নারায়ণগঞ্জ ০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত আদমজী ইপিজেডকে অশান্ত করছে জনপ্রতিনিধিরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে মহিলা লীগ নেত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় না’গঞ্জ কারাগারে হাজতীর মৃত্যু ফতুল্লায় চোরাইকৃত ট্যাংকলড়ী উদ্ধার আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল ঘুরে গেলেন ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতসহ ১৮ দেশের প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মতবিনিময় ফতুল্লা ব্লাড ডোনার্সের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষা সিলেবাস বাতিলের দাবিতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নারী সমাবেশ ও মিছিল

সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে অবৈধ কার খানায় তৈরি হচ্ছে জুসসহ ভেজাল শিশু খাদ্য

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • ৪৯৪ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া ক্যানেল পাড় এলাকায় অনুমোদনহীন অবৈধ কারাখানায় তৈরি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর ভেজাল জুস। মহিউদ্দিন প্রধান নামে এক ব্যক্তি, প্রধান কনজুমার প্রোডাক্স নামে একটি অবৈধ কারখানা গড়ে তুলে ম্যাংগো ড্রিংকস নামক এই জুসসহ বিভিন্ন শিশু খাদ্য তৈরি ও বাজারজাত করছে। সরকাররি খাদ্য নীতিমালা অমান্য করে বিএসটিআইর অনুমতোদন ছাড়াই এই ভেজাল জুস তৈরি ও বাজারজাত করে জনজীবন বিপন্ন করছে কারখানা মালিক। রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কারখানা ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করছেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লার দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে ম্যাংগো ড্রিংকস নামক জুস। এই জুস পান করার মত নয়। না বুঝে শিশুরা এই জুস পান করলেও প্রাপ্ত বয়স্করা পান করলে সহজেই বুঝা যায় এই জুস স্বাস্থ্য সম্মত নয়। নামে ম্যাংগো ড্রিংকস হলেও মূলত এই জুস তৈরি করা হচ্ছে রং ও কেমিক্যাল জাতীয় বিভিন্ন উপাদান দিয়ে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অবিকল ফ্রুটিকা জুসের বোতলের ন্যায় বাজারজাত করা হচ্ছে ম্যাংগো ড্রিংকস জুস। যার আড়াইশ মিলি ওজনের এক বোতল জুসের দাম নির্ধারণ করা রয়েছে ২২ টাকা।
জানা গেছে, মিজমিজি বাতানপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় মহিউদ্দিন প্রধান নামে এক ব্যক্তি, প্রধান কনজুমার প্রোডাক্স নামক একটি কারখানা গড়ে তুলে ম্যাংগো ড্রিংকস জুসসহ বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্য তৈরি ও বাজারজাত করছেন। এই কারখানার সরকারি কোন অনুমোদন নেই। তৈরিকৃত খাদ্যসামগ্রীর নেই বিএসটিআইর অনুমোদন। নিজের মনগড়া মতে এসব শিশু খাদ্য তৈরি করে বাজার জাত করছে কারখানা মালিক। কারখানা মালিক মহিউদ্দিন প্রধান চাঁদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় তার বিভিন্ন প্রভাবশালী লোকদের সাথে উঠবস রয়েছে। স্থানীয় কথিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই মহিউদ্দিন অখাদ্য-কূখাদ্য তৈরি করে জনজীবন বিপন্ন করছে। শিশু খাদ্যের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। খাওয়ার অযোগ্য জুস কিনে ক্রেতারা হচ্ছেন প্রতারিত।
অভিযোগ জানা গেছে, কিছুদিন আগে চিটাগাংরোড ফজর আলী গার্ডেন সিটিতে একটি অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্পায়নের জন্য কয়েক শতাধিক বোতল ম্যাংগো ড্রিংকস জুস পরিবেশন করা হয়েছিল। কোন অতিথিই তখন এই জুস পান করতে পারেননি। তখন এই জুসের মান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই জুস শিশুরা কি ভাবে পান করে সেই প্রশ্ন তুলে অতিথিরা। সে দিন ওই অনুষ্ঠানে ম্যাংগো ড্রিংকস জুস তৈরির কারকানা মালিক মহিউদ্দিন প্রধান নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সে সময় অনুষ্ঠানের আয়োজকরা মহিউদ্দিন প্রধানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজেও স্বীকার করেন এই জুস পান করার যোগ্যনা। কি কারণে জুসের মান এত খারাপ হলো তা তিনি নিজেও হতবম্ব হয়ে যান। লজ্জিত হয়ে তখন মহিউদ্দিন সকল জুস ফেরত নিয়ে যান। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা মহিউদ্দিনের পরিচিত ও ঘনিষ্ট লোক হওয়ায় তিনি পার পেয়ে যান। সূত্রটি জানায়, ওই অনুষ্ঠানে লজ্জিত হলেও মহিউদ্দিন খাওয়ার অযোগ্য জুস তৈরি ও বাজারজাত করা অব্যাহত রেখেছে। কারণ হিসেবে সূত্রটি মনে করছেন, বয়স্করা জুসের গুণগত মান বুঝতে পারলেও শিশুরা তা না বুঝেই পান করে থাকে বিধায় কারখানা মালিক তার অবৈধ ও প্রতারনা ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। তাই এই কারখানায় তৈরি সকল খাদ্যের গুণ গত মান ও স্বাস্থ্য সম্মত কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত

সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে অবৈধ কার খানায় তৈরি হচ্ছে জুসসহ ভেজাল শিশু খাদ্য

আপডেট সময় : ১০:৪২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া ক্যানেল পাড় এলাকায় অনুমোদনহীন অবৈধ কারাখানায় তৈরি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর ভেজাল জুস। মহিউদ্দিন প্রধান নামে এক ব্যক্তি, প্রধান কনজুমার প্রোডাক্স নামে একটি অবৈধ কারখানা গড়ে তুলে ম্যাংগো ড্রিংকস নামক এই জুসসহ বিভিন্ন শিশু খাদ্য তৈরি ও বাজারজাত করছে। সরকাররি খাদ্য নীতিমালা অমান্য করে বিএসটিআইর অনুমতোদন ছাড়াই এই ভেজাল জুস তৈরি ও বাজারজাত করে জনজীবন বিপন্ন করছে কারখানা মালিক। রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কারখানা ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করছেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লার দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে ম্যাংগো ড্রিংকস নামক জুস। এই জুস পান করার মত নয়। না বুঝে শিশুরা এই জুস পান করলেও প্রাপ্ত বয়স্করা পান করলে সহজেই বুঝা যায় এই জুস স্বাস্থ্য সম্মত নয়। নামে ম্যাংগো ড্রিংকস হলেও মূলত এই জুস তৈরি করা হচ্ছে রং ও কেমিক্যাল জাতীয় বিভিন্ন উপাদান দিয়ে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অবিকল ফ্রুটিকা জুসের বোতলের ন্যায় বাজারজাত করা হচ্ছে ম্যাংগো ড্রিংকস জুস। যার আড়াইশ মিলি ওজনের এক বোতল জুসের দাম নির্ধারণ করা রয়েছে ২২ টাকা।
জানা গেছে, মিজমিজি বাতানপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় মহিউদ্দিন প্রধান নামে এক ব্যক্তি, প্রধান কনজুমার প্রোডাক্স নামক একটি কারখানা গড়ে তুলে ম্যাংগো ড্রিংকস জুসসহ বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্য তৈরি ও বাজারজাত করছেন। এই কারখানার সরকারি কোন অনুমোদন নেই। তৈরিকৃত খাদ্যসামগ্রীর নেই বিএসটিআইর অনুমোদন। নিজের মনগড়া মতে এসব শিশু খাদ্য তৈরি করে বাজার জাত করছে কারখানা মালিক। কারখানা মালিক মহিউদ্দিন প্রধান চাঁদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় তার বিভিন্ন প্রভাবশালী লোকদের সাথে উঠবস রয়েছে। স্থানীয় কথিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই মহিউদ্দিন অখাদ্য-কূখাদ্য তৈরি করে জনজীবন বিপন্ন করছে। শিশু খাদ্যের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। খাওয়ার অযোগ্য জুস কিনে ক্রেতারা হচ্ছেন প্রতারিত।
অভিযোগ জানা গেছে, কিছুদিন আগে চিটাগাংরোড ফজর আলী গার্ডেন সিটিতে একটি অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্পায়নের জন্য কয়েক শতাধিক বোতল ম্যাংগো ড্রিংকস জুস পরিবেশন করা হয়েছিল। কোন অতিথিই তখন এই জুস পান করতে পারেননি। তখন এই জুসের মান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই জুস শিশুরা কি ভাবে পান করে সেই প্রশ্ন তুলে অতিথিরা। সে দিন ওই অনুষ্ঠানে ম্যাংগো ড্রিংকস জুস তৈরির কারকানা মালিক মহিউদ্দিন প্রধান নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সে সময় অনুষ্ঠানের আয়োজকরা মহিউদ্দিন প্রধানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজেও স্বীকার করেন এই জুস পান করার যোগ্যনা। কি কারণে জুসের মান এত খারাপ হলো তা তিনি নিজেও হতবম্ব হয়ে যান। লজ্জিত হয়ে তখন মহিউদ্দিন সকল জুস ফেরত নিয়ে যান। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা মহিউদ্দিনের পরিচিত ও ঘনিষ্ট লোক হওয়ায় তিনি পার পেয়ে যান। সূত্রটি জানায়, ওই অনুষ্ঠানে লজ্জিত হলেও মহিউদ্দিন খাওয়ার অযোগ্য জুস তৈরি ও বাজারজাত করা অব্যাহত রেখেছে। কারণ হিসেবে সূত্রটি মনে করছেন, বয়স্করা জুসের গুণগত মান বুঝতে পারলেও শিশুরা তা না বুঝেই পান করে থাকে বিধায় কারখানা মালিক তার অবৈধ ও প্রতারনা ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। তাই এই কারখানায় তৈরি সকল খাদ্যের গুণ গত মান ও স্বাস্থ্য সম্মত কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।