নারায়ণগঞ্জ ০৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পুলিশও অসহায় : চক্রান্ত্রের শিকার এএসআই মাশেকুর রহমান

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ মে ২০১৮
  • ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী চক্রের কাছে পুলিশও অসহায় হয়ে পড়েছে। একাধিক মামলার আসামি সঙ্গবদ্ধ একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন সহকারি উপ-পরিদর্শক মাশেকুর রহমান শান্ত। আটি হাউজিং এলাকার মাদক ও দেহব্যবসায়ী মাসুম চক্রের মিথ্যা চক্রান্তে চৌকশ পুলিশ অফিসার মাশেকুর রহমান পুলিশ লাইনে কোজড হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে একজন পুলিশ অফিসার শাস্তি পাওয়া পুলিশের জন্য লজ্জাজনক মনে করছেন বিজ্ঞ মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং এলাকার মৃত কসাই আবদুল খালেকের ছেলে চুরি ও মাদকসহ ৬ মামলার আসামি মাসুম গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে সাথী আক্তার নদী নামে এক পতিতা নিয়ে ফুর্তি করছিল। একই রাতে জালকুড়ি এলাকায় ডিউটিরত সহকারি পুলিশ অফিসার মাশেকুর রহমান শান্ত চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলের লক্ষ্যে জালকুড়ি ঠিকানার এক আসামি হাউজিং এলাকায় অবস্থান করার সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩ টার সময় হাউজিং এলাকায় আসেন। কিন্ত তার অভিযান ব্যর্থ হয়। পূর্ব থেকে অসুস্ত থাকায় ওষুধ সেবন করতে হাউজিং এলাকাতেই নিজ বাসায় যাওয়ার সময় মাসুমের বাসায় মহিলার আর্তচিৎকার শোনে তিনি এগিয়ে যান। তখন পতিতা নদী এএসআই মাশেকুরকে জানায়, মাসুম ১ হাজার টাকা দিবার কথা বলে তার সাথে ফুর্তি করে টাকা না দিয়ে মারধর ও ঘরে আটক করে রাখে। ঘটনা শোনে এএসআই মাশেকুর রহমান অসামাজিক কাজ করার অপরাধে মাসুম ও নদী দুজনকেই আটক করে। এসময় মাসুম নিজেকে রক্ষা করতে তার সহযোগী আবদুল মালেকের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মোহর চাঁন, মোক্তার হোসেন, গেগা মিয়ার ছেলে আবুল ভান্ডারী চক্র এএসআই মাশেকুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করে ৫০ হাজার টাকা ঘুস দাবি করার মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিবেশীদের ভুল বুঝিয়ে উল্টো মাশেকুর রহমান ও নদীকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ষড়যন্ত্র সফল করতে মাসুম চক্র গণমাধ্যম কর্মীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে মাশেকুরকে ব্ল্যাকমেইলিংকারী আখ্যায়িত করিয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করাতে সক্ষম হয়। মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমের সহায়তা নিয়ে মাসুম নিজের অপকর্ম আড়াল করে এএসআই মাশেকুর রহমানকে অপরাধি বানানোর ফন্দি করে। প্রথমিক ভাবে তার এই ষড়যন্ত্র সফল হলেও পরে আসল ঘটনা জানার পর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সহকারি উপ-পরিদর্শক মাশেকুর রহমানকে ফাসানোর মূল নায়ক মাসুমের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৬ টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ২ টি চুরি ও বাকী গুলো মাদক মামলা এসব মামলা গুলো হলো, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৯০ সালের ১৯(১)এর ৯(ক)/২৫ যার নং ২৯ তারিখ ১৫ জুন ২০১৬, একই ধারায় ২০১৮ সালের ২৩ জুন একটি মামলা হয় যার নং ৪৬, তার আগে ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের ১৯(১)এর ৯(খ)/২৫ ধারায় একটি মামলা হয় যার নং ৪৬, ওই একই ধারায় আরেকটি মামলা হয় ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল যার নং ২৭, তারও আগে ২০১৪ সালের ২৪ আগষ্ট তার বিরুদ্ধে ৩৮০/৪১১ পেনাল কোড-১৮৬০ ধারায় মামলা দায়ের হয় যার নং ৩০, সর্বপ্রথম তার বিরুদ্ধে ৩৭৯ পেনাল কোর্ড ১৮৬০ ধারায় মামলা হয় ২০০৬ সালের ৩ ডিসেম্বর যার নং ৫। মাসুমের সহযোগী মোহর চাঁনের বিরুদ্ধে রয়েছে দু,টি মাদক মামলা যার নং ৪৫ তারিখ ২৯-০৬-২০১৭ ও ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর যার নং ৩৮। তার আরেক সহযোগী মুক্তারের বিরুদ্ধেও রয়েছে দু,টি মামলা। যার একটি মাদক, নাম্বার ৫৯ তারিখ ২৪-০৮ ২০১৫। যেসব লোক একাধিকবার মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে জেল হাজত বাস করেছে তাদের ষড়যন্ত্রের কাছে পুলিশ ধরাশায়ী হওয়া লজ্জাজনক। প্রকৃত ঘটনা সঠিক ভাবে তদন্ত না করে কথিপয় মাদক ব্যবসায়ীদের কথায় নির্দোষ পুলিশ অফিসার মাশেকুর রহমানকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে কোজড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী চক্রের মিথ্যা অভিযোগে বিচক্ষণ এএসআই মাশেকুর রহমান শস্তি পেলে পুলিশের জন্য তা লজ্জাজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। তাই নির্দোষ মাশেকুর রহমানকে শান্তি প্রদান করার আগে অভিযোগকারী মাসুম চক্রের কার্যকলাপ তদন্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত ও প্রকৃত অপরাধিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পুলিশও অসহায় : চক্রান্ত্রের শিকার এএসআই মাশেকুর রহমান

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ মে ২০১৮

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী চক্রের কাছে পুলিশও অসহায় হয়ে পড়েছে। একাধিক মামলার আসামি সঙ্গবদ্ধ একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন সহকারি উপ-পরিদর্শক মাশেকুর রহমান শান্ত। আটি হাউজিং এলাকার মাদক ও দেহব্যবসায়ী মাসুম চক্রের মিথ্যা চক্রান্তে চৌকশ পুলিশ অফিসার মাশেকুর রহমান পুলিশ লাইনে কোজড হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে একজন পুলিশ অফিসার শাস্তি পাওয়া পুলিশের জন্য লজ্জাজনক মনে করছেন বিজ্ঞ মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং এলাকার মৃত কসাই আবদুল খালেকের ছেলে চুরি ও মাদকসহ ৬ মামলার আসামি মাসুম গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে সাথী আক্তার নদী নামে এক পতিতা নিয়ে ফুর্তি করছিল। একই রাতে জালকুড়ি এলাকায় ডিউটিরত সহকারি পুলিশ অফিসার মাশেকুর রহমান শান্ত চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলের লক্ষ্যে জালকুড়ি ঠিকানার এক আসামি হাউজিং এলাকায় অবস্থান করার সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩ টার সময় হাউজিং এলাকায় আসেন। কিন্ত তার অভিযান ব্যর্থ হয়। পূর্ব থেকে অসুস্ত থাকায় ওষুধ সেবন করতে হাউজিং এলাকাতেই নিজ বাসায় যাওয়ার সময় মাসুমের বাসায় মহিলার আর্তচিৎকার শোনে তিনি এগিয়ে যান। তখন পতিতা নদী এএসআই মাশেকুরকে জানায়, মাসুম ১ হাজার টাকা দিবার কথা বলে তার সাথে ফুর্তি করে টাকা না দিয়ে মারধর ও ঘরে আটক করে রাখে। ঘটনা শোনে এএসআই মাশেকুর রহমান অসামাজিক কাজ করার অপরাধে মাসুম ও নদী দুজনকেই আটক করে। এসময় মাসুম নিজেকে রক্ষা করতে তার সহযোগী আবদুল মালেকের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মোহর চাঁন, মোক্তার হোসেন, গেগা মিয়ার ছেলে আবুল ভান্ডারী চক্র এএসআই মাশেকুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করে ৫০ হাজার টাকা ঘুস দাবি করার মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিবেশীদের ভুল বুঝিয়ে উল্টো মাশেকুর রহমান ও নদীকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ষড়যন্ত্র সফল করতে মাসুম চক্র গণমাধ্যম কর্মীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে মাশেকুরকে ব্ল্যাকমেইলিংকারী আখ্যায়িত করিয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করাতে সক্ষম হয়। মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমের সহায়তা নিয়ে মাসুম নিজের অপকর্ম আড়াল করে এএসআই মাশেকুর রহমানকে অপরাধি বানানোর ফন্দি করে। প্রথমিক ভাবে তার এই ষড়যন্ত্র সফল হলেও পরে আসল ঘটনা জানার পর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সহকারি উপ-পরিদর্শক মাশেকুর রহমানকে ফাসানোর মূল নায়ক মাসুমের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৬ টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ২ টি চুরি ও বাকী গুলো মাদক মামলা এসব মামলা গুলো হলো, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৯০ সালের ১৯(১)এর ৯(ক)/২৫ যার নং ২৯ তারিখ ১৫ জুন ২০১৬, একই ধারায় ২০১৮ সালের ২৩ জুন একটি মামলা হয় যার নং ৪৬, তার আগে ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের ১৯(১)এর ৯(খ)/২৫ ধারায় একটি মামলা হয় যার নং ৪৬, ওই একই ধারায় আরেকটি মামলা হয় ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল যার নং ২৭, তারও আগে ২০১৪ সালের ২৪ আগষ্ট তার বিরুদ্ধে ৩৮০/৪১১ পেনাল কোড-১৮৬০ ধারায় মামলা দায়ের হয় যার নং ৩০, সর্বপ্রথম তার বিরুদ্ধে ৩৭৯ পেনাল কোর্ড ১৮৬০ ধারায় মামলা হয় ২০০৬ সালের ৩ ডিসেম্বর যার নং ৫। মাসুমের সহযোগী মোহর চাঁনের বিরুদ্ধে রয়েছে দু,টি মাদক মামলা যার নং ৪৫ তারিখ ২৯-০৬-২০১৭ ও ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর যার নং ৩৮। তার আরেক সহযোগী মুক্তারের বিরুদ্ধেও রয়েছে দু,টি মামলা। যার একটি মাদক, নাম্বার ৫৯ তারিখ ২৪-০৮ ২০১৫। যেসব লোক একাধিকবার মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে জেল হাজত বাস করেছে তাদের ষড়যন্ত্রের কাছে পুলিশ ধরাশায়ী হওয়া লজ্জাজনক। প্রকৃত ঘটনা সঠিক ভাবে তদন্ত না করে কথিপয় মাদক ব্যবসায়ীদের কথায় নির্দোষ পুলিশ অফিসার মাশেকুর রহমানকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে কোজড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী চক্রের মিথ্যা অভিযোগে বিচক্ষণ এএসআই মাশেকুর রহমান শস্তি পেলে পুলিশের জন্য তা লজ্জাজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। তাই নির্দোষ মাশেকুর রহমানকে শান্তি প্রদান করার আগে অভিযোগকারী মাসুম চক্রের কার্যকলাপ তদন্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত ও প্রকৃত অপরাধিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।