নারায়ণগঞ্জ ১০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাজীগঞ্জ ফেরিঘাটে র্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ যুবক গ্রেপ্তার ফতুল্লায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার কল্যাণ তহবিলের চেক বিতরণে -রাষ্ট্র ও প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে : ডিসি রায়হান, কবির নারায়ণগঞ্জে রেল সেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটা প্রকল্পেরই অংশ: রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নারায়ণগঞ্জে এইচএসি কেন্দ্র পরিদর্শন: ‘সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নের প্রত্যাশা’ ডিসির ফতুল্লায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, দুই ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির উদ্যোগ ডিসির সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যক্তিকে পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে শিক্ষা-থেরাপি সামগ্রী বিতরণ করেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন দক্ষতাই স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মূল হাতিয়ার’: ডিসি রায়হান কবির

ভর্তুকির অজুহাতে ১৩ বছরে পানির দাম বেড়েছে ১৪ বার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ২৯৪ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক : লোকসানের অজুহাতে গত ১৩ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। অথচ অডিট রিপোর্ট বলছে, আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেড়েছে। করোনাকালে গত দুই বছরে সেবা সংস্থাটির লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। আর এমডির বেতনের অংক ছুঁয়েছে সরকারি সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ কোটা। তবুও ভর্তুকির কথা বলে নতুন করে পানির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

ভর্তুকি দিয়ে অনন্তকাল কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।। গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে তাই ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান কয়েকবার ভর্তুকির কথা তুলে ধরেন। সে দায় মেটাতে বছর বছর পানির দাম যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনই যেন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সংস্থাটির পরিচালকের বেতন।

ভর্তুকির যুক্তিতে গত ১৩ বছরে ১৪ বার বেড়েছে পানির দাম। আবার নতুন করে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

লস-তো হয়নি, বরং বছর বছর লাভ বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মুনাফা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুনাফা ছিল গত বছরের মতোই। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লাভ হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছরে ১ হাজার ৩০২ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে মুনাফা ছিল ২৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মুনাফা ২৩ কোটি টাকা। সবমিলে গত ৫ বছরে ঢাকা ওয়াসার মোট আয় বেড়েছে ৫১ শতাংশ আর মুনাফা ১১৯ শতাংশ। টাকার অংকে তা প্রায় ২০০ কোটি। এরপরও কীভাবে লোকসানী প্রতিষ্ঠান হয় ঢাকা ওয়াসা। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্যাখ্যা দেন ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, একদিকে চিন্তা করলে মুনাফা। কিন্তু সরকার থেকে একটা ভর্তুকি আসে। সেই ভর্তুকি যদি বাদ দেই তাহলে কিন্তু আর মুনাফা থাকে না। ভর্তুকি সরাসরি আসে না। বিভিন্নভাবে আসে যেমন, আমাদের বিদেশি ঋণ আছে, এর সুদ পরিশোধ করি আমরা। আর এই ঋণের একটা অংশ সরকার দিয়ে দেয়। যেমন ট্যাক্স, ভ্যাট আমাদের দিতে হয় না। এই সমস্ত হিসাব করলে, এসব যদি আমাদের পরিশোধ করতে হতো তাহলে মুনাফা আমরা দেখাতে পারতাম না।

নগর পরিকল্পনাবিদ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের ফেলো ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলছেন, এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।

তিনি বলেন, পানি নিয়ে আমাদের যে মুনাফা প্রবৃদ্ধি সেটা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থা ওয়াসার থাকার কথা ছিল না। কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হলো, এ বছর যে ২০ শতাংশহারে পানির মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে তারপরও তারা বলছে, রাষ্ট্র চাইলে মূল্য আরও বাড়াতে পারে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জ ফেরিঘাটে র্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ যুবক গ্রেপ্তার

ভর্তুকির অজুহাতে ১৩ বছরে পানির দাম বেড়েছে ১৪ বার

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

অনলাইন ডেস্ক : লোকসানের অজুহাতে গত ১৩ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। অথচ অডিট রিপোর্ট বলছে, আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেড়েছে। করোনাকালে গত দুই বছরে সেবা সংস্থাটির লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। আর এমডির বেতনের অংক ছুঁয়েছে সরকারি সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ কোটা। তবুও ভর্তুকির কথা বলে নতুন করে পানির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

ভর্তুকি দিয়ে অনন্তকাল কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।। গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে তাই ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান কয়েকবার ভর্তুকির কথা তুলে ধরেন। সে দায় মেটাতে বছর বছর পানির দাম যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনই যেন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সংস্থাটির পরিচালকের বেতন।

ভর্তুকির যুক্তিতে গত ১৩ বছরে ১৪ বার বেড়েছে পানির দাম। আবার নতুন করে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

লস-তো হয়নি, বরং বছর বছর লাভ বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মুনাফা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুনাফা ছিল গত বছরের মতোই। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লাভ হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছরে ১ হাজার ৩০২ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে মুনাফা ছিল ২৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মুনাফা ২৩ কোটি টাকা। সবমিলে গত ৫ বছরে ঢাকা ওয়াসার মোট আয় বেড়েছে ৫১ শতাংশ আর মুনাফা ১১৯ শতাংশ। টাকার অংকে তা প্রায় ২০০ কোটি। এরপরও কীভাবে লোকসানী প্রতিষ্ঠান হয় ঢাকা ওয়াসা। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্যাখ্যা দেন ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, একদিকে চিন্তা করলে মুনাফা। কিন্তু সরকার থেকে একটা ভর্তুকি আসে। সেই ভর্তুকি যদি বাদ দেই তাহলে কিন্তু আর মুনাফা থাকে না। ভর্তুকি সরাসরি আসে না। বিভিন্নভাবে আসে যেমন, আমাদের বিদেশি ঋণ আছে, এর সুদ পরিশোধ করি আমরা। আর এই ঋণের একটা অংশ সরকার দিয়ে দেয়। যেমন ট্যাক্স, ভ্যাট আমাদের দিতে হয় না। এই সমস্ত হিসাব করলে, এসব যদি আমাদের পরিশোধ করতে হতো তাহলে মুনাফা আমরা দেখাতে পারতাম না।

নগর পরিকল্পনাবিদ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের ফেলো ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলছেন, এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।

তিনি বলেন, পানি নিয়ে আমাদের যে মুনাফা প্রবৃদ্ধি সেটা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থা ওয়াসার থাকার কথা ছিল না। কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হলো, এ বছর যে ২০ শতাংশহারে পানির মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে তারপরও তারা বলছে, রাষ্ট্র চাইলে মূল্য আরও বাড়াতে পারে।