নারায়ণগঞ্জ ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিদ্ধিরগঞ্জে মসজিদের বিরোধ নিস্পত্তি করায় হাজী ইয়াসিন মিয়ার বিরুদ্ধে অপবাদ সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসী পানি আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা সিদ্ধিরগঞ্জে অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নাঈম নিহত সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখল করতে সজু বাহিনীর হামলা আদমজী ইপিজেডের ব্যবসা ছিনিয়ে নিতে আক্তার বাহিনীর হামলায় আহত-২ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জে দেলোয়ারকে সংবর্ধনা ডিসিদের প্রতি ২৫ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে মেরাজ সিদ্ধিরগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ৬ সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযানে  ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ভোক্তা অধিকার

ধর্ষণ করা হতো হুজুরের কথা না শোনলে জাহান্নামে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০১৯
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : হুজুরের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করা জায়েজ, হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শোনলে গোনাহ হবে, জাহান্নামে যাবে, এমন মনগড়া হাদিস ও ফতোয়া শোনিয়ে ১১ জন ছাত্রীকে ৩ বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভূঁইগড় এলাকার দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওরফে বড় হুজুর মো: মোস্তাফিজুর রহমান জসিম (২৯)। বাদ যায়নি নিকটাতœীয় ৮ বছরের এক শিশু। এই হুজুরের লালসার শিকার ছাত্রীদের বয়স ১০ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলেপ উদ্দিন স্বাক্ষরীত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারী লিপ্সু বড় হুজুরের স্বীকারোক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তার মিথ্যা প্রলোভন ও ফাঁদে না পড়লে ছাত্রীদের জোর করে ধর্ষণ করতো। ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করে ছাত্রীদের দেখিয়ে কাউকে বললে চরিত্রহীন অখ্যা দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেড় করে দেওয়ার হুমকি দিতো। ফলে ভয়ে ছাত্রীরা মুখ খোলেনি। এছাড়াও মিথ্যা হাদিস বলে অভিভাবক ও স্বাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয়েছে বলে ছাত্রীদের স্ত্রীর মত ব্যবহার করতো। খায়েস মিঠে গেলে আবার মিথ্যা হাদিস বলে তালাক হয়ে যাওয়ার কথা বলে মাদ্রাসা থেকে বেড় করে দিতো।

নেত্রকোনা জেলার লক্ষীগঞ্জ কাওয়ালী কোণা গ্রামের মো: ওয়াজেদ আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ৬ বছর আগে ভুঁইগড় এলাকায় দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রসার একটি অংশে সে তার পরিবার নিয়ে বসবাস ও অপর অংশে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা করতো।

র‌্যাব জানায়,অভিভাবক ও ছাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে গত শনিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা থেকে বড় হুজুর খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান জসিমকে আটক করা হয়। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় র‌্যাব।

উল্লেখ্য, ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকায় ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্য মাওলানা মো: আল আমিনকে গত ৪ জুলাই গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার আগে ২৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড স্কুলের বিশ ছাত্রীকে ৪ বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে সহকারী শিক আরিফুল ইসলাম সরকারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তারা দুজনই জেল হাজতে রয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়ছে অভিভাবক মহল।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জে মসজিদের বিরোধ নিস্পত্তি করায় হাজী ইয়াসিন মিয়ার বিরুদ্ধে অপবাদ

ধর্ষণ করা হতো হুজুরের কথা না শোনলে জাহান্নামে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে

আপডেট সময় : ০৩:০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : হুজুরের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করা জায়েজ, হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শোনলে গোনাহ হবে, জাহান্নামে যাবে, এমন মনগড়া হাদিস ও ফতোয়া শোনিয়ে ১১ জন ছাত্রীকে ৩ বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভূঁইগড় এলাকার দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওরফে বড় হুজুর মো: মোস্তাফিজুর রহমান জসিম (২৯)। বাদ যায়নি নিকটাতœীয় ৮ বছরের এক শিশু। এই হুজুরের লালসার শিকার ছাত্রীদের বয়স ১০ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলেপ উদ্দিন স্বাক্ষরীত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারী লিপ্সু বড় হুজুরের স্বীকারোক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তার মিথ্যা প্রলোভন ও ফাঁদে না পড়লে ছাত্রীদের জোর করে ধর্ষণ করতো। ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করে ছাত্রীদের দেখিয়ে কাউকে বললে চরিত্রহীন অখ্যা দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেড় করে দেওয়ার হুমকি দিতো। ফলে ভয়ে ছাত্রীরা মুখ খোলেনি। এছাড়াও মিথ্যা হাদিস বলে অভিভাবক ও স্বাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয়েছে বলে ছাত্রীদের স্ত্রীর মত ব্যবহার করতো। খায়েস মিঠে গেলে আবার মিথ্যা হাদিস বলে তালাক হয়ে যাওয়ার কথা বলে মাদ্রাসা থেকে বেড় করে দিতো।

নেত্রকোনা জেলার লক্ষীগঞ্জ কাওয়ালী কোণা গ্রামের মো: ওয়াজেদ আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ৬ বছর আগে ভুঁইগড় এলাকায় দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রসার একটি অংশে সে তার পরিবার নিয়ে বসবাস ও অপর অংশে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা করতো।

র‌্যাব জানায়,অভিভাবক ও ছাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে গত শনিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা থেকে বড় হুজুর খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান জসিমকে আটক করা হয়। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় র‌্যাব।

উল্লেখ্য, ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকায় ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্য মাওলানা মো: আল আমিনকে গত ৪ জুলাই গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার আগে ২৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড স্কুলের বিশ ছাত্রীকে ৪ বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে সহকারী শিক আরিফুল ইসলাম সরকারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তারা দুজনই জেল হাজতে রয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়ছে অভিভাবক মহল।