নারায়ণগঞ্জ ০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওয়াজ থেকে ফেরার পথে ডাকাতির মুখে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১২ রূপগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই জন নিহত আড়াইহাজারের যুবদল নেতাকে সোনারগাঁয়ে কুপিয়ে হত্যা সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নেপথ্যে সাবেক কাউন্সিলর বাদলের সহযোগীদের দাবি প্রবাসের মাটিতে বাংলা গানের সুর ছড়াতে রিয়াদে সংগীতশিল্পী তাসলিমা মৌর ‘মিট দ্য প্রেস’ নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও ৫ নম্বর ঘাট বিসর্জনস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৪ সুবিধাবাদী বিএনপি নেতাদের শেল্টারে আওয়ামী দোসর মাসুম রূপগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা; ছাত্র গ্রেফতার

সিদ্ধিরগঞ্জে কোটিপতি মোক্তার দখল করেছে কাঙ্গালের জমি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০১৯
  • ৪০১ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে কোটিপতি মোক্তার হোসেন দখল করেছে কাঙ্গালের জমি। স্থানীয় টাউট মাদবরদের ম্যানেজ করে নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় আরশাদ আলী নামে এক ব্যক্তির দখলীয় আধা শতাংশ সরকারি জমি দখল করে মোক্তার। এসময় আরশাদ আলীর ছেলে রস্তম আলী প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এমনকি জমি দখলের বিষয়ে থানা পুলিশকে জানালে পিটিয়ে এলাকা থেকে বিতারিত করার হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে ভোক্তভূগী পরিবার আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পাচ্ছে বলে জানায়।

অভিযোগ জানা গেছে, নাসিক ১ নং ওয়ার্ড হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দা কোটিপতি মোক্তার হোসেন অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রোববার সকালে ৩ নং ওয়ার্ডে গিয়ে আরশাদ আলীর স্পাপনা ভেঙ্গে আধা শতাংশ জমি দখল করে। এসময় আশাদ আলীর পরিবার বাধা দেয়। খবর না দিলেও মোক্তারের ম্যানেজ করা মুক্তিনগর এলাকার কয়েকজন টাউট মাদবর ঘটনাস্থলে যথাসময়ে হাজির হয়ে জমি দখলে কোন বাধা না দেওয়ার পরামর্শ দেয়। সরকারি জমি নিয়ে মোক্তারের সাথে ভেজাল করে পারবে না বলে বুঝায় টাউট মাদবররা। কিন্তু আরশাদ আলীর ছেলে রস্তম আলী টাউট মাদবরদের পাত্তা না দিয়ে জোর প্রাতবাদ জানায়। জমির কাগজপত্র দেখাতে বলে রস্তম আলী। যদি কাগজে মোক্তার মালিক হয় তাহলে স্বেচ্ছায় জমির দখল ছেড়ে দিবে বলে অনুরোধ জানায় রস্তম আলী। তখন রস্তম আলীর যুক্তিসঙ্গত কথা সমর্থন দেয় মুক্তিনগর এলাকার পঞ্ছায়েত মাদবর মো: জিয়াউল হক। প্রশ্ন উঠে দু,পক্ষের কাগজপত্র দেখে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে এই জমি কে ভোগ দখল করবে। কিন্তু মোক্তার সোমবার সকালে রাস্তার জন্য সামান্য জমি রেখে বাকিটুকু ইটের দেওয়াল নির্মাণ করে ফেলে। রোববারে উপস্থিত মাদবরদের বিষয়টি জানালে তারা এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে চায়না।

আরশাদ আলীর পরিবারের অভিযোগ, দেয়াল নির্মাণে বাধা দিলে মোক্তারের কিনা সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। এমনকি থানায় গেলে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। তাই জীবনের ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পাচ্ছিনা।

স্থানীয়রা জানায়, মরহুম বিল্লাল হোসেন এবং আরশাদ আলী দুজনই ক্রয় সূত্রে মালিক। আরশাদ আলী বাড়ী-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে কমপক্ষে ৪০ বছর ধরে। আর বিল্লাল কিনেছে ৭/৮ বছর হয়। যা এখনো খালি পড়ে রয়েছে। জমির প্রকৃত মালিকের ছেলে উপস্থিত শতাধিক লোকজনের সামনে চিৎকার করেই বলেছে, আলোচিত ৭ খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের সহায়তায় আমার পিতাকে জোর করে ধরে নিয়ে হত্যা করার হুমকি দিয়ে মোক্তারের ভাই বিল্লাল এই জমি নামে মাত্র দামে কিনে নেয়। সেই দুঃখে তার বাবা মারা যায়। আর যে জমি মোক্তার দখল করেছে তা বিক্রি করা হয়নি। এসময় মোক্তারের সন্ত্রাসীরা তাকে মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

অভিযোগ রয়েছে, হীরাঝিল এলাকায় হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের পিছনে ডিএনডি পানি নিস্কাসন খালের অংশিক সরকারি জমি দখল করে মোক্তার বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। সরকারি জমি দখল করা তার পুরনো অভ্যাস বলে জানায় স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মোক্তার হোসেন জানায়, এটা তার ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমি। আরশাদ আলীর পরিবার জোর করে জায়গাটি দখল করে রেখেছিল। আমি কারো জমি দখল করিনি। জমিটি সরকারি কিনা জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি কিনে নিয়েছি।

আরশাদ আলী জানায়, প্রকৃতপক্ষে জমিটি সরকারি। আমার ক্রয়কৃত জমি থেকেই সরকার একুয়ার করেছে বিধায় ওই জমি ভোগ দখলের অধিকার আমার বেশি। তাই সরেজমিন পরিদর্শন করে ভূমিদস্যু মোক্তার ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করতে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বৃদ্ধ আরশাদ আলী ও তার পরিবার।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াজ থেকে ফেরার পথে ডাকাতির মুখে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী

সিদ্ধিরগঞ্জে কোটিপতি মোক্তার দখল করেছে কাঙ্গালের জমি

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে কোটিপতি মোক্তার হোসেন দখল করেছে কাঙ্গালের জমি। স্থানীয় টাউট মাদবরদের ম্যানেজ করে নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় আরশাদ আলী নামে এক ব্যক্তির দখলীয় আধা শতাংশ সরকারি জমি দখল করে মোক্তার। এসময় আরশাদ আলীর ছেলে রস্তম আলী প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এমনকি জমি দখলের বিষয়ে থানা পুলিশকে জানালে পিটিয়ে এলাকা থেকে বিতারিত করার হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে ভোক্তভূগী পরিবার আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পাচ্ছে বলে জানায়।

অভিযোগ জানা গেছে, নাসিক ১ নং ওয়ার্ড হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দা কোটিপতি মোক্তার হোসেন অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রোববার সকালে ৩ নং ওয়ার্ডে গিয়ে আরশাদ আলীর স্পাপনা ভেঙ্গে আধা শতাংশ জমি দখল করে। এসময় আশাদ আলীর পরিবার বাধা দেয়। খবর না দিলেও মোক্তারের ম্যানেজ করা মুক্তিনগর এলাকার কয়েকজন টাউট মাদবর ঘটনাস্থলে যথাসময়ে হাজির হয়ে জমি দখলে কোন বাধা না দেওয়ার পরামর্শ দেয়। সরকারি জমি নিয়ে মোক্তারের সাথে ভেজাল করে পারবে না বলে বুঝায় টাউট মাদবররা। কিন্তু আরশাদ আলীর ছেলে রস্তম আলী টাউট মাদবরদের পাত্তা না দিয়ে জোর প্রাতবাদ জানায়। জমির কাগজপত্র দেখাতে বলে রস্তম আলী। যদি কাগজে মোক্তার মালিক হয় তাহলে স্বেচ্ছায় জমির দখল ছেড়ে দিবে বলে অনুরোধ জানায় রস্তম আলী। তখন রস্তম আলীর যুক্তিসঙ্গত কথা সমর্থন দেয় মুক্তিনগর এলাকার পঞ্ছায়েত মাদবর মো: জিয়াউল হক। প্রশ্ন উঠে দু,পক্ষের কাগজপত্র দেখে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে এই জমি কে ভোগ দখল করবে। কিন্তু মোক্তার সোমবার সকালে রাস্তার জন্য সামান্য জমি রেখে বাকিটুকু ইটের দেওয়াল নির্মাণ করে ফেলে। রোববারে উপস্থিত মাদবরদের বিষয়টি জানালে তারা এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে চায়না।

আরশাদ আলীর পরিবারের অভিযোগ, দেয়াল নির্মাণে বাধা দিলে মোক্তারের কিনা সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। এমনকি থানায় গেলে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। তাই জীবনের ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পাচ্ছিনা।

স্থানীয়রা জানায়, মরহুম বিল্লাল হোসেন এবং আরশাদ আলী দুজনই ক্রয় সূত্রে মালিক। আরশাদ আলী বাড়ী-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে কমপক্ষে ৪০ বছর ধরে। আর বিল্লাল কিনেছে ৭/৮ বছর হয়। যা এখনো খালি পড়ে রয়েছে। জমির প্রকৃত মালিকের ছেলে উপস্থিত শতাধিক লোকজনের সামনে চিৎকার করেই বলেছে, আলোচিত ৭ খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের সহায়তায় আমার পিতাকে জোর করে ধরে নিয়ে হত্যা করার হুমকি দিয়ে মোক্তারের ভাই বিল্লাল এই জমি নামে মাত্র দামে কিনে নেয়। সেই দুঃখে তার বাবা মারা যায়। আর যে জমি মোক্তার দখল করেছে তা বিক্রি করা হয়নি। এসময় মোক্তারের সন্ত্রাসীরা তাকে মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

অভিযোগ রয়েছে, হীরাঝিল এলাকায় হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের পিছনে ডিএনডি পানি নিস্কাসন খালের অংশিক সরকারি জমি দখল করে মোক্তার বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। সরকারি জমি দখল করা তার পুরনো অভ্যাস বলে জানায় স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মোক্তার হোসেন জানায়, এটা তার ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমি। আরশাদ আলীর পরিবার জোর করে জায়গাটি দখল করে রেখেছিল। আমি কারো জমি দখল করিনি। জমিটি সরকারি কিনা জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি কিনে নিয়েছি।

আরশাদ আলী জানায়, প্রকৃতপক্ষে জমিটি সরকারি। আমার ক্রয়কৃত জমি থেকেই সরকার একুয়ার করেছে বিধায় ওই জমি ভোগ দখলের অধিকার আমার বেশি। তাই সরেজমিন পরিদর্শন করে ভূমিদস্যু মোক্তার ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করতে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বৃদ্ধ আরশাদ আলী ও তার পরিবার।