নারায়ণগঞ্জ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিএনজির অবৈধ রোড পারমিট দিয়ে কোটিপতি মিঠু চৌধুরী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুন ২০২১
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :সিএনজিতে ষ্টিকার লাগিয়ে রোড পারমিট দিয়ে চাঁদাবাজি করে বদলে গেছে সিদ্ধিরগঞ্জের মিঠু চৌধুরীর জীবন চিত্র। কয়েক বছর আগেও যার নুন আনতে পানতা পুরাত সেই মিঠু এখন ৪০ টি সিএনজির মালিক। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

জানা গেছে, মিঠু চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায়। কয়েক বছর আগে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় কাসসাফ মার্কেটে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে গেঞ্জির ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসায় সুবিধা করতে না পারে সাইলো গেইট এলাকার কয়েকজন সিএনজি মালিককে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফোরস্টোক সিএনজি মালিক সমিতি গঠন করে। পরে জেলা ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন টিআই ও সার্জেন্টদের ম্যানেজ করে অবাদে চলাচলের জন্য সমিতির নামে একটি ষ্টিকার বানিয়ে বিভিন্ন সিএনজিতে লাগিয়ে মাসে তিনশ টাকা করে চাঁদা আদায় শুরু করে। কোন সিএনজি মালিক চাঁদা না দিলে মিঠুর কথা মতে ট্রাফিক সার্জেন্টরা সেই সিএনজি আটক করে ডাম্পিংকে পাঠিয়ে দেয়। পরে টাকা দিয়ে সিএনজি ছাড়িয়ে আনলেও বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকে। এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সিএনজি মালিকরা। ফলে বাধ্য হয়ে মিঠুকে চাঁদা দিয়ে মহাসড়কসহ বিনা বাধায় অবাদে চলাচল করার সুযোগ পায় সিএনজি। আদায়কৃত মাসিক চাঁদার একটি অংশ ট্রাফিকের আসাধু কর্মকর্তাদের দিয়ে বাকি অংশ মিঠুসহ সমিতির লোকজন ভাগ বন্টন করে নেয়। এভাবে বদলাতে থাকে মিঠুর জীবন চিত্র। বর্তমানে ফোরস্টোক সমিতির অধিনে তিনশতাধিক সিএনজি চলছে সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ শহরে। সিএনজিতে লাগানো ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, নারায়ণগঞ্জ ফোরস্টোক সিএনজি মালিক সমিতি ষ্টিকার লাগানো থাকলে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে মিঠু একে একে ৪৮ টি সিএনজি কিনে। বর্তমানে তার ৪০ টি সিএনজি রয়েছে। তার মধ্যে ৫ টি প্রাইভেট সিএনজি। মিঠুর নিজের ১৯ টি সিএনজি চলছে ঢাকায়, ১৬ টি নারায়ণগঞ্জ শহরে আর সাদা রঙের ৫ টি প্রাইভেট সিএনজি চলছে সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়। নিজের ব্যক্তিমালিকানা বাদেও সমিতির ষ্টিকারে চলছে অন্তত তিনশ সিএনজি। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল ও শিমরাইল মোড়ে সড়কের উপর স্ট্যান্ড বানিয়ে বিনা বাধায় চলছে এসব সিএনজি গুলো। সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকায় গড়ে তুলা হয়েছে শতাধিক সিএনজি রাখার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি গ্যারেজ। এই গ্যারেজের ভিতরেই তার অফিস। অভিযোগ রয়েছে এই গ্যারেজে মাদক সেবনের আসরও চলে।

এবিষয়ে জানতে মিঠু চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলে রিং হলেও মোবাইল রিসিভ করেননি। ফলে তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জেলা ট্রাফিক বিভাগের টিআই বিশ্বজিং এর সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে কিছু সিএনজি চলতে দেই। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে কথাটি সঠিক নয়। মিঠু নামে কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে ছিনিনা। তবে শোনেছি সিএনজি থেকে সে চাঁদা নেয়। এখন থেকে সিএনজি ও মিঠুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনজির অবৈধ রোড পারমিট দিয়ে কোটিপতি মিঠু চৌধুরী

আপডেট সময় : ০১:৪১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুন ২০২১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :সিএনজিতে ষ্টিকার লাগিয়ে রোড পারমিট দিয়ে চাঁদাবাজি করে বদলে গেছে সিদ্ধিরগঞ্জের মিঠু চৌধুরীর জীবন চিত্র। কয়েক বছর আগেও যার নুন আনতে পানতা পুরাত সেই মিঠু এখন ৪০ টি সিএনজির মালিক। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

জানা গেছে, মিঠু চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায়। কয়েক বছর আগে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় কাসসাফ মার্কেটে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে গেঞ্জির ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসায় সুবিধা করতে না পারে সাইলো গেইট এলাকার কয়েকজন সিএনজি মালিককে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফোরস্টোক সিএনজি মালিক সমিতি গঠন করে। পরে জেলা ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন টিআই ও সার্জেন্টদের ম্যানেজ করে অবাদে চলাচলের জন্য সমিতির নামে একটি ষ্টিকার বানিয়ে বিভিন্ন সিএনজিতে লাগিয়ে মাসে তিনশ টাকা করে চাঁদা আদায় শুরু করে। কোন সিএনজি মালিক চাঁদা না দিলে মিঠুর কথা মতে ট্রাফিক সার্জেন্টরা সেই সিএনজি আটক করে ডাম্পিংকে পাঠিয়ে দেয়। পরে টাকা দিয়ে সিএনজি ছাড়িয়ে আনলেও বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকে। এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সিএনজি মালিকরা। ফলে বাধ্য হয়ে মিঠুকে চাঁদা দিয়ে মহাসড়কসহ বিনা বাধায় অবাদে চলাচল করার সুযোগ পায় সিএনজি। আদায়কৃত মাসিক চাঁদার একটি অংশ ট্রাফিকের আসাধু কর্মকর্তাদের দিয়ে বাকি অংশ মিঠুসহ সমিতির লোকজন ভাগ বন্টন করে নেয়। এভাবে বদলাতে থাকে মিঠুর জীবন চিত্র। বর্তমানে ফোরস্টোক সমিতির অধিনে তিনশতাধিক সিএনজি চলছে সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ শহরে। সিএনজিতে লাগানো ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, নারায়ণগঞ্জ ফোরস্টোক সিএনজি মালিক সমিতি ষ্টিকার লাগানো থাকলে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে মিঠু একে একে ৪৮ টি সিএনজি কিনে। বর্তমানে তার ৪০ টি সিএনজি রয়েছে। তার মধ্যে ৫ টি প্রাইভেট সিএনজি। মিঠুর নিজের ১৯ টি সিএনজি চলছে ঢাকায়, ১৬ টি নারায়ণগঞ্জ শহরে আর সাদা রঙের ৫ টি প্রাইভেট সিএনজি চলছে সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়। নিজের ব্যক্তিমালিকানা বাদেও সমিতির ষ্টিকারে চলছে অন্তত তিনশ সিএনজি। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল ও শিমরাইল মোড়ে সড়কের উপর স্ট্যান্ড বানিয়ে বিনা বাধায় চলছে এসব সিএনজি গুলো। সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকায় গড়ে তুলা হয়েছে শতাধিক সিএনজি রাখার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি গ্যারেজ। এই গ্যারেজের ভিতরেই তার অফিস। অভিযোগ রয়েছে এই গ্যারেজে মাদক সেবনের আসরও চলে।

এবিষয়ে জানতে মিঠু চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলে রিং হলেও মোবাইল রিসিভ করেননি। ফলে তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জেলা ট্রাফিক বিভাগের টিআই বিশ্বজিং এর সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে কিছু সিএনজি চলতে দেই। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে কথাটি সঠিক নয়। মিঠু নামে কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে ছিনিনা। তবে শোনেছি সিএনজি থেকে সে চাঁদা নেয়। এখন থেকে সিএনজি ও মিঠুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।