কুমুদিনী বাগান থেকে উচ্ছেদকৃত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করুন –আবু হাসান টিপু

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ঃ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য জননেতা কমরেড আবু হাসান টিপু বলেছেন, কুমুদিনীর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পাকিস্তান থেকে আগত উর্দুভাষী শ্রমিকেরা তৎকালীন পুর্বপাকিস্তানের বাংলাভাষী শ্রমিকের সাথে কাধেকাধ মিলিয়ে কুমুদিনীর উৎপাদনের চাকা সচল রেখেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দু দেশের শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমন্বয়হীনতার কারণে এরা পাকিস্তান ফিরতে না পেরে বাংলাদেশেই আশ্রিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ‘আটকে পড়া পাকিস্তানি’ হিসাবে মানবেতর জীবন যাপন শেষে সস্প্রতিকালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেলেও দেশের কোথাও তাদের এক খন্ডও নিজস্ব ভূমি নেই। এরা প্রত্যেকেই ভূমিহীন। অথচ এই মানুষগুলোই তিন-চার প্রজন্ম ধরে তাদের শ্রমে ঘামে সমৃদ্ধ করেছে আজকের কুমুদিনীকে।

তিনি বলেছেন, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট নারায়ণগঞ্জে একটি ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার যে মহতী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন তাতে নারায়ণগঞ্জবাসীর সার্বিক সমর্থন থাকলেও হাসপাতাল নির্মানের স্থান হিসাবে ঘোষিত কুমুদিনী বাগান থেকে ঐসকল উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন ছাড়া অমানবিক ভাবে উচ্ছেদ করা কোন ভাবেই সমর্থন করা যায় না।

আবু হাসান টিপু বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই হিন্দু মুসলিম দ্ব›েদ্ব¡¡ বিহারে সংগঠিত ভয়াবহ সা¤প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে সেখান থেকে আগত এই উর্দু ভাষাভাষীরা তখন থেকেই দীর্ঘ একশত বৎসর ধরে কুমুদিনী বাগানে বসবাস করে আসছেন। এমন কি আটকে পড়া পাকিস্তানিদের জন্য ১৯৭২-এর সরকার কর্তৃক ঘোষিত ৬৬টি কেম্পের মধ্যে কুমুদিনী বাগান ছিল অন্যতম। আর তাই এই হতদরিদ্র আশ্রয়হীন মানুষগুলোকে পুনর্বাসন না করা শুধু অমানবিক নয় অন্যায়।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাতে আবু হাসান টিপু এসব কথা বলেন।

আজ সকালে পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি শ্রমিকনেতা মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভাতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারীনেত্রী রাশিদা বেগম, শ্রমিকনেতা সাইফুল ইসলাম, রোকসানা বেগম, আইয়ুব আলী, মোক্তার হোসেন, নাছির হোসেন, খোকন রাজ প্রমূখ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সদস্য, মোক্তার হোসেন এর বার্তা থেকে প্ওায়া তথ্যে ।