নারায়ণগঞ্জ ০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চোরের নাতির চাঁদাবাজির অভিযোগ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জুলাই ২০২১
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নাসিক ৮ নং ওয়ার্ডের ডিস ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রন নিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে চোরের নাতি এমরান হোসেন। অংশিদারদের ঠকিয়ে নিজের প্রতারণা আড়াল করতে সে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করে। এঅভিযোগের সূত্র ধরে এমরানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগকারী জামায়ত শিবিরের দোসর কথিপয় ব্ল্যাকমেইলিং চক্র সিন্ডিকেট গণমাধ্যমকর্মীরা কাউন্সিলর রহুল আমিন মোল্লাকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে চালাচ্ছে অপপ্রচার। এনিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।

কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা জানান, ৮ নং ওয়ার্ডে ফাইভ ষ্টার প্রতিষ্ঠানের নামে ডিস ব্যবসা করতো আনোয়ার। আইনগত জটিলতার কারণে আনোয়ার ব্যবসা করতে না পারায় কয়েকজন সাংবাদিক এমরানের সাথে অলিখিতভাবে ব্যবসায়ীক অংশিদার হয়ে জোর তদবির ও অনুরোধ করে এনায়েতনগর এলাকার মো: আজিজ উল্লার ছেলে এমরান হোসেনের লাইসেন্সে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিতে আমাকে রাজি করায়। তবে ব্যবসা নিয়ে যাতে কোন বিরোধ না হয় তাই স্থানীয় হাবীব মোল্লা, এইচ এম মাহাবুব আলম ও কাজী অহিদ আলমকে অংশিদার করা হয়। কথা চুড়ান্ত হওয়ার পর ২০১৯ সালে এমরান হোসেন ও ধণকুন্ডা এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে মো: সাইফুল ইসলামের মধ্যে একটি যৌথ বা অংশীদারী চুক্তিনামা হয়। চুক্তিতে ৯টি শর্ত ও সকল খরচ বাদে লভ্যাংশের ৬০ পারসেন এমরান ও ৪০ পারসেন অন্য অংশীদাররা পাবেন। এচুক্তি হওয়ার পর থেকে কাজী ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর নামে সুন্দরভাবে ব্যবসা শুরু হয়। দেড় বছর ধরে ব্যবসা চলে আসছে। লভ্যাংশের ৪০ পারসেন হিসেবে অংশীদারদের নিয়মিত প্রদান করে আসছে এমরান। পরে জানা যায় কাজী ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর মালিক এমরান নয়। এর প্রকৃত মালিক তার ভাই মো: আমজাদ হোসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এমরান তার প্রতারণার জন্য রাতে আমার বাসায় এসে ক্ষমা চায়। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলে সে চলে যায়। কিন্তু গত চারমাস ধরে অংশীদারদের লাভ্যাংশ এবং হিসেব দিচ্ছেনা। এনিয়ে বিরোধ দেখা দিলে চুরের নাতি এমরান একক ভাবে ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করতে প্রথমে নিজের অফিস নিজে ভেঙে অংশীদারদের উপর দোষ চাপনোর পাঁয়তারা চালায়। তার অলিখিত অংশীদার গণমাধ্যম কর্মীরাও অপপ্রচার শুরু করে দেয়। তাতেও সুবিধা করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করে থানায়। সে নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে এলাকায় নানা অপর্ক করছে।

এমরানের বিষয়ে কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে দেয়া স্ট্যাটাসে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন। “একটি স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো-“কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি ছবিগুলো ভাইরাল আসলে কে এই ইমরান কি তার বংশ পরিচয় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম বহু পূর্বে ওর পূর্ব পুরুষের কান্ড ওর দাদা নাম তালেব আলী সিদ্দিরগজ্ঞের মিজমিজির কোন এক বাড়িতে নাকি চুরি করে ধরা পরেছিলো পরে নাকি পরিবারের লোকদের খবর দিয়েছিলো লজ্জায় কেউ আনতে যায় নাই পরে গ্রামবাসি গনপিটুনি দিয়ে হত্যা করে নাকি নদীতে ফেলেছে ডেড বডি ও আর পায়নাই সেই রক্তের বংশ ধর আর কতো ভালো হবে। সকলের অবগতির জন্য বলছি কেউ ওর সাথে কোন কাজ করলে খুব সাব ধান এই প্রতারক আপন ভাইয়ে সাথে ও প্রতারনা করতে দ্বিধা বোধ করে না। তাই সকলে সাবধান আর সামাজিক বাবে বয়কট করে চলেন ভালো থাকবেন”।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় গণমাধ্যম কর্মীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডেকেট গড়ে উঠেছে। এসিন্ডিকেট এলাকার বিভিন্ন অপরাধি, অবৈধ ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দিয়ে অর্থিক সুবিধা ভোগ করে। কোন কারণে আর্থিক সুবিধা না দিলেই শুরু হয় মিথ্যা সিন্টিকেট অপপ্রচার। এসিন্ডিকেটকে আর্থিক সুবিধা না দিলেও ভাল মানুষকেও তারা মাদক সম্রাট, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে অপপ্রচার শুরু করে। তাদের এই ব্ল্যাকমেইলিং চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে এসিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন।

কাউন্সিলর রহুল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চোরের নাতির চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৩৮:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জুলাই ২০২১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নাসিক ৮ নং ওয়ার্ডের ডিস ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রন নিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে চোরের নাতি এমরান হোসেন। অংশিদারদের ঠকিয়ে নিজের প্রতারণা আড়াল করতে সে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করে। এঅভিযোগের সূত্র ধরে এমরানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগকারী জামায়ত শিবিরের দোসর কথিপয় ব্ল্যাকমেইলিং চক্র সিন্ডিকেট গণমাধ্যমকর্মীরা কাউন্সিলর রহুল আমিন মোল্লাকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে চালাচ্ছে অপপ্রচার। এনিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।

কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা জানান, ৮ নং ওয়ার্ডে ফাইভ ষ্টার প্রতিষ্ঠানের নামে ডিস ব্যবসা করতো আনোয়ার। আইনগত জটিলতার কারণে আনোয়ার ব্যবসা করতে না পারায় কয়েকজন সাংবাদিক এমরানের সাথে অলিখিতভাবে ব্যবসায়ীক অংশিদার হয়ে জোর তদবির ও অনুরোধ করে এনায়েতনগর এলাকার মো: আজিজ উল্লার ছেলে এমরান হোসেনের লাইসেন্সে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিতে আমাকে রাজি করায়। তবে ব্যবসা নিয়ে যাতে কোন বিরোধ না হয় তাই স্থানীয় হাবীব মোল্লা, এইচ এম মাহাবুব আলম ও কাজী অহিদ আলমকে অংশিদার করা হয়। কথা চুড়ান্ত হওয়ার পর ২০১৯ সালে এমরান হোসেন ও ধণকুন্ডা এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে মো: সাইফুল ইসলামের মধ্যে একটি যৌথ বা অংশীদারী চুক্তিনামা হয়। চুক্তিতে ৯টি শর্ত ও সকল খরচ বাদে লভ্যাংশের ৬০ পারসেন এমরান ও ৪০ পারসেন অন্য অংশীদাররা পাবেন। এচুক্তি হওয়ার পর থেকে কাজী ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর নামে সুন্দরভাবে ব্যবসা শুরু হয়। দেড় বছর ধরে ব্যবসা চলে আসছে। লভ্যাংশের ৪০ পারসেন হিসেবে অংশীদারদের নিয়মিত প্রদান করে আসছে এমরান। পরে জানা যায় কাজী ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর মালিক এমরান নয়। এর প্রকৃত মালিক তার ভাই মো: আমজাদ হোসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এমরান তার প্রতারণার জন্য রাতে আমার বাসায় এসে ক্ষমা চায়। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলে সে চলে যায়। কিন্তু গত চারমাস ধরে অংশীদারদের লাভ্যাংশ এবং হিসেব দিচ্ছেনা। এনিয়ে বিরোধ দেখা দিলে চুরের নাতি এমরান একক ভাবে ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করতে প্রথমে নিজের অফিস নিজে ভেঙে অংশীদারদের উপর দোষ চাপনোর পাঁয়তারা চালায়। তার অলিখিত অংশীদার গণমাধ্যম কর্মীরাও অপপ্রচার শুরু করে দেয়। তাতেও সুবিধা করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করে থানায়। সে নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে এলাকায় নানা অপর্ক করছে।

এমরানের বিষয়ে কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে দেয়া স্ট্যাটাসে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন। “একটি স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো-“কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি ছবিগুলো ভাইরাল আসলে কে এই ইমরান কি তার বংশ পরিচয় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম বহু পূর্বে ওর পূর্ব পুরুষের কান্ড ওর দাদা নাম তালেব আলী সিদ্দিরগজ্ঞের মিজমিজির কোন এক বাড়িতে নাকি চুরি করে ধরা পরেছিলো পরে নাকি পরিবারের লোকদের খবর দিয়েছিলো লজ্জায় কেউ আনতে যায় নাই পরে গ্রামবাসি গনপিটুনি দিয়ে হত্যা করে নাকি নদীতে ফেলেছে ডেড বডি ও আর পায়নাই সেই রক্তের বংশ ধর আর কতো ভালো হবে। সকলের অবগতির জন্য বলছি কেউ ওর সাথে কোন কাজ করলে খুব সাব ধান এই প্রতারক আপন ভাইয়ে সাথে ও প্রতারনা করতে দ্বিধা বোধ করে না। তাই সকলে সাবধান আর সামাজিক বাবে বয়কট করে চলেন ভালো থাকবেন”।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় গণমাধ্যম কর্মীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডেকেট গড়ে উঠেছে। এসিন্ডিকেট এলাকার বিভিন্ন অপরাধি, অবৈধ ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দিয়ে অর্থিক সুবিধা ভোগ করে। কোন কারণে আর্থিক সুবিধা না দিলেই শুরু হয় মিথ্যা সিন্টিকেট অপপ্রচার। এসিন্ডিকেটকে আর্থিক সুবিধা না দিলেও ভাল মানুষকেও তারা মাদক সম্রাট, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে অপপ্রচার শুরু করে। তাদের এই ব্ল্যাকমেইলিং চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে এসিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন।

কাউন্সিলর রহুল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।