নারায়ণগঞ্জ ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, হামলায় আহত ২ নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা সভায় মাদক ও কিশোর গ্যাং সহ সকল অপরাধ নির্মূলে কঠোর অবস্থান প্রশাসনের সিদ্ধিরগঞ্জে ৩২ লাখ টাকা ও ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ব্যাবসায়ীর স্ত্রী উধাও! ভিশন ২০৩০-এর সুযোগে সৌদিতে সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা, দেশে বিনিয়োগের আহ্বান নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মত নৌযান শুমারি ২০২৬ অবহিতকরণ সভায় অনুষ্ঠিত সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ: সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান অধ্যক্ষের নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অন্য জেলার জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: ডিসি মো :রায়হান কবির নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শ্রদ্ধা,দোয়া, স্মরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নারায়ণগঞ্জে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ, আহত ৫ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ

এনজিওকে সরকারী হাসপাতালের দায়িত্ব দেয়া জনবিরোধী : বাংলাদেশ ন্যাপ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুন ২০২১
  • ৩০০ বার পড়া হয়েছে

দেশের সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এনজিওর হাতে দেওয়ার সরকারী সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ বলেছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী এবং দেশের জন্য মারাত্মক খারাপ দৃষ্টান্ত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের সিদ্ধান্ত অবৈজ্ঞানিক ও অজ্ঞতাপ্রসূত। জনস্বার্থ বিরোধী এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যয় আরও বাড়বে, যা সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে চলে যাবে। সেবা তো বাড়বেই না বরং সরকারি স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

শনিবার (২৬ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, এনজিওর হাতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা প্রদান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাস্থ্য খাতে সক্ষমতার অভাব রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। এবং সরকারী দলের দুর্নীতির কারণে। জনগণের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব রাষ্ট্রের তথা সরকারের। কিন্তু সরকার বা রাষ্ট্র তার দায়িত্ব অস্বীকার করে জনগণের স্বাস্থ্য সেবার দায়িত্ব সাম্রাজ্যবাদের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওর কাছে হস্তান্তর করা মানে বাস্তবে জনস্বাস্থ্যকে একটা বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া।

নেতৃদ্বয় বলেন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে পূর্বেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে সেবার মান তো বাড়েনি বরং সেবা পেতে মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। মূলত সংসদে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বেড়ে যাওয়ায় এবং স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পদে প্রশাসন কর্মকর্তাদের পদায়নের প্রচ্ছন্ন মনোবাসনা থেকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় আরো বলেন, বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আমাদের দেশে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হওয়ার পরও ‘আউট অব পকেট এক্সপেনডিউচার’ সবচেয়ে বেশি। সেখানে ব্যবস্থাপনা এনজিওর হাতে গেলে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। চিকিৎসা ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই নয়, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদেরও চিকিৎসাসেবা নাগালের বাইরে চলে যাবে।

তারা বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত যদি সত্যিকারের অর্থেই কল্যানকর হতো তা হলে পৃথিবীর সব রাষ্ট্রেই এনজিওগুলো সরকারি হাসপাতাল পরিচালনা করত। এই ধরনের জনস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত মূলত আমলাতন্ত্রের একটি সুদূরপ্রসারী চিন্তা। প্রথমে তারা এনজিওর হাতে ব্যবস্থাপনা দেবে, এতে এনজিওগুলো চূড়ান্তভাবে অকৃতকার্য হবে। তারপর তারা সব হাসপাতালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ করবে।

নেতৃদ্বয় অবিলম্বে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বর্তমান আমলা-ব্যবসায়ী নির্ভর সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে, দক্ষ জনবল নিয়োগ না দিয়ে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ না করে জনসম্পৃক্ততার ভূঞা আওয়াজ তুলে অবৈজ্ঞানিক ও বাস্তবতাবর্জিত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনস্বাস্থ্যকে মুনাফালোভীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাইছে যা চরমভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যার মাসুল গুনতে হবে দেশের জনগনকে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, হামলায় আহত ২

এনজিওকে সরকারী হাসপাতালের দায়িত্ব দেয়া জনবিরোধী : বাংলাদেশ ন্যাপ

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুন ২০২১

দেশের সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এনজিওর হাতে দেওয়ার সরকারী সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ বলেছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী এবং দেশের জন্য মারাত্মক খারাপ দৃষ্টান্ত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের সিদ্ধান্ত অবৈজ্ঞানিক ও অজ্ঞতাপ্রসূত। জনস্বার্থ বিরোধী এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যয় আরও বাড়বে, যা সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে চলে যাবে। সেবা তো বাড়বেই না বরং সরকারি স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

শনিবার (২৬ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, এনজিওর হাতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা প্রদান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাস্থ্য খাতে সক্ষমতার অভাব রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। এবং সরকারী দলের দুর্নীতির কারণে। জনগণের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব রাষ্ট্রের তথা সরকারের। কিন্তু সরকার বা রাষ্ট্র তার দায়িত্ব অস্বীকার করে জনগণের স্বাস্থ্য সেবার দায়িত্ব সাম্রাজ্যবাদের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওর কাছে হস্তান্তর করা মানে বাস্তবে জনস্বাস্থ্যকে একটা বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া।

নেতৃদ্বয় বলেন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে পূর্বেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে সেবার মান তো বাড়েনি বরং সেবা পেতে মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। মূলত সংসদে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বেড়ে যাওয়ায় এবং স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পদে প্রশাসন কর্মকর্তাদের পদায়নের প্রচ্ছন্ন মনোবাসনা থেকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় আরো বলেন, বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আমাদের দেশে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হওয়ার পরও ‘আউট অব পকেট এক্সপেনডিউচার’ সবচেয়ে বেশি। সেখানে ব্যবস্থাপনা এনজিওর হাতে গেলে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। চিকিৎসা ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই নয়, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদেরও চিকিৎসাসেবা নাগালের বাইরে চলে যাবে।

তারা বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত যদি সত্যিকারের অর্থেই কল্যানকর হতো তা হলে পৃথিবীর সব রাষ্ট্রেই এনজিওগুলো সরকারি হাসপাতাল পরিচালনা করত। এই ধরনের জনস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত মূলত আমলাতন্ত্রের একটি সুদূরপ্রসারী চিন্তা। প্রথমে তারা এনজিওর হাতে ব্যবস্থাপনা দেবে, এতে এনজিওগুলো চূড়ান্তভাবে অকৃতকার্য হবে। তারপর তারা সব হাসপাতালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ করবে।

নেতৃদ্বয় অবিলম্বে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বর্তমান আমলা-ব্যবসায়ী নির্ভর সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে, দক্ষ জনবল নিয়োগ না দিয়ে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ না করে জনসম্পৃক্ততার ভূঞা আওয়াজ তুলে অবৈজ্ঞানিক ও বাস্তবতাবর্জিত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনস্বাস্থ্যকে মুনাফালোভীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাইছে যা চরমভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যার মাসুল গুনতে হবে দেশের জনগনকে।