নারায়ণগঞ্জ ১০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে বেপরোয়া হয়ে উঠছে সোর্স নামধারী মাদক ব্যবসায়ীরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সিদ্ধিরগঞ্জে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে সোর্স নামধারী মাদক ব্যবসায়ীরা। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে থানা এলাকার সাধারণ মানুষ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কয়েক জন অসাধু অফিসাদের শেল্টারে সোর্সরা এভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন থানা এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফির্সাস ইনচার্জ (ওসি) মীর শাহিন শাহ পারভেজেসহ পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সাধারণ জনতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সচেতন এলঅকাবাসী বলেন, কিছু কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যরাই এসব সোর্স দিয়ে ইয়াবার ব্যবসা করে থাকেন। আবার কখনও কখনও পয়সা ওয়ালা লোকদের টার্গেট করে অসাধু পুলিশ সদস্যরাই সোর্স দিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। সচেতন এলাকাবাসী আরো জানায়, শুধু সিদ্ধিরগঞ্জের থানা এলাকায় রয়েছে ২০/২৫ জন পুলিশের কথিত সোর্স। গোদনাইল বৌ বাজার এলাকার মামুন, এসও এলাকার রানা, তাঁত খানা এলাকার নজরুল@ তোতলা নজরুল সানারপাড় এলাকার বুট্টু, মুক্তিনগড় এলাকার মকবুল হোসেন, সিপন ও মনির, বাগমারা এলাকার শামিম, মিজমিজি আব্দুল আলীর পুল এলাকার অমরার ছেলে সহিদ@মাইগ্গা সহিদ, মিজমিজি দক্ষিন পাড়া এলাকার আশ্রাফ, মিজমিজি টিসিরোড ইউরো টাওয়ার এলাকার মালেকের ছেলে সোর্স ইলিয়াস, আব্দুর রহিমের ছেলে সোর্স সাগর, মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমের ছেলে সোর্স খাইরুল, মোমেলার ছেলে সোর্স সবুজ, সামসুদ্দিনের ছেলে সোর্স আল আমিন, নতুন মহল্লা এলাকার হোসেন ফরাজীর ছেলে সাগর, বাতানপাড়া এলাকার ডাকাত ইসমাইল হোসেনের ছেলে শুভ, বাতেনের ছেলে জাকির ও তার ছোট ভাই মিতুল, শুক্কুর আলী, সোহাগ ও নাহিদসহ ২০/২৫’জন সোর্স দিনরাত দাবরিয়ে বেড়াচ্ছে। নিরিহ লোকজনকে টার্গেট করে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। তুলে দেওয়ার কিছুক্ষন পর তারাই আবার মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে রাখছেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কিছু দিন পূর্বে মিজমিজি টিসিরোড ইউরো টাওয়ার এলাকার মালেকের ছেলে সোর্স ইলিয়াস সিআইখোলা এলাকায় এক নিরিহ ব্যাক্তিকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ অফিসে একটি বিচার হয়। ওই বিচারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এক এসআই সোর্স ইলিয়াসের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছেন, মিজমিজি টিসিরোড ইউরো টাওয়ারে তার বাসায় প্রতিদিন ইয়াবার আসর ও জুয়া খেলার আসর জমানো হয়। সন্ধার পর থেকে শুরু হওয়া এ আসর চলে গভীর রাত পর্যন্ত। আবার কখনও কখনও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কিছু পুলিশ সদস্যকেও তার বাসায় অবস্থান করার গুনজঞ্জন রয়েছে। আরো জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীদের মাদকসহ পুলিশ গ্রেফতার করে অপর মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে ছাড়দিয়ে আসে। এ ছাড় দেওয়াতে মাদক ব্যবসায়ীরা বনে যায় পুলিশের সোর্স। নিজের মাদক ব্যবসা ঠিক রাখতে থানা এলাকার সাধারন জনতাকে অযথা হয়রানী করে আসছে এই সোর্সরা। বিশেষ করে পুলিশ কোন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তিতি নিলে সোর্সদের মাধ্যমে অপরাধীরা খবর পেয়ে যায়। এমনকি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসহারা আদায় করে ঐ মাদক ব্যবসায়ীদেরকে নিরাপদে রাখছে সোর্সরা। বিধায় সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসা নিমূল করতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ পুলিশ সুপারের সোর্সদে বিরুদ্ধে জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফির্সাস ইনচার্জ (ওসি) মীর শাহিন শাহ পারভেজ জানান, আমার থানা এলাকায় কোন সোর্স নাই। আমাদের পুলিশ সুপারের নির্দেশ মাদকের সাথে কোন পুলিশ সদস্যও জড়িত থাকে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জে বেপরোয়া হয়ে উঠছে সোর্স নামধারী মাদক ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সিদ্ধিরগঞ্জে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে সোর্স নামধারী মাদক ব্যবসায়ীরা। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে থানা এলাকার সাধারণ মানুষ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কয়েক জন অসাধু অফিসাদের শেল্টারে সোর্সরা এভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন থানা এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফির্সাস ইনচার্জ (ওসি) মীর শাহিন শাহ পারভেজেসহ পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সাধারণ জনতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সচেতন এলঅকাবাসী বলেন, কিছু কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যরাই এসব সোর্স দিয়ে ইয়াবার ব্যবসা করে থাকেন। আবার কখনও কখনও পয়সা ওয়ালা লোকদের টার্গেট করে অসাধু পুলিশ সদস্যরাই সোর্স দিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। সচেতন এলাকাবাসী আরো জানায়, শুধু সিদ্ধিরগঞ্জের থানা এলাকায় রয়েছে ২০/২৫ জন পুলিশের কথিত সোর্স। গোদনাইল বৌ বাজার এলাকার মামুন, এসও এলাকার রানা, তাঁত খানা এলাকার নজরুল@ তোতলা নজরুল সানারপাড় এলাকার বুট্টু, মুক্তিনগড় এলাকার মকবুল হোসেন, সিপন ও মনির, বাগমারা এলাকার শামিম, মিজমিজি আব্দুল আলীর পুল এলাকার অমরার ছেলে সহিদ@মাইগ্গা সহিদ, মিজমিজি দক্ষিন পাড়া এলাকার আশ্রাফ, মিজমিজি টিসিরোড ইউরো টাওয়ার এলাকার মালেকের ছেলে সোর্স ইলিয়াস, আব্দুর রহিমের ছেলে সোর্স সাগর, মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমের ছেলে সোর্স খাইরুল, মোমেলার ছেলে সোর্স সবুজ, সামসুদ্দিনের ছেলে সোর্স আল আমিন, নতুন মহল্লা এলাকার হোসেন ফরাজীর ছেলে সাগর, বাতানপাড়া এলাকার ডাকাত ইসমাইল হোসেনের ছেলে শুভ, বাতেনের ছেলে জাকির ও তার ছোট ভাই মিতুল, শুক্কুর আলী, সোহাগ ও নাহিদসহ ২০/২৫’জন সোর্স দিনরাত দাবরিয়ে বেড়াচ্ছে। নিরিহ লোকজনকে টার্গেট করে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। তুলে দেওয়ার কিছুক্ষন পর তারাই আবার মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে রাখছেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কিছু দিন পূর্বে মিজমিজি টিসিরোড ইউরো টাওয়ার এলাকার মালেকের ছেলে সোর্স ইলিয়াস সিআইখোলা এলাকায় এক নিরিহ ব্যাক্তিকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ অফিসে একটি বিচার হয়। ওই বিচারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এক এসআই সোর্স ইলিয়াসের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছেন, মিজমিজি টিসিরোড ইউরো টাওয়ারে তার বাসায় প্রতিদিন ইয়াবার আসর ও জুয়া খেলার আসর জমানো হয়। সন্ধার পর থেকে শুরু হওয়া এ আসর চলে গভীর রাত পর্যন্ত। আবার কখনও কখনও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কিছু পুলিশ সদস্যকেও তার বাসায় অবস্থান করার গুনজঞ্জন রয়েছে। আরো জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীদের মাদকসহ পুলিশ গ্রেফতার করে অপর মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে ছাড়দিয়ে আসে। এ ছাড় দেওয়াতে মাদক ব্যবসায়ীরা বনে যায় পুলিশের সোর্স। নিজের মাদক ব্যবসা ঠিক রাখতে থানা এলাকার সাধারন জনতাকে অযথা হয়রানী করে আসছে এই সোর্সরা। বিশেষ করে পুলিশ কোন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তিতি নিলে সোর্সদের মাধ্যমে অপরাধীরা খবর পেয়ে যায়। এমনকি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসহারা আদায় করে ঐ মাদক ব্যবসায়ীদেরকে নিরাপদে রাখছে সোর্সরা। বিধায় সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসা নিমূল করতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ পুলিশ সুপারের সোর্সদে বিরুদ্ধে জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফির্সাস ইনচার্জ (ওসি) মীর শাহিন শাহ পারভেজ জানান, আমার থানা এলাকায় কোন সোর্স নাই। আমাদের পুলিশ সুপারের নির্দেশ মাদকের সাথে কোন পুলিশ সদস্যও জড়িত থাকে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না