নারায়ণগঞ্জ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জে ৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা গুণী জনদের পদচারণায়  উদযাপিত  দৈনিক আজকের নীর বাংলা পত্রিকা’র ১৫ তম  বর্ষপূর্তি সিদ্ধিরগঞ্জে রাজউকের অভিযানে ক্ষুব্ধ ভবন মালিকরা রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মজিবুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই শিক্ষার মান উন্নয়নের তাগিদ অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন না করেও অপপ্রচারের শিকার মহিউদ্দিন মোল্লা ! সাংবাদিক শাওনের বাবা ফিরোজ আহমেদ আর নেই রিয়াদে জমকালো আয়োজনে মাই টিভির ১৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন রিয়াদে প্রিমিয়াম ফুটবল লীগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত জুন মাসের ১৭ তারিখ কোরবানির ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভবনা রিয়াদে নোভ আল আম্মার ইষ্টাবলিস্ট এর আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাঘিনীর সামনে ছাগলের নৃত্য

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১
  • ২০৫ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়ন পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার ঘোষনা দিয়ে কামরুল ইসলাম বাবু যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। ভাগ্য সাহসীদের পক্ষেই থাকে। সাহসেই লক্ষী। তবে অতি সাহসে পাছায় বাঁশ তাও কিন্তু মিথ্যা নয়।
শহরের উকিলপাড়া এলাকার মো: মনিরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম বাবু। ব্যক্তিগত ভাবে যেমন ভোটারের কাছে অপরিচিত তেমনি তার কোন দলীয় পরিচয় নেই। নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ( ২ জুন) বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস কাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়র নির্বাচন করার ঘোষনা দেন। যদিও এখনো নির্বাচনের কোন সারা পড়েনি। তবু তার এই ঘোষনায় কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। আসলেই কি তিনি নির্বাচন করবেন নাকি তামাশা করছেন এ নিয়ে মোটা মোটি আলোচনা চলছে।
তার দলীয় কোন পদপদবী নেই। তবু আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক ও সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। যদি দলীয় সমর্থন নাও পান, তবু নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে তিনি আটল থাকবেন এ নিশ্চিয়তা দিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে।
কথায় আছে উইপোকার পাকা গজায়, মরিবার তরে। হয়ত অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন বাবু। তাই নির্বাচন করার পাকা গজিয়েছে। উড়াল দিচ্ছে। নির্বাচন করতেই পারেন। এটা তার নাগরিক অধিকার। কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি হতে হলে জনগণের জন্য কিছু করতে হয়। নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলা দরকার। গায়ে মানেনা অপনে মোড়ল কানা ছেলের নাম পদ্ম লোচন। উড়ে এসে জুড়ে বসলেই যা চাইবে তা পেয়ে যাবে মানুষ এখন এত বোকা নয়।
ভোটারদের ভাষ্য মতে, সিটি এলাকায় রাজনৈতিক ভাবে সর্বমহলে পরিচিত ও আলোচিত পরিবারের সদস্য রয়েছে। যার মধ্যে একজন বর্তমান মেয়র ড. সেলিনা হায়াত আইভী। শীর্ষে রয়েছে ওসমান পরিবারের দুই সংসদ সদস্য একে এম সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান। সিটির বন্দর ও শহরের কিছু এলাকার এমপি সেলিম ওসমান। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার এমপি শামীম ওসমান। সেই ওসমান পরিবারের আলোচিত ব্যক্তি শামীম ওসমান দলীয় সমর্থন পেয়েও আইভীর সাথে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। শামীম ওসমানকে পরাজিত করে নারায়ণগঞ্জের বাঘিনী হিসেবে দেশ ব্যাপী আলোচিত হয় প্রথম নারী মেয়র হিসেবে সেলিনা হায়াত আইভী। সেই আইভীর সাথে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধিতা করার যোগ্যতা বা পরিচিতি বাবুর নেই। বাঘের সামনে ছাগল নৃত্য করার কায়েশ করলে পরিণতি কি হতে পারে তা প্রকাশ দরকার নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
তাদের মতে, নির্বাচনী তফসিল কবে ঘোষনা হবে তা এখনো অজানা। বর্তমান মেয়র আইভী আবার নির্বাচন করবেন কি করবেন না তা স্পষ্ট নয়। তবে না করার কোন কারণ নেই। পৌরসভা থেকে সিটি পর্যন্ত একটানা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে নিজের যোগ্যতা দক্ষতা পরিচয় দিয়ে প্রশংশিত হচ্ছেন আইভী। তাই ভোটারের কাছ থেকে তার গ্রহণযোগ্যতা হারায়নি বিন্দু মাত্র। আইভী নির্বাচন করতে না চাইলেও ভোটাররা তাকে ছাড়বেনা এমন আবাস পাওয়া যাচ্ছে ভোটারদের কাছ থেকে।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নির্বাচনে বাবু কতটা সারা ফেলতে পারে তা সময়েই বলে দিবে। তবে তাকে যারা উসকানি দিচ্ছে তারা সফল হবে বলেই মনে করছেন তারা। কারণ, বাবু বাঁশ খেলে উসকানি দাতাদের কি বা যায় আসে। সিদ্ধান্ত বাবুর। যে কেহ স্বপ্ন দেখতেই পারে। কখন কার ভাগ্যে কি ঘটে তা কারো জানা নেই। বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষপট বিবেচনা করে পর্যবেক্ষম মহল মনে করছেন বাবু মেয়র হয়েও যেতে পারে। তা অসম্ভব কিছু নয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে থাকবেন কিনা এটাই এখন তাদের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

নারায়ণগঞ্জে ৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা

বাঘিনীর সামনে ছাগলের নৃত্য

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়ন পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার ঘোষনা দিয়ে কামরুল ইসলাম বাবু যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। ভাগ্য সাহসীদের পক্ষেই থাকে। সাহসেই লক্ষী। তবে অতি সাহসে পাছায় বাঁশ তাও কিন্তু মিথ্যা নয়।
শহরের উকিলপাড়া এলাকার মো: মনিরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম বাবু। ব্যক্তিগত ভাবে যেমন ভোটারের কাছে অপরিচিত তেমনি তার কোন দলীয় পরিচয় নেই। নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ( ২ জুন) বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস কাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়র নির্বাচন করার ঘোষনা দেন। যদিও এখনো নির্বাচনের কোন সারা পড়েনি। তবু তার এই ঘোষনায় কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। আসলেই কি তিনি নির্বাচন করবেন নাকি তামাশা করছেন এ নিয়ে মোটা মোটি আলোচনা চলছে।
তার দলীয় কোন পদপদবী নেই। তবু আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক ও সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। যদি দলীয় সমর্থন নাও পান, তবু নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে তিনি আটল থাকবেন এ নিশ্চিয়তা দিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে।
কথায় আছে উইপোকার পাকা গজায়, মরিবার তরে। হয়ত অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন বাবু। তাই নির্বাচন করার পাকা গজিয়েছে। উড়াল দিচ্ছে। নির্বাচন করতেই পারেন। এটা তার নাগরিক অধিকার। কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি হতে হলে জনগণের জন্য কিছু করতে হয়। নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলা দরকার। গায়ে মানেনা অপনে মোড়ল কানা ছেলের নাম পদ্ম লোচন। উড়ে এসে জুড়ে বসলেই যা চাইবে তা পেয়ে যাবে মানুষ এখন এত বোকা নয়।
ভোটারদের ভাষ্য মতে, সিটি এলাকায় রাজনৈতিক ভাবে সর্বমহলে পরিচিত ও আলোচিত পরিবারের সদস্য রয়েছে। যার মধ্যে একজন বর্তমান মেয়র ড. সেলিনা হায়াত আইভী। শীর্ষে রয়েছে ওসমান পরিবারের দুই সংসদ সদস্য একে এম সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান। সিটির বন্দর ও শহরের কিছু এলাকার এমপি সেলিম ওসমান। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার এমপি শামীম ওসমান। সেই ওসমান পরিবারের আলোচিত ব্যক্তি শামীম ওসমান দলীয় সমর্থন পেয়েও আইভীর সাথে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। শামীম ওসমানকে পরাজিত করে নারায়ণগঞ্জের বাঘিনী হিসেবে দেশ ব্যাপী আলোচিত হয় প্রথম নারী মেয়র হিসেবে সেলিনা হায়াত আইভী। সেই আইভীর সাথে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধিতা করার যোগ্যতা বা পরিচিতি বাবুর নেই। বাঘের সামনে ছাগল নৃত্য করার কায়েশ করলে পরিণতি কি হতে পারে তা প্রকাশ দরকার নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
তাদের মতে, নির্বাচনী তফসিল কবে ঘোষনা হবে তা এখনো অজানা। বর্তমান মেয়র আইভী আবার নির্বাচন করবেন কি করবেন না তা স্পষ্ট নয়। তবে না করার কোন কারণ নেই। পৌরসভা থেকে সিটি পর্যন্ত একটানা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে নিজের যোগ্যতা দক্ষতা পরিচয় দিয়ে প্রশংশিত হচ্ছেন আইভী। তাই ভোটারের কাছ থেকে তার গ্রহণযোগ্যতা হারায়নি বিন্দু মাত্র। আইভী নির্বাচন করতে না চাইলেও ভোটাররা তাকে ছাড়বেনা এমন আবাস পাওয়া যাচ্ছে ভোটারদের কাছ থেকে।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নির্বাচনে বাবু কতটা সারা ফেলতে পারে তা সময়েই বলে দিবে। তবে তাকে যারা উসকানি দিচ্ছে তারা সফল হবে বলেই মনে করছেন তারা। কারণ, বাবু বাঁশ খেলে উসকানি দাতাদের কি বা যায় আসে। সিদ্ধান্ত বাবুর। যে কেহ স্বপ্ন দেখতেই পারে। কখন কার ভাগ্যে কি ঘটে তা কারো জানা নেই। বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষপট বিবেচনা করে পর্যবেক্ষম মহল মনে করছেন বাবু মেয়র হয়েও যেতে পারে। তা অসম্ভব কিছু নয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে থাকবেন কিনা এটাই এখন তাদের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।