নারায়ণগঞ্জ ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সানারপাড় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতায় উদ্বিগ্ন ৩৫ শিক্ষকের মুখে হাসি ফুটালো ফারুক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অগাস্ট ২০১৯
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকার মুখে হাসি ফুটালেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাজি ফারুকুল ইসলাম। শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরার স্বেচ্ছাচারিতা ও তার মেয়ে ফিরোজা বেগমের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে শিক্ষকদের বেতন পাওয়া নিশ্চিত করায় ফারুক পড়েছেন রোশানলে।

জানা গেছে, সানারপার স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকার সরকারি বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করতে গরিমশি শুরু করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরা। গত ১৭ জুলাই বেতন ভাউচার ব্যাংককে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারিত থাকলেও রওশন আরা স্বাক্ষর করেননি। ফলে সকল শিক্ষকদের বেতন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই ওই দিন সকালে স্কুলের কেরানি আলমগীর ভাউচারে স্বাক্ষর নিতে রওশন আরার কাছে গেলে তিনি তাকে অপমান অপদস্থ করেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাজী ফারুকুল ইসলামকে জানায়। খবর পেয়ে সাথে সাথে ফারুক স্কুলে এসে রওশন আরাকে বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর না করার কারণ জানতে চায়। এসময় রওশন আরার সাথে থাকা তার মেয়ে ফিরোজা বেগম উত্তেজিত হয়ে উঠে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক দীর্ঘদিন ধরে আয় ব্যয়ের হিসেব দিচ্ছেনা তাই তার মা বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করবেনা বলে জানায়। এসময় ফারুক প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, স্কুলের হিসেব নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে দন্ধ থাকলে সকল শিক্ষকদের বেতন আটকে রাখা অন্যায়। এনিয়ে ফিরোজা বেগমের সাথে ফারুকের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায় ফারুকের যুক্তিসংঙ্গত প্রতিবাদে রওশন আরা বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। স্বাক্ষর করার পর যথা সময়ে ব্যাংকে বেতন ভাউচার জমা দিতে পারায় শিক্ষক শিক্ষিকাদের মাঝে স্বস্থি ফিরে আসে।

এ দিকে শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে ফিরোজা বেগমের সাথে ফারুকের বাক বিতন্ডার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে নিজের স্বেচ্ছাচারিতা ও অপকর্ম আড়াল করার পায়তারা করছে রওশন আরা ও তার মেয়ে। বিয়ে করে স্বামীর সংসার করা ফিরোজা বেগম স্কুলের শিক্ষার্থী দাবি করে তাকে লাঞ্ছিত করার মিথ্যা অভিযোগ করে থানায়। যদিও এর সত্যতা পায়নি পুলিশ। মিথ্যা অভিযোগ করেও সুবিধা করতে না পেরে রওশন আরা ও তার মেয়ে ফিরোজা বেগম ফারুকের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। ফারুকের অভিযোগ,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরা। কিন্তু তার মেয়ে ফিরোজা বেগম স্কুলে অতিরিক্ত মাতাব্বরি করছে।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা জানায়, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরা শিক্ষকদের সরকারি বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করছিল না।স্বাক্ষর আনতে গিয়ে আপমান অপদস্থ হয়েছেন শিক্ষক(কেরানি) আলমগীর। ফারুকুল ইসলাম তা জানতে পেরে তাৎক্ষনিক স্কুলে এসে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। যে কারণে তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগও করা হয়েছে। একই কথা বলেছেন স্কুলের সহকারি লাইব্রেরিয়ান শিক্ষিকা মৌসুমী আক্তার। এছাড়াও একাধিক শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তার মেয়ের অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ নিন্দা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে একাধিক বার ফোন করা হলেও সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সানারপাড় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতায় উদ্বিগ্ন ৩৫ শিক্ষকের মুখে হাসি ফুটালো ফারুক

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অগাস্ট ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকার মুখে হাসি ফুটালেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাজি ফারুকুল ইসলাম। শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরার স্বেচ্ছাচারিতা ও তার মেয়ে ফিরোজা বেগমের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে শিক্ষকদের বেতন পাওয়া নিশ্চিত করায় ফারুক পড়েছেন রোশানলে।

জানা গেছে, সানারপার স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকার সরকারি বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করতে গরিমশি শুরু করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরা। গত ১৭ জুলাই বেতন ভাউচার ব্যাংককে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারিত থাকলেও রওশন আরা স্বাক্ষর করেননি। ফলে সকল শিক্ষকদের বেতন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই ওই দিন সকালে স্কুলের কেরানি আলমগীর ভাউচারে স্বাক্ষর নিতে রওশন আরার কাছে গেলে তিনি তাকে অপমান অপদস্থ করেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাজী ফারুকুল ইসলামকে জানায়। খবর পেয়ে সাথে সাথে ফারুক স্কুলে এসে রওশন আরাকে বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর না করার কারণ জানতে চায়। এসময় রওশন আরার সাথে থাকা তার মেয়ে ফিরোজা বেগম উত্তেজিত হয়ে উঠে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক দীর্ঘদিন ধরে আয় ব্যয়ের হিসেব দিচ্ছেনা তাই তার মা বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করবেনা বলে জানায়। এসময় ফারুক প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, স্কুলের হিসেব নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে দন্ধ থাকলে সকল শিক্ষকদের বেতন আটকে রাখা অন্যায়। এনিয়ে ফিরোজা বেগমের সাথে ফারুকের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায় ফারুকের যুক্তিসংঙ্গত প্রতিবাদে রওশন আরা বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। স্বাক্ষর করার পর যথা সময়ে ব্যাংকে বেতন ভাউচার জমা দিতে পারায় শিক্ষক শিক্ষিকাদের মাঝে স্বস্থি ফিরে আসে।

এ দিকে শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে ফিরোজা বেগমের সাথে ফারুকের বাক বিতন্ডার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে নিজের স্বেচ্ছাচারিতা ও অপকর্ম আড়াল করার পায়তারা করছে রওশন আরা ও তার মেয়ে। বিয়ে করে স্বামীর সংসার করা ফিরোজা বেগম স্কুলের শিক্ষার্থী দাবি করে তাকে লাঞ্ছিত করার মিথ্যা অভিযোগ করে থানায়। যদিও এর সত্যতা পায়নি পুলিশ। মিথ্যা অভিযোগ করেও সুবিধা করতে না পেরে রওশন আরা ও তার মেয়ে ফিরোজা বেগম ফারুকের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। ফারুকের অভিযোগ,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরা। কিন্তু তার মেয়ে ফিরোজা বেগম স্কুলে অতিরিক্ত মাতাব্বরি করছে।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা জানায়, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরা শিক্ষকদের সরকারি বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করছিল না।স্বাক্ষর আনতে গিয়ে আপমান অপদস্থ হয়েছেন শিক্ষক(কেরানি) আলমগীর। ফারুকুল ইসলাম তা জানতে পেরে তাৎক্ষনিক স্কুলে এসে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। যে কারণে তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগও করা হয়েছে। একই কথা বলেছেন স্কুলের সহকারি লাইব্রেরিয়ান শিক্ষিকা মৌসুমী আক্তার। এছাড়াও একাধিক শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তার মেয়ের অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ নিন্দা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে একাধিক বার ফোন করা হলেও সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি।