চরম অনিয়ম দূর্নীতির আখড়া সিদ্ধিরগঞ্জ ভুমি অফিস

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভূমি অফিসে দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না এই অফিসের কর্মকর্তারা। দিনের পর দিন তাদের ঘুষ বাণিজ্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দারা।
একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, জমির খারিজ, নামজারিসহ যাবতীয় কাজ করতে গেলে ভুমি অফিসের বড়কর্তা থেকে শুরু করে সকলকেই কমবেশী টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে কোনভাবেই কাজটি সম্পাদন করেন না তারা। ফলে প্রতিনিয়তই বিপাকে পড়ছেন সেবা নিতে আশা গ্রাহকরা। ভূমি অফিসে নিয়োজিত দালাল এবং ওমেদারদের দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন ভূমি কর্মকর্তারা আরিফ হোসেন। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস ফাইল নিয়ে কড়া নাড়তে হয় তাদের দরজায়। এই অবস্থা চলছে মাসের পর মাস। দেখার যেন কেউ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে অর্ধশতাধিক লোক অপেক্ষা করছে। এই কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন আরিফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি মাদানীনগর নতুন মহল্লা থেকে খারিজ করতে আসা আসলাম মিয়ার সঙ্গে উচ্চঃস্বরে বলছেন, লাখ টাকার জমি কিনেছেন,আর ওমেদারদের এক হাজার টাকা বকশিশ দিতে কষ্ট লাগে। ভূমি কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণে উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগী আসলাম মিয়া জানান, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। বিদেশ থেকে এসে আমার ক্রয়কৃত ৩ শতাংশ জমি খারিজ করার জন্য ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পরও দুই মাসের মধ্যে খারিজের কাগজ হাতে পাইনি। জানি না কবে খারিজের কাগজ পাবো। এভাবেই দিনের পর দিন তাদের পিছনে ঘুরছি। আর অপেক্ষার প্রহর গুনছি।
মিজমিজি বাতানপাড়া থেকে আসা কবির হোসেন ও হাবিব মিয়া নামের দুই ব্যক্তি জানান, টাকা না দিলে এই অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে নায়েব পর্যন্ত ফাইলে হাত দেন না। টাকা দিলে কাগজ ঠিক থাকে। টাকা না দিলে কাগজ বেঠিক হয়ে যায়। এক প্রকার প্রকাশ্যেই ঘুষ বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন সেবার নামে এসকল ভূমি কর্মকার্তারা।
সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের আশা রেহানা পারভীন বলেন, এক থেকে পাঁচ শতাংশ জায়গায় জন্য ২০ হাজার, পাঁচ থেকে দশ শতাংশ জায়গার জন্য ৪০ হাজার, দশ থেকে বিশ শতাংশ জায়গার জন্য ৬০ হাজার টাকা খারিজ বাবদ নেয়া হয় এই অফিসে। কাগজপত্র ঠিক না থাকলে টাকার অংক দ্বিগুণ থেকে চারগুণ পর্যন্ত আদায় করেন তারা।
আব্দুর রহমান নামে এক দলিল লেখক জানান, সরকারিভাবে খারিজ বাবদ ১১৫০ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও তারা ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত খারিজ বাবদ আদায় করে থাকেন। সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, সরকারি নীতিমালা অমান্য করে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি কার্যালয়ে ওমেদাররা বছরের পর বছর চাকরী করে যাচ্ছেন আর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মশোয়ারা বানিজ্যে মেতেছেন। অভিযোগ রয়েছেন নায়েব আফির হোসেন ওমেদারদের দিয়েই প্রতিমাসে বাণিজ্য করেন লাখ লাখ টাকা।
সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন অবৈধভাবে বহু টাকার মালিক বনে গেছেন। অনুসন্ধানে তাদের সম্পত্তি বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, আমিকোনো দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ চালানো হচ্ছে। আমরা সেবার মানসিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, ভূমি কার্যালয়ের দুর্নীতি ও অনিয়ম কোনভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। যদি কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।