঘটনার তথ্যচিত্র সংগ্রহ করতে গেলে কাজী ওয়াসিম ও তার লোকজন গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে জুম্মন নামে এক ফটো সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ভুইয়া নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষানিক সংরক্ষিত কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনাকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি পুলিশকে জানানোর জন্য বলে এবং এ ঘটনায় সামাজিক বিচার হবে। বিচারে যা হবে সেটা মেনে নিবে।
পরবর্তীতে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মহসিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার ভাই কাজী ওয়াসিমকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এবং বলে আমার ভাই অপরাধ করলে তার উপযুক্ত বিচার হবে।
ঘটনার পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই হুমায়ন গিয়ে এর সত্যতা পেয়ে উভয় পক্ষকে বলে আসে আপনাদের কোন অভিযোগ থাকলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারেন।
ঘটনার পরের দিন গতকাল শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলাদলের সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মিনু আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১১’জনকে বিবাদী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
একই সময়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাজী ওয়াসিম বাদী হয়ে থানায় একই ব্যক্তিদের নামে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলাদলের সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মিনু আক্তার বলেন, আমি টিসিবির পণ্যর জন্য কাজী মহসিনকে ফোন দিলে তিনি তার ভাইকে আমার কাছে পাঠায়, পরে এলাকার কিছু অসামাজিক ব্যক্তিরা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।
তবে এ বিষয়ে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মহসিন বলেন, আমার ছোট ভাই মানিক মামার বাড়িতে গিয়ে ছিল। বৃষ্টির কারনে তার বাড়িতে আটকে যায়।
আমি পরে জানতে পারি স্থানীয় কিছু লোক আমার ভাই ওয়াসিমকে আটক করে রেখেছে। আমার সাথে রাজনৈতিক দ্বন্দের জের ধরেই আমার ভাইকে হেনস্থা করার পরিকল্পনা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
ঘটনাস্থলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই হুমায়ন এ বিষয়ে জানান, মিনু আক্তার ও ওয়াসিম থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।#