সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি জায়গায় দখল করে চোরাই টায়ার মার্কেট

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে চোরাই টায়ার মার্কেট। সঙ্গবদ্ধ একটি চক্র এই মার্কেট গড়ে তুলেছে। টায়ার পুড়ার দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে আশপাশের বসিন্দারা। এখানে টায়ার ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় এই মার্কেট। নাম বিবাড়িয়া টায়ার মার্কেট। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেটটি গড়ে তুলা হয়েছে। তামিম টায়ার স্টোর, নিউ মায়ের দোয়া টায়ার স্টোর , মেসার্স উম্মে আয়মন টায়ার স্টোরসহ মার্কেটটিতে অর্ধশতাধিক দোকান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার কারখানা ও চোর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে চোরাই টায়ার এনে এই মার্কেটে নিশ্চিন্তে বেচাকিনা করা হয়। নষ্ট পুরনো টায়ার জোরা তালি দিয়ে রং করে নতুন বলে চালিয়ে দিচ্ছে চক্রটি। মার্কেটের সামনে বিশাল খালি জায়গায় হাজার হাজার পুরনো টায়ার ফেলে রাখা হয়েছে। পরিত্যাক্ত এসব টায়ারে জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গু মশা। মার্কেটে পাশের বাসিন্দা আলামিন জানায়, টায়ার পুড়া দুর্গন্ধের কারণে বসবাস করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করতে পারি না। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। তাছাড়া মশার উপদ্রুপে ঠিকাই যায়না। একই সমস্যা উল্লেখ করে নিউ মুক্তি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল মতিন বলেন,ঘনবসতি আবাসিক এলাকায় এ ধরনের মার্কেট কিভাবে হয় তা বোধগম্য নয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত টায়ারে পানি জমে রয়েছে। পানিতে রয়েছে মশার লার্ভা। মাসের পর মাস টায়ার ফেলে রাখায় মশার জন্ম ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নোংরা হচ্ছে পরিবেশ। সরকারি যে জায়গাতে মার্কেট করা হয়েছে তা কয়েক বছর আগেও জলাশয় ছিল বলে জানায় স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে,মার্কেট কমিটির সভাপতি জালালের আপন ছোট ভাই টায়ার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামকে মার্কেটের সামন থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ র‌্যাব-১১ আটক করে। সে টায়ার বহনকারী পিকআপ ভ্যান দিয়ে কুমিল্লা ও টেকনাফ থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় সরবরাহ করতো বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করে। তার ছোট ভাইকেও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এমনকি জালালও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত বলে একাধিক সূত্র জানায়। শুধু তারাই নয় এ মার্কেটের অনেকই ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
মাহবুব নামে এক দোকান মালিক জানায়, কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের সাথে কথা বলে এ মার্কেট করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে ব্যবসা করছি।
মার্কেট কমিটির সভাপতি জালাল জানায়,স্থানীয় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে মার্কেট করা হয়েছে। তবে সামনের সরকারি জায়গার কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। চোরাই টায়ার বেচাকিনা ও ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,তাদেরকে বহুবার বলা হয়েছে এখান থেকে মার্কেট সরিয়ে নিতে। তার পরও সরাচ্ছে না। আমি দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরকারি জায়গায় মার্কেটের কোন অনুমতি দেইনি। খুব শিগ্রই অভিযান চালিয়ে মার্কেট উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখল মুক্ত করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক জানান, এ মার্কেটের বিষয়ে আমি অবগত নই। মানুষের সমস্যা হয় এমন কোন মার্কেট সিটি এলাকায় থাকবে না।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, চোরাই টায়ার ও ইয়াবার বিষয়ে আমি সঠিক জানিনা। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নিব ।