নারায়ণগঞ্জ ০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নারায়ণগঞ্জে ১০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণ: ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ ভাষাসৈনিক আয়েশা বেগমের প্রয়াণ: তিন দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন প্রচণ্ড রৌদ্রের প্রখরতায় পথচারী, শ্রমজীবী ও ট্রাফিকদের জন্য ডিসি ও এসপির মানবিক উদ্যোগ সর্ব মহলে প্রশংসিত শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬ তম তিরোধান উৎসব উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ব্রিফিং ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর মানববন্ধন কাশিপুর কল্যাণী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ খাল পুনঃখনন শুরু, তৎপর সদর উপজেলা প্রশাসন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি: ফতুল্লার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতা রোধে নারায়ণগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিসি মো:রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে নির্মাণ সামগ্রী লুটের অভিযোগ যুবদল নেতার ২০ হাজার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ

নবম বিয়ে শুভ হলনা নোয়াখালীর প্রতারক সজিবের

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অক্টোবর ২০১৮
  • ৩৭৬ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে নবব বিয়ে করে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে শাহীন আলম তারেক ওরফে সজিব(২৯) নামে একজন ভূয়া র‌্যাব। নিজেকে পুলিশ ও র‌্যাব অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারক সজিব একে একে বিয়ে করে ৯ টি। মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই প্রতারককে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। ধৃত সজিব নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার এখলাসপুর গ্রামের হাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে।

র‌্যাব জানায়, এই প্রতারক নিজেকে তারেক, লিটন ও র‌্যাবের এএসপি সজিব পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে বিয়ে করা এবং বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসার ও র‌্যাবের এএসপি পরিচয় দিয়ে একে একে ৯ টি বিয়ে করে সে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই প্রতারক সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় নবম বিয়ে সম্পন্ন করেন। তাকে এলাকার সকলেই র‌্যাবের এএসপি সজিব হিসেবে জানে। চিটাগাংরোড এলাকাতেও র‌্যাবের এএসপি হিসেবে রয়েছে তার পরিচিতি। অবশেষে তার এসব অপকর্ম ফাঁস হয়ে যায় র‌্যাব-১১’র কাছে ধরা পড়ার পর। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে এডিট করা বিভিন্ন ছবি। ধরা পরার পর এই প্রতারকের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড, বিপুল পরিমান পুলিশের ভিজিটিং কার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি, এএসপি সজিব নাম সম্বলিত পরিচয়দানকারী বিয়ের দাওয়াত কার্ড এবং তিনটি মোবাইল ফোন। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সজিব স্বীকার করে, সে মাত্র সাত দিন আগে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তার নবম বিয়ে সম্পন্ন করেছে। নববধুকে এই কার্ডগুলো দেখিয়ে বিশ^স্ততা অর্জন করাই তার লক্ষ্য ছিল।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক আলেপ উদ্দিন জানান, সজিব মূলত একজন পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। তার নিজ এলাকাতেও সে প্রতারক লিটন হিসেবে পরিচিত। সে র‌্যাব-১১ এর এএসপি পরিচয়ে এ পর্যন্ত নয়টি বিয়ে করেছে। প্রতারক সজিব দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় র‌্যাবের এএসপি হিসাবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ লোকের কাছ থেকে মামলার তদ্বদ্বির, আসামী ছাড়ানোর জন্য বিপুল অংকের অর্থ আদায় করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করার জন্য সে বিশেষ কৌশলের আশ্র্রয় নিতো। সে তার মোবাইলে ফটোশপের মাধ্যমে পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন ঊর্ধ্বত কর্মকর্তার র‌্যাংকব্যাজ পরিহিত ছবির সাথে তার নিজের ছবি এডিটিং করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ সংগঠিত করত। এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে রাষ্ট্রীয় পদক পরিয়ে দিচ্ছেন সম্বলিত একটি ভুয়া ছবিও তার মোবাইলে পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করার জন্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাকে মিটিংরত অবস্থায়, পুলিশের ট্রেনিংরত অবস্থা সম্বলিত ভুয়া ছবিও সে ব্যবহার করে।

আলেপ উদ্দিন আরও জানান, প্রতারক সজীব শুধু এএসপি পরিচয়ই দিতনা, প্রতারনা করার জন্য মানুষের শ্রেনী বুঝে সে কখনো পুলিশের এসআই, কখনো র‌্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় প্রদান করে আসছিল। র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল তার কাছে বিপুল পরিমান বিয়ের দাওয়াত কার্ড জব্দ করে, যা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় কার্ড গুলো তার নিজের বিয়ের, সেখানেও বর হিসেবে এএসপি সজীব নাম লিখা। দাওয়াত কার্ডগুলোর উপরে র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ঠিকানা লেখা রয়েছে।

 

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নারায়ণগঞ্জে ১০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণ: ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ

নবম বিয়ে শুভ হলনা নোয়াখালীর প্রতারক সজিবের

আপডেট সময় : ০৩:২২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অক্টোবর ২০১৮

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে নবব বিয়ে করে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে শাহীন আলম তারেক ওরফে সজিব(২৯) নামে একজন ভূয়া র‌্যাব। নিজেকে পুলিশ ও র‌্যাব অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারক সজিব একে একে বিয়ে করে ৯ টি। মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই প্রতারককে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। ধৃত সজিব নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার এখলাসপুর গ্রামের হাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে।

র‌্যাব জানায়, এই প্রতারক নিজেকে তারেক, লিটন ও র‌্যাবের এএসপি সজিব পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে বিয়ে করা এবং বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসার ও র‌্যাবের এএসপি পরিচয় দিয়ে একে একে ৯ টি বিয়ে করে সে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই প্রতারক সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় নবম বিয়ে সম্পন্ন করেন। তাকে এলাকার সকলেই র‌্যাবের এএসপি সজিব হিসেবে জানে। চিটাগাংরোড এলাকাতেও র‌্যাবের এএসপি হিসেবে রয়েছে তার পরিচিতি। অবশেষে তার এসব অপকর্ম ফাঁস হয়ে যায় র‌্যাব-১১’র কাছে ধরা পড়ার পর। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে এডিট করা বিভিন্ন ছবি। ধরা পরার পর এই প্রতারকের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড, বিপুল পরিমান পুলিশের ভিজিটিং কার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি, এএসপি সজিব নাম সম্বলিত পরিচয়দানকারী বিয়ের দাওয়াত কার্ড এবং তিনটি মোবাইল ফোন। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সজিব স্বীকার করে, সে মাত্র সাত দিন আগে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তার নবম বিয়ে সম্পন্ন করেছে। নববধুকে এই কার্ডগুলো দেখিয়ে বিশ^স্ততা অর্জন করাই তার লক্ষ্য ছিল।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক আলেপ উদ্দিন জানান, সজিব মূলত একজন পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। তার নিজ এলাকাতেও সে প্রতারক লিটন হিসেবে পরিচিত। সে র‌্যাব-১১ এর এএসপি পরিচয়ে এ পর্যন্ত নয়টি বিয়ে করেছে। প্রতারক সজিব দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় র‌্যাবের এএসপি হিসাবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ লোকের কাছ থেকে মামলার তদ্বদ্বির, আসামী ছাড়ানোর জন্য বিপুল অংকের অর্থ আদায় করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করার জন্য সে বিশেষ কৌশলের আশ্র্রয় নিতো। সে তার মোবাইলে ফটোশপের মাধ্যমে পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন ঊর্ধ্বত কর্মকর্তার র‌্যাংকব্যাজ পরিহিত ছবির সাথে তার নিজের ছবি এডিটিং করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ সংগঠিত করত। এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে রাষ্ট্রীয় পদক পরিয়ে দিচ্ছেন সম্বলিত একটি ভুয়া ছবিও তার মোবাইলে পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করার জন্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাকে মিটিংরত অবস্থায়, পুলিশের ট্রেনিংরত অবস্থা সম্বলিত ভুয়া ছবিও সে ব্যবহার করে।

আলেপ উদ্দিন আরও জানান, প্রতারক সজীব শুধু এএসপি পরিচয়ই দিতনা, প্রতারনা করার জন্য মানুষের শ্রেনী বুঝে সে কখনো পুলিশের এসআই, কখনো র‌্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় প্রদান করে আসছিল। র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল তার কাছে বিপুল পরিমান বিয়ের দাওয়াত কার্ড জব্দ করে, যা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় কার্ড গুলো তার নিজের বিয়ের, সেখানেও বর হিসেবে এএসপি সজীব নাম লিখা। দাওয়াত কার্ডগুলোর উপরে র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ঠিকানা লেখা রয়েছে।