নারায়ণগঞ্জ ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেপ্তার, ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার অর্থ আত্মসাত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেস ক্লাব থেকে মোসলেম উদ্দিন ও আমীর হোসেনকে বহিষ্কার আড়াইহাজারে যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার,স্ত্রী আটক রূপগঞ্জে শিক্ষিকার লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ও হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সোনারগাঁয়ে ফ্লাইওভার ব্রিজের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত চাষাঢ়ায় যানজট নিরসনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আকস্মিক পরিদর্শনে এসপি হাবিবুর রহমান তীব্র তাপদাহে পথচারী, ট্রাফিক ও শ্রমজীবীদের মাঝে ডিসি-এসপির পানি ও স্যালাইন বিতরণ আইভীর স্লোগানে গ্রেপ্তার আইনজীবীসহ তিনজন সিদ্ধিরগঞ্জে ডালিমগংদের জমি দখলের অভিযোগ শিপুর বিরুদ্ধে সোনারগাঁয়ে ৬ বোতল কেরু মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ভর্তুকির অজুহাতে ১৩ বছরে পানির দাম বেড়েছে ১৪ বার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ৩৩০ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক : লোকসানের অজুহাতে গত ১৩ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। অথচ অডিট রিপোর্ট বলছে, আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেড়েছে। করোনাকালে গত দুই বছরে সেবা সংস্থাটির লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। আর এমডির বেতনের অংক ছুঁয়েছে সরকারি সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ কোটা। তবুও ভর্তুকির কথা বলে নতুন করে পানির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

ভর্তুকি দিয়ে অনন্তকাল কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।। গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে তাই ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান কয়েকবার ভর্তুকির কথা তুলে ধরেন। সে দায় মেটাতে বছর বছর পানির দাম যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনই যেন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সংস্থাটির পরিচালকের বেতন।

ভর্তুকির যুক্তিতে গত ১৩ বছরে ১৪ বার বেড়েছে পানির দাম। আবার নতুন করে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

লস-তো হয়নি, বরং বছর বছর লাভ বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মুনাফা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুনাফা ছিল গত বছরের মতোই। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লাভ হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছরে ১ হাজার ৩০২ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে মুনাফা ছিল ২৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মুনাফা ২৩ কোটি টাকা। সবমিলে গত ৫ বছরে ঢাকা ওয়াসার মোট আয় বেড়েছে ৫১ শতাংশ আর মুনাফা ১১৯ শতাংশ। টাকার অংকে তা প্রায় ২০০ কোটি। এরপরও কীভাবে লোকসানী প্রতিষ্ঠান হয় ঢাকা ওয়াসা। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্যাখ্যা দেন ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, একদিকে চিন্তা করলে মুনাফা। কিন্তু সরকার থেকে একটা ভর্তুকি আসে। সেই ভর্তুকি যদি বাদ দেই তাহলে কিন্তু আর মুনাফা থাকে না। ভর্তুকি সরাসরি আসে না। বিভিন্নভাবে আসে যেমন, আমাদের বিদেশি ঋণ আছে, এর সুদ পরিশোধ করি আমরা। আর এই ঋণের একটা অংশ সরকার দিয়ে দেয়। যেমন ট্যাক্স, ভ্যাট আমাদের দিতে হয় না। এই সমস্ত হিসাব করলে, এসব যদি আমাদের পরিশোধ করতে হতো তাহলে মুনাফা আমরা দেখাতে পারতাম না।

নগর পরিকল্পনাবিদ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের ফেলো ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলছেন, এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।

তিনি বলেন, পানি নিয়ে আমাদের যে মুনাফা প্রবৃদ্ধি সেটা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থা ওয়াসার থাকার কথা ছিল না। কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হলো, এ বছর যে ২০ শতাংশহারে পানির মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে তারপরও তারা বলছে, রাষ্ট্র চাইলে মূল্য আরও বাড়াতে পারে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেপ্তার, ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

ভর্তুকির অজুহাতে ১৩ বছরে পানির দাম বেড়েছে ১৪ বার

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

অনলাইন ডেস্ক : লোকসানের অজুহাতে গত ১৩ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। অথচ অডিট রিপোর্ট বলছে, আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেড়েছে। করোনাকালে গত দুই বছরে সেবা সংস্থাটির লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। আর এমডির বেতনের অংক ছুঁয়েছে সরকারি সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ কোটা। তবুও ভর্তুকির কথা বলে নতুন করে পানির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

ভর্তুকি দিয়ে অনন্তকাল কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।। গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে তাই ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান কয়েকবার ভর্তুকির কথা তুলে ধরেন। সে দায় মেটাতে বছর বছর পানির দাম যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনই যেন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সংস্থাটির পরিচালকের বেতন।

ভর্তুকির যুক্তিতে গত ১৩ বছরে ১৪ বার বেড়েছে পানির দাম। আবার নতুন করে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

লস-তো হয়নি, বরং বছর বছর লাভ বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মুনাফা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুনাফা ছিল গত বছরের মতোই। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লাভ হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছরে ১ হাজার ৩০২ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে মুনাফা ছিল ২৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মুনাফা ২৩ কোটি টাকা। সবমিলে গত ৫ বছরে ঢাকা ওয়াসার মোট আয় বেড়েছে ৫১ শতাংশ আর মুনাফা ১১৯ শতাংশ। টাকার অংকে তা প্রায় ২০০ কোটি। এরপরও কীভাবে লোকসানী প্রতিষ্ঠান হয় ঢাকা ওয়াসা। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্যাখ্যা দেন ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, একদিকে চিন্তা করলে মুনাফা। কিন্তু সরকার থেকে একটা ভর্তুকি আসে। সেই ভর্তুকি যদি বাদ দেই তাহলে কিন্তু আর মুনাফা থাকে না। ভর্তুকি সরাসরি আসে না। বিভিন্নভাবে আসে যেমন, আমাদের বিদেশি ঋণ আছে, এর সুদ পরিশোধ করি আমরা। আর এই ঋণের একটা অংশ সরকার দিয়ে দেয়। যেমন ট্যাক্স, ভ্যাট আমাদের দিতে হয় না। এই সমস্ত হিসাব করলে, এসব যদি আমাদের পরিশোধ করতে হতো তাহলে মুনাফা আমরা দেখাতে পারতাম না।

নগর পরিকল্পনাবিদ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের ফেলো ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলছেন, এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।

তিনি বলেন, পানি নিয়ে আমাদের যে মুনাফা প্রবৃদ্ধি সেটা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থা ওয়াসার থাকার কথা ছিল না। কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হলো, এ বছর যে ২০ শতাংশহারে পানির মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে তারপরও তারা বলছে, রাষ্ট্র চাইলে মূল্য আরও বাড়াতে পারে।