তারাবর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘুরছে প্রকাশ্যে-আতঙ্কে বাদী

নিজস্ব প্রতিবেদ : রূপগঞ্জের তারাব পৌরএলাকার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রুবেল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নিতে বাদীকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ জানা গেছে। অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ডাকাতিসহ ডজন খানের মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল ও রকিখান গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রতার জের ধরে সন্ত্রাসী রুবেল বাহিনী গত ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬ টায় তারাব পৌরসভার দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে সামাল বাদশার বসত বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও মানসিক প্রতিবন্ধীসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম করে। এঘটনার ৯ দিন পর গত সোমবার ১৩ ডিসেম্বর রুপগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করায় হয়। যার নং-২৬। ধারা-১৪৩,৪৪৭,৩২৩,৩২৪,৩২৬,৩০৭,৩৫৪,৪২৭,৩৭৯,১১৪,৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। আসামিরা হলো- মৃত মাহমুদ আলীর জেলে জাহেদ আলী (৪৪), মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে রুবেল ভূঁইয়া (৫০), যাত্রামুড়ার নেছার খানের ছেলে রকি খান (৩৫), সিয়াম (২২) পিতা অজ্ঞাত, জাহাঙ্গীরের ছেলে জাহিদুল (২০), বিজয় (১৯) পিতা অজ্ঞাত, হৃদয়া (১৮) পিতা অজ্ঞাত, পূর্ব তারাব সুলতানবাগ এলাকার আবু ছালেকের ছেলে মিলন (৩৫) ও ৮/১০ জন অজ্ঞাত।

বাদী পক্ষের অভিযোগ, ঘটনার দিনই থানা লিখিত অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পুলিশ মামলা রুজু করেন ৯ দিন পর। অভিযোগ করার পর থেকেই আসামিরা বাদীকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। অবশেষে মামলা হলেও পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অথচ আসামিরা এলাকায় দিব্বি ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নিতে বাদীকে দিচ্ছে হুমকি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসী রুবেলের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা ৪৭(৬)৫, ৫১(১০)১০, ১২(৮)১৬, ৩৩(৭)১৬, ৬৪(৫)১৬, ৩৪(৪)১২, ৩(১২)১৩, ১৭(৯)১৮, ৩৯(১২)১৬ নং মামলা বিচারাধীন রয়েছে। রকি খানের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ২(৫)২০, ৫১(৬)১৬, ৬(৬)১৬, ১১(৩)১৮, ১৫(১২)১৫, ১৬(১২)১৫, ১৯(১২)১৫ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২৭(২) ২১ নং মামলা রয়েছে।

অভিযোগ জানা গেছে, হামলার মূল হোতা রুবেল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। কিছুদিন আগে তাকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব-১১। পরে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। তার অন্যতম সহযোগী মামলার ৩ নং আসামি রকি খানও শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাকে কিছুদিন আগে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। সেই জামিনে বের হয়ে আসে। এই সন্ত্রাসীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বসানোসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাই এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে এলাকায় স্বস্থি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী ও সচেত এলাকাবাসী।