নারায়ণগঞ্জ ০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের সোনারগাঁয়ে ১০১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ ডিসি ও এসপিকে জার্নালিস্ট ইউনিটির সম্মাননা স্মারক প্রদান রূপগঞ্জে জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলে জমি দখলের প্রতিবাদে মানবববন্ধন ও স্মারকলিপি সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেপ্তার, ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার অর্থ আত্মসাত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেস ক্লাব থেকে মোসলেম উদ্দিন ও আমীর হোসেনকে বহিষ্কার আড়াইহাজারে যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার,স্ত্রী আটক রূপগঞ্জে শিক্ষিকার লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ও হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সোনারগাঁয়ে ফ্লাইওভার ব্রিজের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত চাষাঢ়ায় যানজট নিরসনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আকস্মিক পরিদর্শনে এসপি হাবিবুর রহমান

মহানগর বিএনপি সদস্য সচিবের মামলায় ৫৩ জনের নামে, অজ্ঞাত ১৫০

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ৩৮৯ বার পড়া হয়েছে

নূরুল হুদা মেহেদী ঃ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার(০৮ সেপ্টেম্বর )বিকেলে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সহকারি একজন থানায় এসে লিখিত একটি অভিযোগ দেন । টিপুর স্বাক্ষরিত অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও বন্দর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল,নাসিকের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাউসার আশা, বিএনপি সমর্থক সৌরভ, রাজিব, মোস্তাক আহমেদসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় তিন রাস্তার মোড়ে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে হত্যার জন্য আবুল কাউছার আশা ও আতাউর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে বিবাদীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় আশা চাপাতি দিয়ে টিপুর ঘাড়ে কোপ দেন। পরে আশা তার পায়জামার পকেটে থাকা ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যান। আর মুকুল তার হাতে থাকা হকিস্টিক দিয়ে মাথায় বাড়ি দিতে গেলে তা ঠেকাতে গিয়ে টিপুর বাম হাতের নিচ অংশ ভেঙে যায়। এ সময় মুকুলও তার পাঞ্জাবীর পকেটে থাকা আট হাজার পাঁচ শ’ টাকা নিয়ে যায়। বাকি আসামিরা ও আমাকেসহ নেতাকর্মীদের বাঁশ দিয়ে মারধর করে।
এর আগে টিপুর ওপর হামলার বিষয়ে বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘মুকুল, আশা, মোস্তাক, সৌরভ ও রাজীবসহ দেড় থেকে দুই শ’ লোক এই হামলা করেছে। দল ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল না। এই ১৫ বছর ধরে তারা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দালালি করেছে। এখন দালালি করতে পারে না। তাই তারা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোক নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আমাদের সদস্য সচিব মৃত্যুশয্যায় রয়েছে।’
এদিকে টিপুর ওপর হামলার ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির দু’টি পক্ষ। সকালে কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে ও বিকেলে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য- গত শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ তিন রাস্তার মোড়ে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। টিপুকে রাস্তায় ফেলে লাঠিসোটা বাঁশ দিয়ে পেটানো হয়। টিপুর পাঞ্জাবী ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন মাসুদ রানা ও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা খায়রুল কবির মুন্না। নেতাকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।হামলার সময়কার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের

মহানগর বিএনপি সদস্য সচিবের মামলায় ৫৩ জনের নামে, অজ্ঞাত ১৫০

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নূরুল হুদা মেহেদী ঃ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার(০৮ সেপ্টেম্বর )বিকেলে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সহকারি একজন থানায় এসে লিখিত একটি অভিযোগ দেন । টিপুর স্বাক্ষরিত অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও বন্দর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল,নাসিকের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাউসার আশা, বিএনপি সমর্থক সৌরভ, রাজিব, মোস্তাক আহমেদসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় তিন রাস্তার মোড়ে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে হত্যার জন্য আবুল কাউছার আশা ও আতাউর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে বিবাদীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় আশা চাপাতি দিয়ে টিপুর ঘাড়ে কোপ দেন। পরে আশা তার পায়জামার পকেটে থাকা ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যান। আর মুকুল তার হাতে থাকা হকিস্টিক দিয়ে মাথায় বাড়ি দিতে গেলে তা ঠেকাতে গিয়ে টিপুর বাম হাতের নিচ অংশ ভেঙে যায়। এ সময় মুকুলও তার পাঞ্জাবীর পকেটে থাকা আট হাজার পাঁচ শ’ টাকা নিয়ে যায়। বাকি আসামিরা ও আমাকেসহ নেতাকর্মীদের বাঁশ দিয়ে মারধর করে।
এর আগে টিপুর ওপর হামলার বিষয়ে বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘মুকুল, আশা, মোস্তাক, সৌরভ ও রাজীবসহ দেড় থেকে দুই শ’ লোক এই হামলা করেছে। দল ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল না। এই ১৫ বছর ধরে তারা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দালালি করেছে। এখন দালালি করতে পারে না। তাই তারা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোক নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আমাদের সদস্য সচিব মৃত্যুশয্যায় রয়েছে।’
এদিকে টিপুর ওপর হামলার ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির দু’টি পক্ষ। সকালে কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে ও বিকেলে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য- গত শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ তিন রাস্তার মোড়ে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। টিপুকে রাস্তায় ফেলে লাঠিসোটা বাঁশ দিয়ে পেটানো হয়। টিপুর পাঞ্জাবী ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন মাসুদ রানা ও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা খায়রুল কবির মুন্না। নেতাকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।হামলার সময়কার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।