নারায়ণগঞ্জ ০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে মিতালী মাকেটে নেতৃত্বের দন্ধ আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ৬ সহাস্রাধিক সদস্য

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড সাহেবপাড়া এলাকায় মিতালী মার্কেট দোকানদার সমিতির নেতৃত্বের দন্ধে লাখ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ৬ সহাস্রাধিক সদস্য। ১২ একর জমিতে গড়ে উঠা দেশের বৃহত্তম এই মার্কেটের নেতৃত্বের লড়াই আর মামলা হামালার জটলায় উদ্ধিগ্ন দোকান মালিকরা। আদালতে গিয়েও নেতৃত্বের বিরোধ অবসান হচ্ছে না দুই যুগেও। ফলে দোকান কিনেও দখল বুঝে পাচ্ছেন না হাজার হাজার সদস্য।

সোমবার সাধারণ সভা আহবান করেও মার্কেটে আসেননি বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ বিরোধী গ্রুপ। সংঘর্ষ এড়াতে সকাল থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ইব্রাহীম পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মার্কেটে অবস্থান নেয়। ফলে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি। সভা না করার কারণ জানতে খুজে পাওয়া যায়নি সমিতির আহবায়ক দাবিদার জামানকে। পরে জানা গেছে, তাকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে গেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর সত্যতা শিকার জেলার ডিআই-২ সাজ্জাদ রোমন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে জামানকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয়েছে। মার্কেটের বিরোধ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অভিযোগ জানা গেছে, ১৯৯০ সালে মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে যারাই নেতৃত্ব দিয়েছে তারাই করেছে অনিয়ম দুর্নীতি। লুটপাট করেছে দোকান বিক্রির কোটি কোটি টাকা। জমি না কিনেই ভূয়া নকশা তৈরি করে দোকান বিক্রি করার জালিয়াতিও করা হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা দোকান বিক্রি করে পকেটস্থ করেছে নেতারা। অনিয়ম দুর্নীতির কারণে হাজার হাজার দোকান খালি পড়ে রয়েছে। অর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আসঙ্কায় দোকান চালু করছেন না বলে জানায় একাধিক দোকান মালিক। কারণ, দোকান চালু করলেই মাসিক ভাড়া ও বিভিন্ন চাঁদা দিতে হয়। ভাড়া আর চাঁদা দিয়ে চালান শূন্য হয়ে ব্যবসা ছেড়েছে বহু দোকানদার। অভিযোগ রয়েছে, মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি রফিকুল ইসলাম বহু লোকজনের জমি জবর দখল করার মামলার কারণে বন্ধ রয়েছে ভবন নির্মাণ কাজ।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, মার্কেটের দোকানদার সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে দু‘টি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ও একাধিকবার সংঘর্ষ হলে তা আদালতে গড়ায়। মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন (নং-৫৪১৭/১৬) প্রদত্ত রায়ে অত্র সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ২ হাজার ১৭ সালের ২২ অক্টোবর ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সে নির্দেশনা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ শ্রম অধিদপ্তর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর শামছুল ইসলাম তানভীর আহবায়ক ও মোঃ বেলায়েত হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করে। ওই আহবায়ক কমিটির সদস্যরা ২ হাজার ১৮ সালের ১০ মার্চ ভোট গ্রহনের তারিখ ধার্য্য করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন। ওই নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া সভাপতি ও মো: ফেরদৌস আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নিসেবে ২৯ সদস্যের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত হয়ে মার্কেটে পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নিলেও সাবেক কমিটির লোকজন আয় ব্যয়ের হিসেবে ও মার্কেটের জমি কিনার দলিল, দোকান বিক্রির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়নি। তারা নির্বাচিত কমিটিকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে পর পর তিনটি রিট করে। একটি রিটে হাইকোর্ট মার্কেটে সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে নির্বাচিত কমিটি কোন কাজ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত রিট শুনানী শেষে রিটকারী মো: জামানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেয়। রিট খারিজ হওয়ার পর নির্বাচিত কমিটি কার্যক্রম শুরু করায় সাবেক কমিটির লোকজনের অনিয়ম দুর্নীতি আর কোটি কোটি টাকা লোপাট ধরা পড়ে। অর্থ আতœসাতের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করা হয়। অর্থ লোপাটের অভিযোগ তুলে গত ১২ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেছে কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতারা।

এ বিষয়ে সভাপতি হাজী ইয়াছিন মিয়া জানান, হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ শ্রম অধিদপ্তরের নির্দেশনায় গঠিত নির্বাচন কমিশনের নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। নির্বাচন বাতিল করতে হাইকোর্টে তিনটি রিট পিটিশন করা হয়েছিল। যা খারিজ করেছে হাইকোর্ট। তার পর থেকে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে তারা মার্কেটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কাজ করতে কোন আইনী বাধা না থাকায় অতিতের সকল অনিয়ম দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে মার্কেটে সুন্দর পরিবেশ তৈরি ও ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের পূনর্বাসন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সিদ্ধিরগঞ্জে মিতালী মাকেটে নেতৃত্বের দন্ধ আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ৬ সহাস্রাধিক সদস্য

আপডেট সময় : ১২:৫৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড সাহেবপাড়া এলাকায় মিতালী মার্কেট দোকানদার সমিতির নেতৃত্বের দন্ধে লাখ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ৬ সহাস্রাধিক সদস্য। ১২ একর জমিতে গড়ে উঠা দেশের বৃহত্তম এই মার্কেটের নেতৃত্বের লড়াই আর মামলা হামালার জটলায় উদ্ধিগ্ন দোকান মালিকরা। আদালতে গিয়েও নেতৃত্বের বিরোধ অবসান হচ্ছে না দুই যুগেও। ফলে দোকান কিনেও দখল বুঝে পাচ্ছেন না হাজার হাজার সদস্য।

সোমবার সাধারণ সভা আহবান করেও মার্কেটে আসেননি বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ বিরোধী গ্রুপ। সংঘর্ষ এড়াতে সকাল থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ইব্রাহীম পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মার্কেটে অবস্থান নেয়। ফলে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি। সভা না করার কারণ জানতে খুজে পাওয়া যায়নি সমিতির আহবায়ক দাবিদার জামানকে। পরে জানা গেছে, তাকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে গেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর সত্যতা শিকার জেলার ডিআই-২ সাজ্জাদ রোমন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে জামানকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয়েছে। মার্কেটের বিরোধ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অভিযোগ জানা গেছে, ১৯৯০ সালে মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে যারাই নেতৃত্ব দিয়েছে তারাই করেছে অনিয়ম দুর্নীতি। লুটপাট করেছে দোকান বিক্রির কোটি কোটি টাকা। জমি না কিনেই ভূয়া নকশা তৈরি করে দোকান বিক্রি করার জালিয়াতিও করা হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা দোকান বিক্রি করে পকেটস্থ করেছে নেতারা। অনিয়ম দুর্নীতির কারণে হাজার হাজার দোকান খালি পড়ে রয়েছে। অর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আসঙ্কায় দোকান চালু করছেন না বলে জানায় একাধিক দোকান মালিক। কারণ, দোকান চালু করলেই মাসিক ভাড়া ও বিভিন্ন চাঁদা দিতে হয়। ভাড়া আর চাঁদা দিয়ে চালান শূন্য হয়ে ব্যবসা ছেড়েছে বহু দোকানদার। অভিযোগ রয়েছে, মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি রফিকুল ইসলাম বহু লোকজনের জমি জবর দখল করার মামলার কারণে বন্ধ রয়েছে ভবন নির্মাণ কাজ।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, মার্কেটের দোকানদার সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে দু‘টি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ও একাধিকবার সংঘর্ষ হলে তা আদালতে গড়ায়। মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন (নং-৫৪১৭/১৬) প্রদত্ত রায়ে অত্র সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ২ হাজার ১৭ সালের ২২ অক্টোবর ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সে নির্দেশনা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ শ্রম অধিদপ্তর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর শামছুল ইসলাম তানভীর আহবায়ক ও মোঃ বেলায়েত হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করে। ওই আহবায়ক কমিটির সদস্যরা ২ হাজার ১৮ সালের ১০ মার্চ ভোট গ্রহনের তারিখ ধার্য্য করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন। ওই নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া সভাপতি ও মো: ফেরদৌস আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নিসেবে ২৯ সদস্যের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত হয়ে মার্কেটে পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নিলেও সাবেক কমিটির লোকজন আয় ব্যয়ের হিসেবে ও মার্কেটের জমি কিনার দলিল, দোকান বিক্রির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়নি। তারা নির্বাচিত কমিটিকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে পর পর তিনটি রিট করে। একটি রিটে হাইকোর্ট মার্কেটে সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে নির্বাচিত কমিটি কোন কাজ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত রিট শুনানী শেষে রিটকারী মো: জামানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেয়। রিট খারিজ হওয়ার পর নির্বাচিত কমিটি কার্যক্রম শুরু করায় সাবেক কমিটির লোকজনের অনিয়ম দুর্নীতি আর কোটি কোটি টাকা লোপাট ধরা পড়ে। অর্থ আতœসাতের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করা হয়। অর্থ লোপাটের অভিযোগ তুলে গত ১২ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেছে কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতারা।

এ বিষয়ে সভাপতি হাজী ইয়াছিন মিয়া জানান, হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ শ্রম অধিদপ্তরের নির্দেশনায় গঠিত নির্বাচন কমিশনের নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। নির্বাচন বাতিল করতে হাইকোর্টে তিনটি রিট পিটিশন করা হয়েছিল। যা খারিজ করেছে হাইকোর্ট। তার পর থেকে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে তারা মার্কেটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কাজ করতে কোন আইনী বাধা না থাকায় অতিতের সকল অনিয়ম দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে মার্কেটে সুন্দর পরিবেশ তৈরি ও ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের পূনর্বাসন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।