নারায়ণগঞ্জ ১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাজীগঞ্জ ফেরিঘাটে র্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ যুবক গ্রেপ্তার ফতুল্লায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার কল্যাণ তহবিলের চেক বিতরণে -রাষ্ট্র ও প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে : ডিসি রায়হান, কবির নারায়ণগঞ্জে রেল সেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটা প্রকল্পেরই অংশ: রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নারায়ণগঞ্জে এইচএসি কেন্দ্র পরিদর্শন: ‘সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নের প্রত্যাশা’ ডিসির ফতুল্লায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, দুই ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির উদ্যোগ ডিসির সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যক্তিকে পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে শিক্ষা-থেরাপি সামগ্রী বিতরণ করেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন দক্ষতাই স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মূল হাতিয়ার’: ডিসি রায়হান কবির

পানি ব্যবসায় পোষায়না তাই তিনি ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯
  • ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ এইচএসসি পাস করে একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন মোস্তাক আহমেদ করিম। পরে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ফার্ণিচার ব্যবসা। সফল হতে না পেরে পানি বোতলজাত করে পাড়া মহল্লার দোকানে নিজেই সরবরাহ করেন। পানি ব্যবসাও আলোর মূখ দেখছেনা। তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি সরবরাহ করে বিকেলে কয়েকটি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে বসে এমবিবিএস ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন তিনি। ফি নেন দুইশ টাকা।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় হক সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিউ মুক্তি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে বসে রোগী দেখার সময় গত সোমবার রাত ৯ টায় ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। অভিযানের সময় ৫ জন রোগী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দুইজন ছিলেন পুরনো রোগী। তারা আসছেন ডাক্তারের দেয়া এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে।

ধৃত করিম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সালেহাকান্দি এলাকার মৃত রহিম মন্ডলের ছেলে। ভাড়া থাকের ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায়। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলে হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে নামে মাত্র একটি ভূয়া কারখানা গড়ে তুলে পানি ব্যবসা করেন। নলকুপের পানি বোতলে ভরে মিনারেল বলে বিক্রি করেন করিম। তার এ প্রতারনা বিষয়ে অনেকই অবগত। তাই তার পানি বেশি বিক্রি হয়না।

নিজের দোষ স্বীকার করে ভূয়া ডাক্তার করিম জানান,তিনি ডাক্তার না। তার নামের সাথে মিল থাকা সরকারি নিবন্ধনকৃত (২৬৬৩৩ নং) ডাক্তার মো: মোস্তাক আহমেদ এর কোড ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস(ডি-অর্থো),পিজিটি(ডি-অর্থো),পিজিটি(ইমনটি ও হৃদরোগ), চীফ মেডিকেল অফিসার,হাড়জোড়া, বাত ব্যাথা, মেরুদন্ড বিশেজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে প্যাড ছাপিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে বিগত ১৫ বছর ধরে ডাক্তার সেজে রোগী দেখে আসছেন। বসেন বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। এমন কাজ আর জীবনে করবেনা দুই কান ধরে প্রতিশ্রতি দিয়ে তাকে আটক না করে অর্থ জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য র‌্যাব কর্মকর্তাদের অনুরোধও করেন এই ভূয়া ডাক্তার।

সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ভূমিপল্লীর আবদুল আলীম ও পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার শাহজালাল জানান, ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দালালদের প্রলোভনে পরে ভাল ডাক্তার মনে করেই মোস্তাক আহমেদ করিমের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রথম দিনে কিছু ওষুধ আর কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছিল। সেই সব পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আবার ডাক্তারকে দেখাতে তারা এসেছেন। রিপোর্টক দেখানোর আগেই র‌্যাব অভিযান চালায় বলে জানায় তারা।

র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরধারীতে নিশ্চিত হয়ে নিউ মুক্তি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এক সময়ের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী এইচএসসি পাস ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে রোগী দেখার সময় হাতে নাতে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জ ফেরিঘাটে র্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ যুবক গ্রেপ্তার

পানি ব্যবসায় পোষায়না তাই তিনি ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন

আপডেট সময় : ১১:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ এইচএসসি পাস করে একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন মোস্তাক আহমেদ করিম। পরে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ফার্ণিচার ব্যবসা। সফল হতে না পেরে পানি বোতলজাত করে পাড়া মহল্লার দোকানে নিজেই সরবরাহ করেন। পানি ব্যবসাও আলোর মূখ দেখছেনা। তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি সরবরাহ করে বিকেলে কয়েকটি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে বসে এমবিবিএস ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন তিনি। ফি নেন দুইশ টাকা।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় হক সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিউ মুক্তি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে বসে রোগী দেখার সময় গত সোমবার রাত ৯ টায় ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। অভিযানের সময় ৫ জন রোগী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দুইজন ছিলেন পুরনো রোগী। তারা আসছেন ডাক্তারের দেয়া এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে।

ধৃত করিম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সালেহাকান্দি এলাকার মৃত রহিম মন্ডলের ছেলে। ভাড়া থাকের ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায়। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলে হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে নামে মাত্র একটি ভূয়া কারখানা গড়ে তুলে পানি ব্যবসা করেন। নলকুপের পানি বোতলে ভরে মিনারেল বলে বিক্রি করেন করিম। তার এ প্রতারনা বিষয়ে অনেকই অবগত। তাই তার পানি বেশি বিক্রি হয়না।

নিজের দোষ স্বীকার করে ভূয়া ডাক্তার করিম জানান,তিনি ডাক্তার না। তার নামের সাথে মিল থাকা সরকারি নিবন্ধনকৃত (২৬৬৩৩ নং) ডাক্তার মো: মোস্তাক আহমেদ এর কোড ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস(ডি-অর্থো),পিজিটি(ডি-অর্থো),পিজিটি(ইমনটি ও হৃদরোগ), চীফ মেডিকেল অফিসার,হাড়জোড়া, বাত ব্যাথা, মেরুদন্ড বিশেজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে প্যাড ছাপিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে বিগত ১৫ বছর ধরে ডাক্তার সেজে রোগী দেখে আসছেন। বসেন বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। এমন কাজ আর জীবনে করবেনা দুই কান ধরে প্রতিশ্রতি দিয়ে তাকে আটক না করে অর্থ জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য র‌্যাব কর্মকর্তাদের অনুরোধও করেন এই ভূয়া ডাক্তার।

সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ভূমিপল্লীর আবদুল আলীম ও পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার শাহজালাল জানান, ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দালালদের প্রলোভনে পরে ভাল ডাক্তার মনে করেই মোস্তাক আহমেদ করিমের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রথম দিনে কিছু ওষুধ আর কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছিল। সেই সব পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আবার ডাক্তারকে দেখাতে তারা এসেছেন। রিপোর্টক দেখানোর আগেই র‌্যাব অভিযান চালায় বলে জানায় তারা।

র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরধারীতে নিশ্চিত হয়ে নিউ মুক্তি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এক সময়ের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী এইচএসসি পাস ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে রোগী দেখার সময় হাতে নাতে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।