নারায়ণগঞ্জ ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর মানববন্ধন কাশিপুর কল্যাণী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ খাল পুনঃখনন শুরু, তৎপর সদর উপজেলা প্রশাসন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি: ফতুল্লার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতা রোধে নারায়ণগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিসি মো:রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে নির্মাণ সামগ্রী লুটের অভিযোগ যুবদল নেতার ২০ হাজার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ঈদুল আজহায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী আহত সাংবাদিককে দেখতে আর্থিক সহায়তা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: নারায়ণগঞ্জে ৩ পরিবহনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ: মোতায়েন ১১৪ আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক

সিদ্ধিরগঞ্জে কাস্টমস কর্মকর্তাদের উৎকোচ বানিজ্য

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২২
  • ৮৫৭ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জ কাস্টমস অফিস অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের উৎকোচ দিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বিভিন্ন কারখানা মালিক ও কোম্পানির ডিলারশিপরা। উৎকোচ দিলে কমে যাচ্ছে রাজস্বের হার।এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। উৎকোচ বাণিজ্য করে কাস্টমস কর্মকর্তারা হচ্ছেন টাকার কুমির।
জানা গেছে, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সিদ্ধিরগঞ্জ বিভাগের (কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা পূর্ব, কোট ০০৩০) চারটি সার্কেলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের উৎকোচ দিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন বিভিন্ন কারখানা মালিক ও কোম্পানির ডিলারশিপরা। কাস্টমস বিভাগের নির্ধারণ করা ভ্যাট পরিশোধ করার পরও কর্মকর্তাদের দিতে হয় উৎকোচ। অন্যতায় হয়রানীর শিকার হতে হয়। অনুমোদিত কারখানা মালিকরা কিছু ছাড় পেলেও অনুমোদনহীন কারখানা মালিকরা উৎকোচের ভার সইতে পারছেন না। প্রকারভেদে মাসে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। কাস্টমস কর্মকর্তাদের এসব অনিয়ম দুর্নীতির ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জ, হীরাঝিল, মৌচাক ও জালকুড়ি সার্কেল নিয়ে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সিদ্ধিরগঞ্জ বিভাগ। প্রতিটি সার্কেল সুপার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কারখানা মালিক ও কোম্পানির ডিলার বলেন, সঠিকভাবে ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। কারণ,ভ্যাট পরিশোধ করার পরও কাস্টমস অফিসারদের উৎকোচ দিতে হয়। অন্যতায় ভ্যাট পরিশোধ করে ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে গেলে হয়রানীর পাশাপাশি গালিগালাজ করেন। উৎকোচ দিলে ভ্যাট কমিয়ে দেন। ভ্যাট পরিশোধ করে ব্যাংক ড্রাফট জামা দিতে গেলে ২০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় একজন কারখানা মালিককে অপমান অপদস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে এ কাস্টমস অফিসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সোনালী, বুশরা, চমক, সিভিল ম্যাজিক, বসুন্ধরা, গর্জন, চ্যালেন্স, নাইট ফোর্স বোস্টার, বাসক পাতা, ভেনিস, পিয়াস, ক্রাউন ও হিরুসহ অন্তত মশার কয়েল তৈরির পঁচিশটি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় একটি ব্রান্ডের কয়েল উৎপাদনের অনুমতি নিয়ে একাধিক ব্র্যান্ডের কয়েল উৎপাদন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করছে। এাছাড়াও ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন নকল প্রসাধনী ও জুসসহ বিভিন্ন ধরনের অর্ধশতাধিক অনুমোদনহীন কারখানা মালিকরা। অবৈধ কারখানাগুলো থেকে নিয়মিত মাসোহরা পাচ্ছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানির ডিলারশিপরা। তার মধ্যে মৃধা অ্যান্ড সন্স,মূকুল ট্রেডার্স, মিলন ট্রেডার্স, করিম স্টোর,মেসার্স আমেনা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স শামিন এন্টাপ্রোইজ, মেসার্স এস.জে এন্টারপ্রাইজসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ডিলারশিপ প্রতিষ্ঠান। ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে শতাধিক ফার্নিচার ব্যবসায়ীসহ ভ্যাটযোগ্য বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
সিদ্ধিরগঞ্জ ও মৌচাক সার্কেল সুপার খোকন শিকদার, হীরাঝিল সার্কেল সুপার সঞ্জিত আচার্য ও জালকুড়ি সার্কেল সুপার মো: ইউনুচ হাওলাদার এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন।
বিভাগীয় কর্মকর্তা উপ-কমিশনার মো: রেজাউল হকের সঙ্গে কথা বলতে দুই দিন কাস্টমস অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি। তৃতীয় দিন পেলেও তিনি দেখা করার অনুমতি না দিয়ে পিয়নের মাধ্যমে খবর পাঠান, কিছু জানতে হলে তথ্য অধিকার আইনে লিখিত আবেদন করতে হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর মানববন্ধন

সিদ্ধিরগঞ্জে কাস্টমস কর্মকর্তাদের উৎকোচ বানিজ্য

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২২

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জ কাস্টমস অফিস অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের উৎকোচ দিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বিভিন্ন কারখানা মালিক ও কোম্পানির ডিলারশিপরা। উৎকোচ দিলে কমে যাচ্ছে রাজস্বের হার।এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। উৎকোচ বাণিজ্য করে কাস্টমস কর্মকর্তারা হচ্ছেন টাকার কুমির।
জানা গেছে, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সিদ্ধিরগঞ্জ বিভাগের (কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা পূর্ব, কোট ০০৩০) চারটি সার্কেলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের উৎকোচ দিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন বিভিন্ন কারখানা মালিক ও কোম্পানির ডিলারশিপরা। কাস্টমস বিভাগের নির্ধারণ করা ভ্যাট পরিশোধ করার পরও কর্মকর্তাদের দিতে হয় উৎকোচ। অন্যতায় হয়রানীর শিকার হতে হয়। অনুমোদিত কারখানা মালিকরা কিছু ছাড় পেলেও অনুমোদনহীন কারখানা মালিকরা উৎকোচের ভার সইতে পারছেন না। প্রকারভেদে মাসে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। কাস্টমস কর্মকর্তাদের এসব অনিয়ম দুর্নীতির ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জ, হীরাঝিল, মৌচাক ও জালকুড়ি সার্কেল নিয়ে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সিদ্ধিরগঞ্জ বিভাগ। প্রতিটি সার্কেল সুপার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কারখানা মালিক ও কোম্পানির ডিলার বলেন, সঠিকভাবে ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। কারণ,ভ্যাট পরিশোধ করার পরও কাস্টমস অফিসারদের উৎকোচ দিতে হয়। অন্যতায় ভ্যাট পরিশোধ করে ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে গেলে হয়রানীর পাশাপাশি গালিগালাজ করেন। উৎকোচ দিলে ভ্যাট কমিয়ে দেন। ভ্যাট পরিশোধ করে ব্যাংক ড্রাফট জামা দিতে গেলে ২০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় একজন কারখানা মালিককে অপমান অপদস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে এ কাস্টমস অফিসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সোনালী, বুশরা, চমক, সিভিল ম্যাজিক, বসুন্ধরা, গর্জন, চ্যালেন্স, নাইট ফোর্স বোস্টার, বাসক পাতা, ভেনিস, পিয়াস, ক্রাউন ও হিরুসহ অন্তত মশার কয়েল তৈরির পঁচিশটি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় একটি ব্রান্ডের কয়েল উৎপাদনের অনুমতি নিয়ে একাধিক ব্র্যান্ডের কয়েল উৎপাদন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করছে। এাছাড়াও ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন নকল প্রসাধনী ও জুসসহ বিভিন্ন ধরনের অর্ধশতাধিক অনুমোদনহীন কারখানা মালিকরা। অবৈধ কারখানাগুলো থেকে নিয়মিত মাসোহরা পাচ্ছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানির ডিলারশিপরা। তার মধ্যে মৃধা অ্যান্ড সন্স,মূকুল ট্রেডার্স, মিলন ট্রেডার্স, করিম স্টোর,মেসার্স আমেনা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স শামিন এন্টাপ্রোইজ, মেসার্স এস.জে এন্টারপ্রাইজসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ডিলারশিপ প্রতিষ্ঠান। ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে শতাধিক ফার্নিচার ব্যবসায়ীসহ ভ্যাটযোগ্য বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
সিদ্ধিরগঞ্জ ও মৌচাক সার্কেল সুপার খোকন শিকদার, হীরাঝিল সার্কেল সুপার সঞ্জিত আচার্য ও জালকুড়ি সার্কেল সুপার মো: ইউনুচ হাওলাদার এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন।
বিভাগীয় কর্মকর্তা উপ-কমিশনার মো: রেজাউল হকের সঙ্গে কথা বলতে দুই দিন কাস্টমস অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি। তৃতীয় দিন পেলেও তিনি দেখা করার অনুমতি না দিয়ে পিয়নের মাধ্যমে খবর পাঠান, কিছু জানতে হলে তথ্য অধিকার আইনে লিখিত আবেদন করতে হবে।