সংবাদ শিরোনাম ::
নাসিক ৩নং ওয়ার্ডে নতুন নেতৃত্বের ডাক : কাউন্সিলর পদে আলোচনায় এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় এগিয়ে আসতে হবে : এমপি মান্নান বাবার জন্য ভালোবাসা ও দোয়া: সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রানার পিতার বিংশতম মৃত্যুবার্ষিকী আড়াইহাজারে সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Vibra con los casinos que marcan tendencia en entretenimiento আড়াইহাজার উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের মতবিনিময় বিএনপি নেতা মামুনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ মাদকের আখড়ায় পরিণত সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা সাংবাদিক কাজী মোদাচ্ছের হোসেন সুলতান এর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সিদ্ধিরগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় হামলা, মারধর : নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট

পানি ব্যবসায় পোষায়না তাই তিনি ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯
  • ৩০৭ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ এইচএসসি পাস করে একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন মোস্তাক আহমেদ করিম। পরে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ফার্ণিচার ব্যবসা। সফল হতে না পেরে পানি বোতলজাত করে পাড়া মহল্লার দোকানে নিজেই সরবরাহ করেন। পানি ব্যবসাও আলোর মূখ দেখছেনা। তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি সরবরাহ করে বিকেলে কয়েকটি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে বসে এমবিবিএস ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন তিনি। ফি নেন দুইশ টাকা।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় হক সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিউ মুক্তি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে বসে রোগী দেখার সময় গত সোমবার রাত ৯ টায় ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। অভিযানের সময় ৫ জন রোগী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দুইজন ছিলেন পুরনো রোগী। তারা আসছেন ডাক্তারের দেয়া এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে।

ধৃত করিম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সালেহাকান্দি এলাকার মৃত রহিম মন্ডলের ছেলে। ভাড়া থাকের ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায়। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলে হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে নামে মাত্র একটি ভূয়া কারখানা গড়ে তুলে পানি ব্যবসা করেন। নলকুপের পানি বোতলে ভরে মিনারেল বলে বিক্রি করেন করিম। তার এ প্রতারনা বিষয়ে অনেকই অবগত। তাই তার পানি বেশি বিক্রি হয়না।

নিজের দোষ স্বীকার করে ভূয়া ডাক্তার করিম জানান,তিনি ডাক্তার না। তার নামের সাথে মিল থাকা সরকারি নিবন্ধনকৃত (২৬৬৩৩ নং) ডাক্তার মো: মোস্তাক আহমেদ এর কোড ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস(ডি-অর্থো),পিজিটি(ডি-অর্থো),পিজিটি(ইমনটি ও হৃদরোগ), চীফ মেডিকেল অফিসার,হাড়জোড়া, বাত ব্যাথা, মেরুদন্ড বিশেজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে প্যাড ছাপিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে বিগত ১৫ বছর ধরে ডাক্তার সেজে রোগী দেখে আসছেন। বসেন বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। এমন কাজ আর জীবনে করবেনা দুই কান ধরে প্রতিশ্রতি দিয়ে তাকে আটক না করে অর্থ জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য র‌্যাব কর্মকর্তাদের অনুরোধও করেন এই ভূয়া ডাক্তার।

সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ভূমিপল্লীর আবদুল আলীম ও পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার শাহজালাল জানান, ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দালালদের প্রলোভনে পরে ভাল ডাক্তার মনে করেই মোস্তাক আহমেদ করিমের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রথম দিনে কিছু ওষুধ আর কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছিল। সেই সব পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আবার ডাক্তারকে দেখাতে তারা এসেছেন। রিপোর্টক দেখানোর আগেই র‌্যাব অভিযান চালায় বলে জানায় তারা।

র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরধারীতে নিশ্চিত হয়ে নিউ মুক্তি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এক সময়ের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী এইচএসসি পাস ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে রোগী দেখার সময় হাতে নাতে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

নাসিক ৩নং ওয়ার্ডে নতুন নেতৃত্বের ডাক : কাউন্সিলর পদে আলোচনায় এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান

পানি ব্যবসায় পোষায়না তাই তিনি ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন

আপডেট সময় : ১১:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ এইচএসসি পাস করে একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন মোস্তাক আহমেদ করিম। পরে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ফার্ণিচার ব্যবসা। সফল হতে না পেরে পানি বোতলজাত করে পাড়া মহল্লার দোকানে নিজেই সরবরাহ করেন। পানি ব্যবসাও আলোর মূখ দেখছেনা। তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি সরবরাহ করে বিকেলে কয়েকটি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে বসে এমবিবিএস ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন তিনি। ফি নেন দুইশ টাকা।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় হক সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিউ মুক্তি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে বসে রোগী দেখার সময় গত সোমবার রাত ৯ টায় ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। অভিযানের সময় ৫ জন রোগী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দুইজন ছিলেন পুরনো রোগী। তারা আসছেন ডাক্তারের দেয়া এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে।

ধৃত করিম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সালেহাকান্দি এলাকার মৃত রহিম মন্ডলের ছেলে। ভাড়া থাকের ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায়। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলে হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে নামে মাত্র একটি ভূয়া কারখানা গড়ে তুলে পানি ব্যবসা করেন। নলকুপের পানি বোতলে ভরে মিনারেল বলে বিক্রি করেন করিম। তার এ প্রতারনা বিষয়ে অনেকই অবগত। তাই তার পানি বেশি বিক্রি হয়না।

নিজের দোষ স্বীকার করে ভূয়া ডাক্তার করিম জানান,তিনি ডাক্তার না। তার নামের সাথে মিল থাকা সরকারি নিবন্ধনকৃত (২৬৬৩৩ নং) ডাক্তার মো: মোস্তাক আহমেদ এর কোড ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস(ডি-অর্থো),পিজিটি(ডি-অর্থো),পিজিটি(ইমনটি ও হৃদরোগ), চীফ মেডিকেল অফিসার,হাড়জোড়া, বাত ব্যাথা, মেরুদন্ড বিশেজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে প্যাড ছাপিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে বিগত ১৫ বছর ধরে ডাক্তার সেজে রোগী দেখে আসছেন। বসেন বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। এমন কাজ আর জীবনে করবেনা দুই কান ধরে প্রতিশ্রতি দিয়ে তাকে আটক না করে অর্থ জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য র‌্যাব কর্মকর্তাদের অনুরোধও করেন এই ভূয়া ডাক্তার।

সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ভূমিপল্লীর আবদুল আলীম ও পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার শাহজালাল জানান, ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দালালদের প্রলোভনে পরে ভাল ডাক্তার মনে করেই মোস্তাক আহমেদ করিমের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রথম দিনে কিছু ওষুধ আর কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছিল। সেই সব পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আবার ডাক্তারকে দেখাতে তারা এসেছেন। রিপোর্টক দেখানোর আগেই র‌্যাব অভিযান চালায় বলে জানায় তারা।

র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরধারীতে নিশ্চিত হয়ে নিউ মুক্তি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এক সময়ের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী এইচএসসি পাস ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে রোগী দেখার সময় হাতে নাতে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।