নারায়ণগঞ্জ ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে ঢাকা বাইপাস সড়কের আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন ও অবরোধ শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন সহ শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফেরাতে মাঠে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলে মিশে যায় বহুরূপী বাচ্চু নাসিক ৩ নং ওয়ার্ডে বেপরোয়া ভূমিখেকো বাচ্চু শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব উদযাপনে এসপি হাবিবুর রহমানকে পূজা উদযাপন পরিষদের শুভেচ্ছা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় একযোগে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান যুবলীগ, না যুবদল—রূপগঞ্জে আজিজুল মালুমকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন অসহায় নারীকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন দিয়ে পাশে দাঁড়ালেন নারায়ণগঞ্জ ডিসি ওয়াজ থেকে ফেরার পথে ডাকাতির মুখে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১২

অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় দুদকের চার্জশিট : তবু থামেনি মতির গতি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২২
  • ৬৪৯ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও তার স্ত্রী রোকেয়া রহমানের বিরুদ্ধে ২৩ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদক সচিব মো: মাহবুব হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ক্ষমতাধর এই দম্পত্তির বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ উপায়ে ১৬ কোটি টাকা উপার্জনের অভিযোগে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ধারায় মামলা দুইটি করা হয়। মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের গতি কমেনি মতির।
মামলার এজাহারে মতিউর রহমানের বিরদ্ধে ৬ কোটি ১ লাখ ৭২ হাজার ২৬৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫ হাজার ৬৩৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ৮২ কোটি ৫১ লাখ ৪২৪ টাকা জমা করে পরবর্তীতে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্থান্তর করে অবস্থান গোপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অপর মামলায় মতির স্ত্রী রোকেয়া রহমানের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ব্যাংকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৫ টাকা জমা করে সেখান থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৮ টাকা উত্তোলন করে তা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের পর অবস্থান গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই দম্পতির অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ২৩ কোটি মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড, চরশিমুল পাড়ায় ওরিয়ন গ্রুপ, সুমিলপাড়া সাতঘোড়া সিমেন্ট কারখানা, গোদনাইলে পদ্মা ও মেঘনা দুইটি জ্বালানি তেলের ডিপোসহ অনেক শিল্পকারখানা রয়েছে নাসিকের ছয় নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম জ্বালানি তেল চুরি। তাছাড়া আদমজী ইপিজেড, শিল্প কারখানা ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন। এসব বড় বড় অবৈধ আয়ের সব উৎস এককভাবে নিয়ন্ত্রন করছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। ফলে তিনি নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। দুদক মামলা করার পরও মতির অবৈধ সম্পদ অর্জন অব্যাহত থাকে।
দলীয় সূত্র জানায়, নব্বই দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে যুবলীগে যোগদেয় মতি। গোদনাইল এসও এলাকায় বিএনপির মিছিলে বোমা হামলা করে আলোচনায় উঠে মতি। কারণ বোমা হামলায় মনা নামে এক যুবক নিহত হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে আইলপাড়াস্থ মতির বাড়ি সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের উপর শাহ আলম বাবু নামে এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করার পর থেকেই এলাকার ত্রাস হিসেবে উত্থান ঘটে মতির। পরে ২০০৩ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক হওয়ার পর থেকেই মতিকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

রূপগঞ্জে ঢাকা বাইপাস সড়কের আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন ও অবরোধ

অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় দুদকের চার্জশিট : তবু থামেনি মতির গতি

আপডেট সময় : ১২:২৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২২

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও তার স্ত্রী রোকেয়া রহমানের বিরুদ্ধে ২৩ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদক সচিব মো: মাহবুব হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ক্ষমতাধর এই দম্পত্তির বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ উপায়ে ১৬ কোটি টাকা উপার্জনের অভিযোগে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ধারায় মামলা দুইটি করা হয়। মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের গতি কমেনি মতির।
মামলার এজাহারে মতিউর রহমানের বিরদ্ধে ৬ কোটি ১ লাখ ৭২ হাজার ২৬৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫ হাজার ৬৩৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ৮২ কোটি ৫১ লাখ ৪২৪ টাকা জমা করে পরবর্তীতে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্থান্তর করে অবস্থান গোপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অপর মামলায় মতির স্ত্রী রোকেয়া রহমানের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ব্যাংকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৫ টাকা জমা করে সেখান থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৮ টাকা উত্তোলন করে তা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের পর অবস্থান গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই দম্পতির অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ২৩ কোটি মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড, চরশিমুল পাড়ায় ওরিয়ন গ্রুপ, সুমিলপাড়া সাতঘোড়া সিমেন্ট কারখানা, গোদনাইলে পদ্মা ও মেঘনা দুইটি জ্বালানি তেলের ডিপোসহ অনেক শিল্পকারখানা রয়েছে নাসিকের ছয় নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম জ্বালানি তেল চুরি। তাছাড়া আদমজী ইপিজেড, শিল্প কারখানা ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন। এসব বড় বড় অবৈধ আয়ের সব উৎস এককভাবে নিয়ন্ত্রন করছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। ফলে তিনি নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। দুদক মামলা করার পরও মতির অবৈধ সম্পদ অর্জন অব্যাহত থাকে।
দলীয় সূত্র জানায়, নব্বই দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে যুবলীগে যোগদেয় মতি। গোদনাইল এসও এলাকায় বিএনপির মিছিলে বোমা হামলা করে আলোচনায় উঠে মতি। কারণ বোমা হামলায় মনা নামে এক যুবক নিহত হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে আইলপাড়াস্থ মতির বাড়ি সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের উপর শাহ আলম বাবু নামে এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করার পর থেকেই এলাকার ত্রাস হিসেবে উত্থান ঘটে মতির। পরে ২০০৩ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক হওয়ার পর থেকেই মতিকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি।