নারায়ণগঞ্জ ০৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আদমজী ইপিজেডে চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে সন্ত্রাসীদের মারধর, থানায় অভিযোগ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অগাস্ট ২০২২
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :  নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মো. শাহপরান (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে।গত সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় আদমজী ইপিজেডের (ইপক-৭) গার্মেন্টস এর গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তিন জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফায়েত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।অভিযুক্তরা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া মুনলাইট গার্মেন্টস এলাকার ইউসুফ আলী প্রধানের ছেলে হান্নান প্রধান (৪০), সোনা মিয়া মার্কেট এলাকার মাইগগা কাদিরের ছেলে মো. ফিরোজ (৩৮) ও আইলপাড়া এলাকার মুসলিম জাউল্লার ছেলে মিজান (৩০)।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী শাহপরাণ আদমজী ইপিজেড এর (ইপিক-৭) গার্মেন্টস এর বালু সাপ্লাই’র মেমো প্রদান করিতে গেলে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সলর মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. হান্নান প্রধান,অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো.ফিরোজ,মিজানসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এক পর্যায়ে তারা আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে একাধিক মামলার আসামি হান্নান প্রধানের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ওই ব্যবসায়ীর উপর হামলা করে। হামলার সময় অভিযুক্ত ফিরোজ ব্যবসায়ীর পকেটে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা ও দুটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ীর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত হান্নান প্রধান ও তার লোকজন তাকে প্রান নাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।এদিকে ব্যবসায়ী সেলিম মজুমদার জানান, ব্যবসায়ী শাহপরান আমার সাথে ব্যবসা করে। আমি দীর্ঘ দিন ধরে আদমজী ইপিজেডে ব্যবসা করে আসছি।

ঘটনার দিন কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ কর্মী আক্তার ওরফে পানি আক্তারসহ হান্নার প্রধানের লোকজন আমাকে (ইপিক-৭) গার্মেন্টসে প্রবেশে বাধা দেয়।এসময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি ও বেপজা কৃর্তপক্ষকে জানালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফায়েতসহ বেপজার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই সময়ে আমি আমার কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেখাই তাদের। তাছাড়া ওয়ার্ক অর্ডার বা অনুমোদন না থাকলে কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সম্ভব না। তারা ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে আমার ব্যবসায় বাধা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, মূলত ব্যবসায়িক দন্ধ থেকেই তাদের দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহতির ঘটনা ঘটেছে। শুনেছি সাপ্লাইয়ের লাইন নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে আদমজী ইপিজেডে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেখে এলাকার জনাসাধারনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, তার আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীরা আদমজী ইপিজেডের ২৬ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা করে আসছে। এতে করে বঞ্চিত আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সরকার দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা তার উপর দিন দিন ফুঁসে উঠছে। দূর্নীতির দায়ে কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে দুদকে মামলাও রয়েছে। যা দামাচাপা দিতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন কি করে আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে এসে সন্ত্রাসীরা মহড়া দেয়। এ ব্যপারে আদমজী ইপিজেডের ব্যবসায়ীরা নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদমজী ইপিজেডে চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে সন্ত্রাসীদের মারধর, থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অগাস্ট ২০২২

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :  নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মো. শাহপরান (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে।গত সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় আদমজী ইপিজেডের (ইপক-৭) গার্মেন্টস এর গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তিন জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফায়েত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।অভিযুক্তরা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া মুনলাইট গার্মেন্টস এলাকার ইউসুফ আলী প্রধানের ছেলে হান্নান প্রধান (৪০), সোনা মিয়া মার্কেট এলাকার মাইগগা কাদিরের ছেলে মো. ফিরোজ (৩৮) ও আইলপাড়া এলাকার মুসলিম জাউল্লার ছেলে মিজান (৩০)।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী শাহপরাণ আদমজী ইপিজেড এর (ইপিক-৭) গার্মেন্টস এর বালু সাপ্লাই’র মেমো প্রদান করিতে গেলে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সলর মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. হান্নান প্রধান,অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো.ফিরোজ,মিজানসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এক পর্যায়ে তারা আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে একাধিক মামলার আসামি হান্নান প্রধানের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ওই ব্যবসায়ীর উপর হামলা করে। হামলার সময় অভিযুক্ত ফিরোজ ব্যবসায়ীর পকেটে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা ও দুটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ীর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত হান্নান প্রধান ও তার লোকজন তাকে প্রান নাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।এদিকে ব্যবসায়ী সেলিম মজুমদার জানান, ব্যবসায়ী শাহপরান আমার সাথে ব্যবসা করে। আমি দীর্ঘ দিন ধরে আদমজী ইপিজেডে ব্যবসা করে আসছি।

ঘটনার দিন কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ কর্মী আক্তার ওরফে পানি আক্তারসহ হান্নার প্রধানের লোকজন আমাকে (ইপিক-৭) গার্মেন্টসে প্রবেশে বাধা দেয়।এসময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি ও বেপজা কৃর্তপক্ষকে জানালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফায়েতসহ বেপজার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই সময়ে আমি আমার কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেখাই তাদের। তাছাড়া ওয়ার্ক অর্ডার বা অনুমোদন না থাকলে কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সম্ভব না। তারা ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে আমার ব্যবসায় বাধা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, মূলত ব্যবসায়িক দন্ধ থেকেই তাদের দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহতির ঘটনা ঘটেছে। শুনেছি সাপ্লাইয়ের লাইন নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে আদমজী ইপিজেডে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেখে এলাকার জনাসাধারনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, তার আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীরা আদমজী ইপিজেডের ২৬ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা করে আসছে। এতে করে বঞ্চিত আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সরকার দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা তার উপর দিন দিন ফুঁসে উঠছে। দূর্নীতির দায়ে কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে দুদকে মামলাও রয়েছে। যা দামাচাপা দিতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন কি করে আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে এসে সন্ত্রাসীরা মহড়া দেয়। এ ব্যপারে আদমজী ইপিজেডের ব্যবসায়ীরা নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।