নারায়ণগঞ্জ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁওয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সিদ্ধিরগঞ্জে ৪টি কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হারামের পয়সা ব্যারামে খায় ,আমি হারাম খাই না খেতেও দেই না-সেলিম ওসমান ভূমি সম্পর্কিত সমস্যা থাকলে গণশুনানিতে আসার আহবান- না.গঞ্জে জেলা  প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-চটগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ সোনারগাঁওয়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৪ অনুষ্ঠিত র‌্যাব পরিচয়ে ৫২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার-৪ সিদ্ধিরগঞ্জে কাতার প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি চিকিৎসার নামে কোনো প্রকার হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না ঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিকের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় গর্ভবতীর পোশাক শ্রমিক নিহত

শিমড়াইলে লকডাউনের মধ্যে চাঁদা দিয়ে চালাতে হচ্ছে অটোরিকশা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
  • ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমড়াইল এলাকায় লকডাউনের মধ্যে চাঁদা দিয়ে চালাতে হচ্ছে চালকদের অটোরিকশা। কেউ চাঁদা না দিলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমড়াইল খানকা জামে মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ রিকশা ভ্যান মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মামুন খাঁনের নেতৃত্বে রকি মিয়া, সুমন মিয়া, সবুজ মিয়া,বাবুল মিয়া, নবী মিয়া প্রতি অটোরিকশা থেকে ত্রিশ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। অপরদিকে ডেমরা চিটাগাংরোড সড়কে মনা মিয়া নামে এক ব্যক্তি অটো চালিত রিকশা থেকে প্রতিদিন প্রতি গাড়ি থেকে এক শ বিশ টাকা এবং প্রতি মাসে প্রত্যেক গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করছেন বলে জানিয়েছেন অটোচালকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদা উত্তোলনকারী এক লাইনম্যান বলেন, প্রতি গাড়ি থেকে যে টাকা উঠানো হয় তার সিংহ ভাগই দিতে হয় সংগঠনের সভাপতি মামুন খাঁন ও তার সহযোগীদের। রোদে পুরে বৃষ্টিতে ভিজে দিন রাত পরিশ্রম করে টাকা উঠাই আমরা আর মজা খাঁয় অফিসে বসে মামুনরা।

অটোচালকরা জানান, কিছুদিন পূর্বে ময়লা সংস্কারের নামে মামুন মিয়া প্রতি অটোরিকশা থেকে পাঁচ শ থেকে সাত শ টাকা করে মোট পঁচিশ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করলোও ময়লা সংস্কারের কোনো কাজ করেননি। সামান্য বৃষ্টি হলে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকে সড়কের উপর। শুধু তাই নয় ময়লার স্তুপের থাকা ময়লার পঁচা গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী থেকে শুরু করে সকল যাত্রীদের।

অটোচালক সুমন মিয়া বলেন, করোনা মহামারিতে বৌ বাচ্চাদের চোখের দিকে তাকিয়ে রাস্তায় বের হয়েছি। কিন্তু চাঁদাবাজদের দৌরাত্ব থেকে কোনোভাবেই রক্ষা পাচ্ছি না আমরা। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি আমরা।

কামাল নামে একজন অটোচালক বলেন, লকডাউনে পড়ে আমরা ভয়াভব সমস্যায় পড়ে আছি। সারাদিন অটো চালিয়ে খাবারের রুজি বের করতে পারি না। তার মধ্যে মরার মধ্যে খারার ঘাঁ। চাঁদা দিতে হচ্ছে চাঁদাবাজ বাহিনীকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন খাঁন জানান, আমরা মালিক সমিতির জন্য প্রতি গাড়ি থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করে থাকি। এসকল টাকা থেকে লাইনম্যান ও অফিস খরচ চালানো হয়। করোনাকালীন সময়ে কিভাবে চাঁদা উত্তোলন করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক মশিউর রহমান (পিপিএমবার) জানান, পরিবহন চাঁদাবাজদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই অনেক চাঁদাবাজকে আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সোনারগাঁওয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

শিমড়াইলে লকডাউনের মধ্যে চাঁদা দিয়ে চালাতে হচ্ছে অটোরিকশা

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমড়াইল এলাকায় লকডাউনের মধ্যে চাঁদা দিয়ে চালাতে হচ্ছে চালকদের অটোরিকশা। কেউ চাঁদা না দিলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমড়াইল খানকা জামে মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ রিকশা ভ্যান মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মামুন খাঁনের নেতৃত্বে রকি মিয়া, সুমন মিয়া, সবুজ মিয়া,বাবুল মিয়া, নবী মিয়া প্রতি অটোরিকশা থেকে ত্রিশ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। অপরদিকে ডেমরা চিটাগাংরোড সড়কে মনা মিয়া নামে এক ব্যক্তি অটো চালিত রিকশা থেকে প্রতিদিন প্রতি গাড়ি থেকে এক শ বিশ টাকা এবং প্রতি মাসে প্রত্যেক গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করছেন বলে জানিয়েছেন অটোচালকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদা উত্তোলনকারী এক লাইনম্যান বলেন, প্রতি গাড়ি থেকে যে টাকা উঠানো হয় তার সিংহ ভাগই দিতে হয় সংগঠনের সভাপতি মামুন খাঁন ও তার সহযোগীদের। রোদে পুরে বৃষ্টিতে ভিজে দিন রাত পরিশ্রম করে টাকা উঠাই আমরা আর মজা খাঁয় অফিসে বসে মামুনরা।

অটোচালকরা জানান, কিছুদিন পূর্বে ময়লা সংস্কারের নামে মামুন মিয়া প্রতি অটোরিকশা থেকে পাঁচ শ থেকে সাত শ টাকা করে মোট পঁচিশ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করলোও ময়লা সংস্কারের কোনো কাজ করেননি। সামান্য বৃষ্টি হলে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকে সড়কের উপর। শুধু তাই নয় ময়লার স্তুপের থাকা ময়লার পঁচা গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী থেকে শুরু করে সকল যাত্রীদের।

অটোচালক সুমন মিয়া বলেন, করোনা মহামারিতে বৌ বাচ্চাদের চোখের দিকে তাকিয়ে রাস্তায় বের হয়েছি। কিন্তু চাঁদাবাজদের দৌরাত্ব থেকে কোনোভাবেই রক্ষা পাচ্ছি না আমরা। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি আমরা।

কামাল নামে একজন অটোচালক বলেন, লকডাউনে পড়ে আমরা ভয়াভব সমস্যায় পড়ে আছি। সারাদিন অটো চালিয়ে খাবারের রুজি বের করতে পারি না। তার মধ্যে মরার মধ্যে খারার ঘাঁ। চাঁদা দিতে হচ্ছে চাঁদাবাজ বাহিনীকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন খাঁন জানান, আমরা মালিক সমিতির জন্য প্রতি গাড়ি থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করে থাকি। এসকল টাকা থেকে লাইনম্যান ও অফিস খরচ চালানো হয়। করোনাকালীন সময়ে কিভাবে চাঁদা উত্তোলন করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক মশিউর রহমান (পিপিএমবার) জানান, পরিবহন চাঁদাবাজদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই অনেক চাঁদাবাজকে আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে।