নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রচণ্ড রৌদ্রের প্রখরতায় পথচারী, শ্রমজীবী ও ট্রাফিকদের জন্য ডিসি ও এসপির মানবিক উদ্যোগ সর্ব মহলে প্রশংসিত শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬ তম তিরোধান উৎসব উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ব্রিফিং ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর মানববন্ধন কাশিপুর কল্যাণী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ খাল পুনঃখনন শুরু, তৎপর সদর উপজেলা প্রশাসন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি: ফতুল্লার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতা রোধে নারায়ণগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিসি মো:রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে নির্মাণ সামগ্রী লুটের অভিযোগ যুবদল নেতার ২০ হাজার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ঈদুল আজহায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী আহত সাংবাদিককে দেখতে আর্থিক সহায়তা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের

নুসরাত কি মিন্নি হচ্ছেন?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মে ২০২১
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে মনে আছে? ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনায় এক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছিলো। সেই সন্ত্রাসী ঘটনায় নয়ন বন্ডের হামলায় আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যান রিফাত। রিফাতের স্ত্রী ছিলো মিন্নি। গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশিত হয় মিন্নি রিফাতের রক্তাক্ত দেহ নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে এবং মিন্নিই বাদী হয়ে রিফাত হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেলো যে বাদীই আসামি। অনুসন্ধানে পাওয়া গেলো যে, রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি জড়িত ছিলো এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিলে রিফাতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই বীভৎসতা ঘটানো হয়েছিলো কলেজ প্রাঙ্গনে। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছিলো যে মিন্নি তার স্বামী রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং এ জন্য আদালত থেকে শাস্তি পেয়ে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে গুলশানে মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনার পর আবার মিন্নির ঘটনাটি সামনে এসেছে। এই আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত যা কিছু করছেন সবকিছুই আবার মিন্নিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। মিন্নি যেভাবে বাদী থেকে আসামিতে পরিণত হয়েছিলেন নুসরাতও কি সেরকম বাদী থেকে আসামিতে পরিণত হতে যাচ্ছেন? একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যতই মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার ব্যাপারে অনুসন্ধান করছেন ততই এই মামলায় নুসরাতের ভূমিকা নিয়ে নানারকম রোমাঞ্চকর তথ্য তাদের কাছে আসছে। মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় যে শেষ পর্যন্ত নুসরাত আসামি হয়ে যেতে পারেন তার পেছনে যে কারণগুলো আইন বিশ্লেষকরা বলছে সেগুলো মধ্যে রয়েছে,

১. এই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন নুসরাত এবং তার স্বামী। এটি মুনিয়ার বাড়ি নয় এবং নুসরাত এবং তার স্বামীর ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়েছিলো। প্রথম বাড়ির যে এডভান্সের টাকা সেটিও নুসরাত দিয়েছিলেন। নুসরাত বাড়ি ভাড়া নিয়েও মিথ্যাচার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে তিনি এবং তার স্বামী তার ছোটবোন মুনিয়াকে নিয়ে এখানে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি থাকেন নি মুনিয়াকে নিয়ে।

২. এই মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় আগে মুনিয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চেয়েছিলেন নুসরাত এবং এই টাকাটা দিয়ে নুসরাত কি করেছিলেন সেটিও অজানা। অনুসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে যে, বিভিন্ন সময়ে নুসরাত মুনিয়াকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। টাকার জন্য বিভিন্নভাবে মুনিয়াকে ব্যবহার করতেন। আর এই টাকা জোগাড় করতে করতেই মুনিয়ার এই পরিণতি হয়েছে। কাজেই বোনের জন্য টাকা জোগাড়ের যে চাপ সেই চাপ মুনিয়াকে বিপর্যস্ত করেছিলো। এটিও এই মামলার অন্যতম একটি উপজীব্য হতে পারে।

৩. মুনিয়ার মৃত্যু এবং ঢাকায় এসে নুসরাতের একের পর এক কর্মকাণ্ড কথাবার্তা সেগুলো যখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পাশাপাশি মিলাচ্ছে তখন দেখা যাচ্ছে অসংলগ্ন। একটি তথ্য গোপন করে আরেকটি তথ্য প্রকাশের চেষ্টা এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম তথ্য দেয়া। এ থেকে মনে করা হচ্ছে যে, নুসরাতের অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আছে। তিনি কোনো তথ্য গোপন করতে চাইছেন।

৪. পুরো ঘটনায় নুসরাতের অতি উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং বিশেষ একজন ব্যক্তিকে টার্গেট করে তিনি বক্তব্য বিবৃতি এবং কথাবার্তা বলছেন। অর্থাৎ তিনি নুসরাতকে কিছু দিতে পারবেন। আর এর ফলেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, নুসরাত কি তাহলে মিন্নির মতোই আচরণ করছেন? মিনি যেমন হত্যাকারী হয়েও বাদী হয়েছিলেন, নুসরাতও সে রকম আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হয়ে নিজেই বাদী হলেন?

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রচণ্ড রৌদ্রের প্রখরতায় পথচারী, শ্রমজীবী ও ট্রাফিকদের জন্য ডিসি ও এসপির মানবিক উদ্যোগ সর্ব মহলে প্রশংসিত

নুসরাত কি মিন্নি হচ্ছেন?

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মে ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার: বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে মনে আছে? ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনায় এক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছিলো। সেই সন্ত্রাসী ঘটনায় নয়ন বন্ডের হামলায় আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যান রিফাত। রিফাতের স্ত্রী ছিলো মিন্নি। গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশিত হয় মিন্নি রিফাতের রক্তাক্ত দেহ নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে এবং মিন্নিই বাদী হয়ে রিফাত হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেলো যে বাদীই আসামি। অনুসন্ধানে পাওয়া গেলো যে, রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি জড়িত ছিলো এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিলে রিফাতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই বীভৎসতা ঘটানো হয়েছিলো কলেজ প্রাঙ্গনে। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছিলো যে মিন্নি তার স্বামী রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং এ জন্য আদালত থেকে শাস্তি পেয়ে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে গুলশানে মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনার পর আবার মিন্নির ঘটনাটি সামনে এসেছে। এই আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত যা কিছু করছেন সবকিছুই আবার মিন্নিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। মিন্নি যেভাবে বাদী থেকে আসামিতে পরিণত হয়েছিলেন নুসরাতও কি সেরকম বাদী থেকে আসামিতে পরিণত হতে যাচ্ছেন? একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যতই মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার ব্যাপারে অনুসন্ধান করছেন ততই এই মামলায় নুসরাতের ভূমিকা নিয়ে নানারকম রোমাঞ্চকর তথ্য তাদের কাছে আসছে। মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় যে শেষ পর্যন্ত নুসরাত আসামি হয়ে যেতে পারেন তার পেছনে যে কারণগুলো আইন বিশ্লেষকরা বলছে সেগুলো মধ্যে রয়েছে,

১. এই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন নুসরাত এবং তার স্বামী। এটি মুনিয়ার বাড়ি নয় এবং নুসরাত এবং তার স্বামীর ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়েছিলো। প্রথম বাড়ির যে এডভান্সের টাকা সেটিও নুসরাত দিয়েছিলেন। নুসরাত বাড়ি ভাড়া নিয়েও মিথ্যাচার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে তিনি এবং তার স্বামী তার ছোটবোন মুনিয়াকে নিয়ে এখানে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি থাকেন নি মুনিয়াকে নিয়ে।

২. এই মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় আগে মুনিয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চেয়েছিলেন নুসরাত এবং এই টাকাটা দিয়ে নুসরাত কি করেছিলেন সেটিও অজানা। অনুসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে যে, বিভিন্ন সময়ে নুসরাত মুনিয়াকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। টাকার জন্য বিভিন্নভাবে মুনিয়াকে ব্যবহার করতেন। আর এই টাকা জোগাড় করতে করতেই মুনিয়ার এই পরিণতি হয়েছে। কাজেই বোনের জন্য টাকা জোগাড়ের যে চাপ সেই চাপ মুনিয়াকে বিপর্যস্ত করেছিলো। এটিও এই মামলার অন্যতম একটি উপজীব্য হতে পারে।

৩. মুনিয়ার মৃত্যু এবং ঢাকায় এসে নুসরাতের একের পর এক কর্মকাণ্ড কথাবার্তা সেগুলো যখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পাশাপাশি মিলাচ্ছে তখন দেখা যাচ্ছে অসংলগ্ন। একটি তথ্য গোপন করে আরেকটি তথ্য প্রকাশের চেষ্টা এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম তথ্য দেয়া। এ থেকে মনে করা হচ্ছে যে, নুসরাতের অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আছে। তিনি কোনো তথ্য গোপন করতে চাইছেন।

৪. পুরো ঘটনায় নুসরাতের অতি উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং বিশেষ একজন ব্যক্তিকে টার্গেট করে তিনি বক্তব্য বিবৃতি এবং কথাবার্তা বলছেন। অর্থাৎ তিনি নুসরাতকে কিছু দিতে পারবেন। আর এর ফলেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, নুসরাত কি তাহলে মিন্নির মতোই আচরণ করছেন? মিনি যেমন হত্যাকারী হয়েও বাদী হয়েছিলেন, নুসরাতও সে রকম আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হয়ে নিজেই বাদী হলেন?