নারায়ণগঞ্জ ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিলে মহাসড়ক অবরোধ পাইনাদী নতুন মহল্লা সমাজকল্যাণ সংস্থার কার্যালয় উদ্বোধন সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেপ্তার সিদ্ধিরগঞ্জের মহাসড়ক যেন ময়লার ভাগাড়,দূষিত পরিবেশে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি আড়াইহাজারে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার সিদ্ধিরগঞ্জে মিতালী মার্কেটের অর্থ আত্নসাত করেও অপপ্রচারে লিপ্ত জামান সোনারগাঁ জামপুরে খোকার সন্ত্রাসী হামলায় দলিল লেখক রতন আহত র্যাবের হাতে চাদাঁবাজির টাকাসহ ৬ চাদাঁবাজ গ্রেফতার হাজিরা মিস হওয়ায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভায় নির্বাচন কাল

সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং সরকারি গ্যাসের বিল নিচ্ছে সিন্ডিকেট

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৩
  • ১০৯ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ সিন্ডিকেট চক্র। তিতাস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ সিন্ডিকেট অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
জানা গেছে, আটি হাউজিং এলাকায় কয়েক বছরে কমপক্ষে আড়াইশতাধিক আবাসিক বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। সরকারিভাবে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও এসব ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটে জ্বলছে গ্যাসের চুলা। আবাসিক সংযোগ বন্ধ থাকার পরও তিতাস কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কেহ বৈধ সংযোগ নিলেও অধিকাংশই অবৈধ। তাছাড়া ভবনে বৈধভাবে যতগুলি চুলা রয়েছে অবৈধর সংখ্যা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এসব অবৈধ চুলার বিল নিচ্ছেন সিন্ডিকেটের লোকজন। মাঝে তিতাসের লোকজন অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও রাতের আঁধারে সিন্ডিকেট সদস্যরা আবার সংযোগ দিয়ে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ তিতাসের সুবিধাভোগী একশ্রেণির কর্মকর্তা,হাউজিং প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আউয়াল, স্থানীয় বাসিন্দা গণি মিয়া, মুক্তার হোসেন, মোহর, সোহাগসহ দশ পনেরোজনের একটি সিন্ডিকেট হাউজিং এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি ভবনের অবৈধ চুলার বিল নিচ্ছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। হাউজিং এলাকায় অন্তত কয়েক হাজার অবৈধ চুলা জ্বলছে অবৈধভাবে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভবন মালিক জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ নিয়ে তাদের কাছে বিল পরিশোধ করতে হয়। অন্যথায় তিতাসের লোকজন এনে অভিযান চালিয়ে ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে ভবন মালিকরা সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতা করে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। গ্যাস সরকারি হলেও স্থানীয় সিন্ডিকেট বিল নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভবন মালিকরা।
নারায়ণগঞ্জ তিতাসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেট করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে বিল নেওয়ার সত্যতা শিকার করে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। গত ডিসেম্বরে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ৭৭ টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন করেছেন। কিন্তু অভিযান চালিয়ে চলে যাওয়ার পর সিন্ডিকেটের লোকেরা আবার সংযোগ দিয়ে দেয়।
সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে হাউজিং প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেন, ডিসেম্বরে অভিযানের আগে একটি চক্র বিল উত্তোলন করত। কিন্তু অভিযানের পর তা বন্ধ ছিল। এখন আবার বিল নিচ্ছে বলে শুনতেছি। তবে কারা নিচ্ছে তা জানার চেষ্টা করছি।
নারায়ণগঞ্জ তিতাসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মামুন বলেন, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগ্রই হাউজিং এলাকায় অভিযান চালাব।

 

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সোনারগাঁয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিলে মহাসড়ক অবরোধ

সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং সরকারি গ্যাসের বিল নিচ্ছে সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ১২:০৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৩

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ সিন্ডিকেট চক্র। তিতাস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ সিন্ডিকেট অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
জানা গেছে, আটি হাউজিং এলাকায় কয়েক বছরে কমপক্ষে আড়াইশতাধিক আবাসিক বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। সরকারিভাবে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও এসব ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটে জ্বলছে গ্যাসের চুলা। আবাসিক সংযোগ বন্ধ থাকার পরও তিতাস কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কেহ বৈধ সংযোগ নিলেও অধিকাংশই অবৈধ। তাছাড়া ভবনে বৈধভাবে যতগুলি চুলা রয়েছে অবৈধর সংখ্যা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এসব অবৈধ চুলার বিল নিচ্ছেন সিন্ডিকেটের লোকজন। মাঝে তিতাসের লোকজন অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও রাতের আঁধারে সিন্ডিকেট সদস্যরা আবার সংযোগ দিয়ে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ তিতাসের সুবিধাভোগী একশ্রেণির কর্মকর্তা,হাউজিং প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আউয়াল, স্থানীয় বাসিন্দা গণি মিয়া, মুক্তার হোসেন, মোহর, সোহাগসহ দশ পনেরোজনের একটি সিন্ডিকেট হাউজিং এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি ভবনের অবৈধ চুলার বিল নিচ্ছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। হাউজিং এলাকায় অন্তত কয়েক হাজার অবৈধ চুলা জ্বলছে অবৈধভাবে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভবন মালিক জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ নিয়ে তাদের কাছে বিল পরিশোধ করতে হয়। অন্যথায় তিতাসের লোকজন এনে অভিযান চালিয়ে ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে ভবন মালিকরা সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতা করে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। গ্যাস সরকারি হলেও স্থানীয় সিন্ডিকেট বিল নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভবন মালিকরা।
নারায়ণগঞ্জ তিতাসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেট করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে বিল নেওয়ার সত্যতা শিকার করে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। গত ডিসেম্বরে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ৭৭ টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন করেছেন। কিন্তু অভিযান চালিয়ে চলে যাওয়ার পর সিন্ডিকেটের লোকেরা আবার সংযোগ দিয়ে দেয়।
সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে হাউজিং প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেন, ডিসেম্বরে অভিযানের আগে একটি চক্র বিল উত্তোলন করত। কিন্তু অভিযানের পর তা বন্ধ ছিল। এখন আবার বিল নিচ্ছে বলে শুনতেছি। তবে কারা নিচ্ছে তা জানার চেষ্টা করছি।
নারায়ণগঞ্জ তিতাসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মামুন বলেন, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগ্রই হাউজিং এলাকায় অভিযান চালাব।