নারায়ণগঞ্জ ০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় ফতুল্লা পাইলটে স্কুলে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা বাজারে সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব যাতে না থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার-খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম শিশু অধিকার দিবস উদযাপনে নারায়ণগঞ্জে ভার্চুয়ালি আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শহরে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় ২২ জন ভলান্টিয়ারের কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জ সদরে ৬ষ্ঠ কাব ক্যাম্পুরীর হতে যাচ্ছে : ৭০ স্কুলের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত,এই পদোন্নতি আপনাদের সততা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মূল্যায়ন : এসপি ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে নারায়ণগঞ্জে টাস্কফোর্স কমিটির সভা রূপগঞ্জে জামায়াত ইসলামী ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রম উদ্বোধন সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ২৫

শিশুর ওপর প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব ও করণীয়

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১
  • ৩৮১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,মোঃ জিয়াউর রহমান : আজকের শিশু জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার।তারাই জাতিকে নেতৃত্ব দিবে। ফলে তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে তৈরি করতে হবে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আজকের দুনিয়ায় তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণেই মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার করে অনেক দেশে সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির সীমাহীন নেতিবাচক ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম (শিশু কিশোর) ধংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের শিশু কিশোরদের সিংহভাগ বর্তমানে ইন্টারনেট কিংবা বিভিন্ন অনলাইন গেমে নিমগ্ন থাকছে। অনলাইন গেমগুলোর মধ্যে পাবজি তরুণ প্রজন্মের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পাবজির মতো শুধু অনলাইন গেমই নয় বরং টেম্পল রান, সাবওয়ে সারফারস ,ব্যাডল্যান্ড,ফ্রুট নিনজা,লিম্বো, মাইনক্রাফট পকেট এডিশন, ওয়ার্ল্ড অব গু,স্ম্যাশ হিটসহ বিভিন্ন অফলাইন ভিত্তিক গেম আজ শিশুদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘ ডিজিটাল গেম আসক্তিজনিত রোগ ‘ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভিডিও গেমসের প্রতি শিশু কিশোরদের আগ্রহ সবসময়ই ছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে এটি আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশেই শুধু নয়, সারা পৃথিবীতেই এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনোস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দীর্ঘদিন জরিপ আর গবেষণার পর ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজিজ ১১তম সংশোধিত সংস্করণে (আইসিডি-১১), ‘গেমিং অ্যাডিকশন’ হিসেবে একে মনোস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করেছে ২০১৮ সালের জুন মাসে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে প্রকাশিতব্য আইসিডি-১১ শীর্ষক রোগ নির্ণয়ে গাইডবুকে এটি সংযুক্ত করা হযেছে। আজকাল শিশু কিশোরদের মধ্যে ইন্টারনেট দুনিয়ায় অবাধে বিচরণ করার অন্যতম কারণ হিসেবে ডিজিটাল সামগ্রীর সহজলভ্যতাকে মূখ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অনেকে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সময় দিতে না পারায়, কিছু অমূলক যুক্তি দিয়ে ( গেম খেলতে না দিলে পড়তে চায় না, খেতে চায় না,রাগারাগি করে, কথা শুনতে চায় না ইত্যাদি ইত্যাদি)।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এতে করে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞমহল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স ও শারীরিক কাঠামোর তুলনায় অতিমাত্রায় ওজনের (যা ওবেসিটি নামে পরিচিত) কারণে শিশুরা যেমন শৈশবের চঞ্চলতা হারাচ্ছে, তেমনি শিশু বয়সেই ভুগছে এ সংক্রান্ত নানারকম অসুখে। তাদের ভবিষ্যৎ জীবন দাঁড়াচ্ছে মারাত্মক হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওবেসিটি বা স্থূলতা শিশুদের ভয়াবহভাবে ঠেলে দিচ্ছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা, চোখের সমস্যা, বাত ও হেপাটাইটিসসহ নানা ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা। তাছাড়া শিশুদের চিন্তাশক্তি লোপ, বিরূপ আচরণ করা, ভুল অনুকরণ, সমাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা, একাকিত্ব সহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বিশ্বের বহু দেশ ইন্টারনেটে আসক্ত শিশু কিশোরদের নিরাপদ রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় তো সরকার এমন আইন করেছে- যাতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুরা মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অনলাইন গেম খেলতে না পারে। জাপানে কেউ যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি গেম খেলে তাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। চীনে সেখানকার সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট শিশুরা কতক্ষণ গেম খেলতে পারে তার সময় বেঁধে দিয়েছে। চীনের অনলাইন ভিডিও গেম বাজারে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল রেখেছে স্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি টেনসেন্ট হোল্ডিংস। চীনের তরুণ প্রজন্ম অনলাইন গেমে অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ায় দেশটির সরকার তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রতিরোধের উপায়: ১। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত না হলে, ইন্টারনেট সংযোগ বা ব্যক্তিগত মুঠোফোন নয়। সে নিজেকে কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, তা আগে বিবেচনা করতে হবে।
২। বাসার ডেস্কটপ কম্পিউটারটি প্রকাশ্য স্থানে রাখুন। শিশু যাতে আপনার সামনে মুঠোফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করে, সেদিকে গুরুত্ব দিন। ৩। নিরাপত্তামূলক অনেক সফটওয়্যার আছে। সেগুলো ব্যবহার করুন, যাতে আপনার বাসার সংযোগ থেকে কোনো নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা না যায়। এ বিষয়ে আপনার ইন্টারনেট সংযোগদাতা বা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।
৪। সন্তান প্রযুক্তিতে অতি দক্ষ এই ভেবে আত্মতৃপ্তি পাবেন না। তার বয়সটি প্রযুক্তির উপযোগী হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। ৫। শিশুকে গুণগত সময় দিন। মা-বাবা নিজেরাও যদি প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত থাকেন, তবে সবার আগে নিজের আসক্তি দূর করুন। পরিবারের সবাই মিলে বাসায় ক্যারম, লুডু, দাবা, মনোপলি ইত্যাদি খেলার চর্চা করুন। নিয়ম করে সবাই মিলে বেড়াতে যান। মাঠের খেলার প্রতি উৎসাহ দিন। ৬। ইন্টারনেট বা গেম আসক্তি কিন্তু মাদকাসক্তির মতোই একটি সমস্যা। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এই আসক্তি দূর করুন। এখনই সময় অভিভাবক ও সুধীসমাজ সচেতনতার মাধ্যমে একটি শিশুর সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার। সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো আমার ও বলি – এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

শিশুর ওপর প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব ও করণীয়

আপডেট সময় : ০১:১৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক,মোঃ জিয়াউর রহমান : আজকের শিশু জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার।তারাই জাতিকে নেতৃত্ব দিবে। ফলে তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে তৈরি করতে হবে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আজকের দুনিয়ায় তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণেই মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার করে অনেক দেশে সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির সীমাহীন নেতিবাচক ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম (শিশু কিশোর) ধংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের শিশু কিশোরদের সিংহভাগ বর্তমানে ইন্টারনেট কিংবা বিভিন্ন অনলাইন গেমে নিমগ্ন থাকছে। অনলাইন গেমগুলোর মধ্যে পাবজি তরুণ প্রজন্মের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পাবজির মতো শুধু অনলাইন গেমই নয় বরং টেম্পল রান, সাবওয়ে সারফারস ,ব্যাডল্যান্ড,ফ্রুট নিনজা,লিম্বো, মাইনক্রাফট পকেট এডিশন, ওয়ার্ল্ড অব গু,স্ম্যাশ হিটসহ বিভিন্ন অফলাইন ভিত্তিক গেম আজ শিশুদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘ ডিজিটাল গেম আসক্তিজনিত রোগ ‘ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভিডিও গেমসের প্রতি শিশু কিশোরদের আগ্রহ সবসময়ই ছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে এটি আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশেই শুধু নয়, সারা পৃথিবীতেই এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনোস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দীর্ঘদিন জরিপ আর গবেষণার পর ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজিজ ১১তম সংশোধিত সংস্করণে (আইসিডি-১১), ‘গেমিং অ্যাডিকশন’ হিসেবে একে মনোস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করেছে ২০১৮ সালের জুন মাসে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে প্রকাশিতব্য আইসিডি-১১ শীর্ষক রোগ নির্ণয়ে গাইডবুকে এটি সংযুক্ত করা হযেছে। আজকাল শিশু কিশোরদের মধ্যে ইন্টারনেট দুনিয়ায় অবাধে বিচরণ করার অন্যতম কারণ হিসেবে ডিজিটাল সামগ্রীর সহজলভ্যতাকে মূখ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অনেকে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সময় দিতে না পারায়, কিছু অমূলক যুক্তি দিয়ে ( গেম খেলতে না দিলে পড়তে চায় না, খেতে চায় না,রাগারাগি করে, কথা শুনতে চায় না ইত্যাদি ইত্যাদি)।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এতে করে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞমহল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স ও শারীরিক কাঠামোর তুলনায় অতিমাত্রায় ওজনের (যা ওবেসিটি নামে পরিচিত) কারণে শিশুরা যেমন শৈশবের চঞ্চলতা হারাচ্ছে, তেমনি শিশু বয়সেই ভুগছে এ সংক্রান্ত নানারকম অসুখে। তাদের ভবিষ্যৎ জীবন দাঁড়াচ্ছে মারাত্মক হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওবেসিটি বা স্থূলতা শিশুদের ভয়াবহভাবে ঠেলে দিচ্ছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা, চোখের সমস্যা, বাত ও হেপাটাইটিসসহ নানা ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা। তাছাড়া শিশুদের চিন্তাশক্তি লোপ, বিরূপ আচরণ করা, ভুল অনুকরণ, সমাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা, একাকিত্ব সহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বিশ্বের বহু দেশ ইন্টারনেটে আসক্ত শিশু কিশোরদের নিরাপদ রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় তো সরকার এমন আইন করেছে- যাতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুরা মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অনলাইন গেম খেলতে না পারে। জাপানে কেউ যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি গেম খেলে তাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। চীনে সেখানকার সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট শিশুরা কতক্ষণ গেম খেলতে পারে তার সময় বেঁধে দিয়েছে। চীনের অনলাইন ভিডিও গেম বাজারে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল রেখেছে স্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি টেনসেন্ট হোল্ডিংস। চীনের তরুণ প্রজন্ম অনলাইন গেমে অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ায় দেশটির সরকার তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রতিরোধের উপায়: ১। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত না হলে, ইন্টারনেট সংযোগ বা ব্যক্তিগত মুঠোফোন নয়। সে নিজেকে কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, তা আগে বিবেচনা করতে হবে।
২। বাসার ডেস্কটপ কম্পিউটারটি প্রকাশ্য স্থানে রাখুন। শিশু যাতে আপনার সামনে মুঠোফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করে, সেদিকে গুরুত্ব দিন। ৩। নিরাপত্তামূলক অনেক সফটওয়্যার আছে। সেগুলো ব্যবহার করুন, যাতে আপনার বাসার সংযোগ থেকে কোনো নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা না যায়। এ বিষয়ে আপনার ইন্টারনেট সংযোগদাতা বা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।
৪। সন্তান প্রযুক্তিতে অতি দক্ষ এই ভেবে আত্মতৃপ্তি পাবেন না। তার বয়সটি প্রযুক্তির উপযোগী হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। ৫। শিশুকে গুণগত সময় দিন। মা-বাবা নিজেরাও যদি প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত থাকেন, তবে সবার আগে নিজের আসক্তি দূর করুন। পরিবারের সবাই মিলে বাসায় ক্যারম, লুডু, দাবা, মনোপলি ইত্যাদি খেলার চর্চা করুন। নিয়ম করে সবাই মিলে বেড়াতে যান। মাঠের খেলার প্রতি উৎসাহ দিন। ৬। ইন্টারনেট বা গেম আসক্তি কিন্তু মাদকাসক্তির মতোই একটি সমস্যা। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এই আসক্তি দূর করুন। এখনই সময় অভিভাবক ও সুধীসমাজ সচেতনতার মাধ্যমে একটি শিশুর সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার। সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো আমার ও বলি – এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।