নারায়ণগঞ্জ ০২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

“আজাদকে দেখলেই জুতা পিটা” এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন পারভেজ মল্লিক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর ২০২১
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

গত ৩১ শে (অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনা করে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পারভেজ মল্লিক এর দেয়া বক্তব্য “আজাদকে দেখলেই জুতা পিটা ” এমন বক্তব্য সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।কিন্তু হঠাত করে পারভেজ মল্লিক তার দেয়া বক্তব্য কেন প্রত্যাহার করে নিলেন তা নিয়ে বিব্রত ও শংকা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। তৃণমূলে চলছে গুঞ্জন আলোচনা ও সমালোচনা।

তবে পারভেজ মল্লিকের ইঙ্গিতবাহী বক্তব্যে কিছুটা আন্দাজ করেছেন তারা, তাদের ধারনা আজাদের ভয়ে পারভেজ মল্লিক তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।তিনি তার বক্তব্যে এক পর্যায় বলেন, ফ্যামিলির অনুরোধে ও পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে এবং তার পরিবার ও মা বাবাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন আচরণ থেকে পরিত্রান পেতে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।তবে এটি খতিয়ে দেখার দাবি জানান তৃণমূল ও রাজনৈতিক বুদ্ধামহল।

এদিকে জানাগেছে, সংবাদ সম্মেলন করে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পারভেজ মল্লিক আর রাজনীতি করবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে নোটারী করে রাজনীতি ছেড়েছেন।বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে শহরের দেওভোগে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এ নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি ৩১ অক্টোবর আড়াইহাজারে গিয়ে সম্মানিত নেতা আজাদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে নিজের অনিচ্ছায় কিছু কথা বলে ফেলেছি।তবে আমি তার নাম নেইনি। আমার পরিবার, বাবা-মা এতে ক্ষুব্দ হয়েছেন।আমি আমার বাবার অনুগত এবং পরিবারের ইচ্ছাতেই সব ধরনের রাজনীতি থেকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে অব্যাহতি নিচ্ছি।

পারভেজ মল্লিক বলেন, আজাদ ভাই ও আড়াইহাজারবাসীর কাছেও ক্ষমা চাচ্ছি।ভবিষ্যতে আমি বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কোনো দলের রাজনীতিতে আর সক্রিয় হবো না। কোন চাপে নয়, শুধু বাবা মায়ের ইচ্ছাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ অক্টোবর রবিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের যেখানেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে জুতাপেটা করবে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা যুবদলের সহ সভাপতি পারভেজ মল্লিক।

তিনি বলেছেন, ইতিহাস স্বাক্ষী দিচ্ছে। যেই দেশে মুক্তিযোদ্ধা ছিল ওই দেশে রাজাকারের বাচ্চা ছিল। যেই দেশে বিএনপি আছে ওই দেশে নজরুল ইসলাম বাবু মার্কা বিএনপি নেতাও আছে। যারা দুয়েকটা বক্তব্য দিয়ে সেন্টারের দু-চারজন নেতাকে ম্যানেজ করে বাবুকে খুশি করতে চায়। তারা কোনদিন শহীদ জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে চায় না।

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান সুমন হাওয়া ভবনের তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর খুব কাছের ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। তিনি কোন হাওয়া ভবনের ড্রাইভার ছিলেন না। আজকে যারা বড় বড় বিএনপি নেতা হতে চায় তাদের হুশিয়ার করে দিতে চাই। খবরদার বলে দিলাম তোমার মাটিতে দাঁড়িয়ে বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জে বলেছি তেমাকে যেখানে দেখা হবে জুতা দিয়ে পিটানো হবে। আজকে আড়াইহাজারের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে বলছি আন্তর্জাতিক মার্কাটাকে, ভাল হয়ে যান। রাতের আধারে ওয়েস্টিনে বসে এক কাপ কফি খাইয়ে যদি ভাবেন আপনি পাপিয়া মার্কা নেতা হবেন সম্রাট মার্কা নেতা হবেন, তাহলে আওয়ামী লীগ করেন।নাহলে আড়াইহাজার দূরে থাক। নারায়ণগঞ্জের কোন জায়গায় থাকতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক মার্কা নেতা ভাল হয়ে যান। টাকা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল আনবেন, ছাত্রদল আনবেন, যুবদল আনবেন, বাটপারি চিটারি ছেড়ে দেন। এ দল আমার আদর্শের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, এ দল স্বাধীনতার পক্ষের দল লাল সবুজের পতাকার দল। খবরদার তোমার মাস্টারির দল না।

তিনি আরো বলেন, আড়াইহাজারের এই মানুষগুলো বুঝে নাই যে আপনি ক্ষমতা থাকতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন নি। যাদের ক্ষমতা নাই, যারা ড্রাইভারি করেছে তারা কিছু লোককে ব্লাকমেইল করে। আজকে আড়াইহাজারে অপপ্রচার চালাতে চাচ্ছে। আমার বাড়িতে আসো দেখা করো তাহলে যুবদল ছাত্রদল তোমার হাতে চলে যাবে। এ ধরনের চরিত্রের নেতাদেরকে আমরা ঘৃণার সাথে আজকে স্মরণ করছি, তাদের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছি। আমি শুধু আড়াইহাজারবাসীকে একটা প্রশ্ন করবো। সুমন ভাই এতদিন লুকায় ছিল আর লুকানোর সময় নাই। সুমন ভাইকে আমরা চিনে গেছি। সুমন ভাইকে সামনে রেখে আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন আমরা করবো। সুমন ভাই শুধু আড়াইহাজার নিয়ে বসে থাকলে হবে না। আমি ব্যাক্তিগতভাবে জানি। আপনি যেখান থেকে এসে আজকে এই চেয়ারে বসেছেন। ওইখান থেকে আপনাকে ভালবাসে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

“আজাদকে দেখলেই জুতা পিটা” এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন পারভেজ মল্লিক

আপডেট সময় : ০২:২১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর ২০২১

গত ৩১ শে (অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনা করে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পারভেজ মল্লিক এর দেয়া বক্তব্য “আজাদকে দেখলেই জুতা পিটা ” এমন বক্তব্য সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।কিন্তু হঠাত করে পারভেজ মল্লিক তার দেয়া বক্তব্য কেন প্রত্যাহার করে নিলেন তা নিয়ে বিব্রত ও শংকা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। তৃণমূলে চলছে গুঞ্জন আলোচনা ও সমালোচনা।

তবে পারভেজ মল্লিকের ইঙ্গিতবাহী বক্তব্যে কিছুটা আন্দাজ করেছেন তারা, তাদের ধারনা আজাদের ভয়ে পারভেজ মল্লিক তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।তিনি তার বক্তব্যে এক পর্যায় বলেন, ফ্যামিলির অনুরোধে ও পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে এবং তার পরিবার ও মা বাবাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন আচরণ থেকে পরিত্রান পেতে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।তবে এটি খতিয়ে দেখার দাবি জানান তৃণমূল ও রাজনৈতিক বুদ্ধামহল।

এদিকে জানাগেছে, সংবাদ সম্মেলন করে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পারভেজ মল্লিক আর রাজনীতি করবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে নোটারী করে রাজনীতি ছেড়েছেন।বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে শহরের দেওভোগে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এ নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি ৩১ অক্টোবর আড়াইহাজারে গিয়ে সম্মানিত নেতা আজাদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে নিজের অনিচ্ছায় কিছু কথা বলে ফেলেছি।তবে আমি তার নাম নেইনি। আমার পরিবার, বাবা-মা এতে ক্ষুব্দ হয়েছেন।আমি আমার বাবার অনুগত এবং পরিবারের ইচ্ছাতেই সব ধরনের রাজনীতি থেকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে অব্যাহতি নিচ্ছি।

পারভেজ মল্লিক বলেন, আজাদ ভাই ও আড়াইহাজারবাসীর কাছেও ক্ষমা চাচ্ছি।ভবিষ্যতে আমি বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কোনো দলের রাজনীতিতে আর সক্রিয় হবো না। কোন চাপে নয়, শুধু বাবা মায়ের ইচ্ছাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ অক্টোবর রবিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের যেখানেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে জুতাপেটা করবে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা যুবদলের সহ সভাপতি পারভেজ মল্লিক।

তিনি বলেছেন, ইতিহাস স্বাক্ষী দিচ্ছে। যেই দেশে মুক্তিযোদ্ধা ছিল ওই দেশে রাজাকারের বাচ্চা ছিল। যেই দেশে বিএনপি আছে ওই দেশে নজরুল ইসলাম বাবু মার্কা বিএনপি নেতাও আছে। যারা দুয়েকটা বক্তব্য দিয়ে সেন্টারের দু-চারজন নেতাকে ম্যানেজ করে বাবুকে খুশি করতে চায়। তারা কোনদিন শহীদ জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে চায় না।

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান সুমন হাওয়া ভবনের তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর খুব কাছের ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। তিনি কোন হাওয়া ভবনের ড্রাইভার ছিলেন না। আজকে যারা বড় বড় বিএনপি নেতা হতে চায় তাদের হুশিয়ার করে দিতে চাই। খবরদার বলে দিলাম তোমার মাটিতে দাঁড়িয়ে বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জে বলেছি তেমাকে যেখানে দেখা হবে জুতা দিয়ে পিটানো হবে। আজকে আড়াইহাজারের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে বলছি আন্তর্জাতিক মার্কাটাকে, ভাল হয়ে যান। রাতের আধারে ওয়েস্টিনে বসে এক কাপ কফি খাইয়ে যদি ভাবেন আপনি পাপিয়া মার্কা নেতা হবেন সম্রাট মার্কা নেতা হবেন, তাহলে আওয়ামী লীগ করেন।নাহলে আড়াইহাজার দূরে থাক। নারায়ণগঞ্জের কোন জায়গায় থাকতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক মার্কা নেতা ভাল হয়ে যান। টাকা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল আনবেন, ছাত্রদল আনবেন, যুবদল আনবেন, বাটপারি চিটারি ছেড়ে দেন। এ দল আমার আদর্শের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, এ দল স্বাধীনতার পক্ষের দল লাল সবুজের পতাকার দল। খবরদার তোমার মাস্টারির দল না।

তিনি আরো বলেন, আড়াইহাজারের এই মানুষগুলো বুঝে নাই যে আপনি ক্ষমতা থাকতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন নি। যাদের ক্ষমতা নাই, যারা ড্রাইভারি করেছে তারা কিছু লোককে ব্লাকমেইল করে। আজকে আড়াইহাজারে অপপ্রচার চালাতে চাচ্ছে। আমার বাড়িতে আসো দেখা করো তাহলে যুবদল ছাত্রদল তোমার হাতে চলে যাবে। এ ধরনের চরিত্রের নেতাদেরকে আমরা ঘৃণার সাথে আজকে স্মরণ করছি, তাদের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছি। আমি শুধু আড়াইহাজারবাসীকে একটা প্রশ্ন করবো। সুমন ভাই এতদিন লুকায় ছিল আর লুকানোর সময় নাই। সুমন ভাইকে আমরা চিনে গেছি। সুমন ভাইকে সামনে রেখে আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন আমরা করবো। সুমন ভাই শুধু আড়াইহাজার নিয়ে বসে থাকলে হবে না। আমি ব্যাক্তিগতভাবে জানি। আপনি যেখান থেকে এসে আজকে এই চেয়ারে বসেছেন। ওইখান থেকে আপনাকে ভালবাসে।