নারায়ণগঞ্জ ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৪ সুবিধাবাদী বিএনপি নেতাদের শেল্টারে আওয়ামী দোসর মাসুম রূপগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা; ছাত্র গ্রেফতার সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১৯ রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল নেতা নিহত ১৪৫ বছরের সার্বজনীন লক্ষ্মী মন্দির সহ নারায়ণগঞ্জ সদরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ডিসি মোঃ রায়হান কবির রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের সোনারগাঁয়ে ১০১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ ডিসি ও এসপিকে জার্নালিস্ট ইউনিটির সম্মাননা স্মারক প্রদান রূপগঞ্জে জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলে জমি দখলের প্রতিবাদে মানবববন্ধন ও স্মারকলিপি

মাদকে ভাগ্য বদল মিজমিজির পলাশের

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল ২০২১
  • ৭৭৮ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা পলাশ (৪৩)। পিতার নাম আব্দুস সালাম। গত ৫ বছর আগে ছিলের গাড়ি চালক। এখন তিনি কোটিপতি। নয়টি পিকআপ, দুইটি প্রাইভেটকার, তিনটি জেক গাড়ি ও বহুতল ভবনের মালিক ড্রাইভার পলাশ। অল্প সময়ে তিনি কি ভাবে এত টাকার মালিক হলেন প্রশ্ন স্থানীয়দের।

অভিযোগ জানা গেছে, পলাশ রাতা রাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার আসল রহস্য মাদক ব্যবসা আর রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার দালালি। হঠাৎ বিত্তবান হয়ে যাওয়া পলাশকে নিয়ে এলাকায় কৌতুহল সৃষ্টি হলেও তার আয়ের উৎস খুঁজে পাচ্ছিলনা স্থানীয়রা। তার বিত্তবান হওয়ার রহস্য প্রকাশ পায় গত ১৯ মার্চ আড়াইহাজার থানার বিশনন্দী ফেরীঘাট এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে সবজিবাহী পিকআপ আটক করে ৭১ কেজি গাঁজা উদ্ধারের পর। সেদিন গাঁজাসহ আটক হওয়া (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৩-৩২৮১) পিকআপটির মালিক এই পলাশ। বর্তামানে গাড়িটি আড়াইহাজার থানায় জব্দ রয়েছে। সেদিন গাজাসহ আটক হয় নূর আলম ও আলাউদ্দিন। তাদের একজন পলাশের গাড়ির চালক। বিত্তবান হওয়ার পর থেকেই নাসিক ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের অন্যতম সহযোগী হয়ে পড়ায় পলাশ এলাকায় দাপট দেখাতে শুরু করে। ভয়ে তার আয়ের উৎস নিয়ে তেমন মাথা ঘামায়নি স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাশ ছিলেন অন্যের গাড়ির চালক। তখন তিনি মাদক পাচারে জড়িয়ে যায়। কিছুদিনেই মধ্যে নিজে একটি গাড়ি কিনে ফেলে। অন্যের গাড়ি বাদ দিয়ে নিজের গাড়ি চালানো শুরু করে। মাদকের কাঁচা টাকায় অল্পদিনে একে একে করে ফেলে নয়টি পিকআপ, তিনটি জেক ও দুইটি প্রাইভেটকার। মিজমিজি এলাকায় জমি কিনে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ কাজও চলছে। এরই মধ্যে বাড়ির তিনতলার কাজ শেষ হয়েছে। চতুর্থ তলার কাজ চলামান রয়েছে। এখন নিজে গাড়ি চালানো ছেড়ে রাজকীয় বেস ধারণ করে সঙ্গবদ্ধ একটি বাহিনী গড়ে তুলে কৌশলে মাদক পাচার ও ব্যবসা চালাচ্ছে এই পলাশ। অভিযোগ রয়েছে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করার দালালি করতে গিয়ে ধরাও পরেছিলেন তিনি। বি-বাড়িয়া ও কক্সবাজার থেকে পলাশের গাড়ি দিয়ে অবিনব কৌশলে মাদকের বড় বড় চালান আনা হয়।

জানাগেছে, এই পলাশ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মারামারি হামলা ভাঙচুর মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামি। গত বছরের ১ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পলাশ তার বাহিনী নিয়ে একই এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে হাসানের উপর হামলা চালিয়ে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এঘটনায় পলাশসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধিন রয়েছে।

এবিষয়ে পলাশের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, একজন চালক গাড়িটি নিয়মিত চালাইত। সে আমাকে না জানিয়ে অন্যএকজন চালককে বদলি হিসেবে দেয়। সেই চালকই মাদক বহনে জড়িত ছিল। বিষয়টি আমি জানতে পারি গাড়িটি আটক হওয়ার পর। পাসপোর্ট দালালির অভিযোগটিও তিনি অস্বীকার করেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৪

মাদকে ভাগ্য বদল মিজমিজির পলাশের

আপডেট সময় : ১০:৪৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল ২০২১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা পলাশ (৪৩)। পিতার নাম আব্দুস সালাম। গত ৫ বছর আগে ছিলের গাড়ি চালক। এখন তিনি কোটিপতি। নয়টি পিকআপ, দুইটি প্রাইভেটকার, তিনটি জেক গাড়ি ও বহুতল ভবনের মালিক ড্রাইভার পলাশ। অল্প সময়ে তিনি কি ভাবে এত টাকার মালিক হলেন প্রশ্ন স্থানীয়দের।

অভিযোগ জানা গেছে, পলাশ রাতা রাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার আসল রহস্য মাদক ব্যবসা আর রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার দালালি। হঠাৎ বিত্তবান হয়ে যাওয়া পলাশকে নিয়ে এলাকায় কৌতুহল সৃষ্টি হলেও তার আয়ের উৎস খুঁজে পাচ্ছিলনা স্থানীয়রা। তার বিত্তবান হওয়ার রহস্য প্রকাশ পায় গত ১৯ মার্চ আড়াইহাজার থানার বিশনন্দী ফেরীঘাট এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে সবজিবাহী পিকআপ আটক করে ৭১ কেজি গাঁজা উদ্ধারের পর। সেদিন গাঁজাসহ আটক হওয়া (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৩-৩২৮১) পিকআপটির মালিক এই পলাশ। বর্তামানে গাড়িটি আড়াইহাজার থানায় জব্দ রয়েছে। সেদিন গাজাসহ আটক হয় নূর আলম ও আলাউদ্দিন। তাদের একজন পলাশের গাড়ির চালক। বিত্তবান হওয়ার পর থেকেই নাসিক ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের অন্যতম সহযোগী হয়ে পড়ায় পলাশ এলাকায় দাপট দেখাতে শুরু করে। ভয়ে তার আয়ের উৎস নিয়ে তেমন মাথা ঘামায়নি স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাশ ছিলেন অন্যের গাড়ির চালক। তখন তিনি মাদক পাচারে জড়িয়ে যায়। কিছুদিনেই মধ্যে নিজে একটি গাড়ি কিনে ফেলে। অন্যের গাড়ি বাদ দিয়ে নিজের গাড়ি চালানো শুরু করে। মাদকের কাঁচা টাকায় অল্পদিনে একে একে করে ফেলে নয়টি পিকআপ, তিনটি জেক ও দুইটি প্রাইভেটকার। মিজমিজি এলাকায় জমি কিনে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ কাজও চলছে। এরই মধ্যে বাড়ির তিনতলার কাজ শেষ হয়েছে। চতুর্থ তলার কাজ চলামান রয়েছে। এখন নিজে গাড়ি চালানো ছেড়ে রাজকীয় বেস ধারণ করে সঙ্গবদ্ধ একটি বাহিনী গড়ে তুলে কৌশলে মাদক পাচার ও ব্যবসা চালাচ্ছে এই পলাশ। অভিযোগ রয়েছে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করার দালালি করতে গিয়ে ধরাও পরেছিলেন তিনি। বি-বাড়িয়া ও কক্সবাজার থেকে পলাশের গাড়ি দিয়ে অবিনব কৌশলে মাদকের বড় বড় চালান আনা হয়।

জানাগেছে, এই পলাশ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মারামারি হামলা ভাঙচুর মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামি। গত বছরের ১ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পলাশ তার বাহিনী নিয়ে একই এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে হাসানের উপর হামলা চালিয়ে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এঘটনায় পলাশসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধিন রয়েছে।

এবিষয়ে পলাশের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, একজন চালক গাড়িটি নিয়মিত চালাইত। সে আমাকে না জানিয়ে অন্যএকজন চালককে বদলি হিসেবে দেয়। সেই চালকই মাদক বহনে জড়িত ছিল। বিষয়টি আমি জানতে পারি গাড়িটি আটক হওয়ার পর। পাসপোর্ট দালালির অভিযোগটিও তিনি অস্বীকার করেন।