নারায়ণগঞ্জ ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওয়াজ থেকে ফেরার পথে ডাকাতির মুখে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১২ রূপগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই জন নিহত আড়াইহাজারের যুবদল নেতাকে সোনারগাঁয়ে কুপিয়ে হত্যা সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নেপথ্যে সাবেক কাউন্সিলর বাদলের সহযোগীদের দাবি প্রবাসের মাটিতে বাংলা গানের সুর ছড়াতে রিয়াদে সংগীতশিল্পী তাসলিমা মৌর ‘মিট দ্য প্রেস’ নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও ৫ নম্বর ঘাট বিসর্জনস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৪ সুবিধাবাদী বিএনপি নেতাদের শেল্টারে আওয়ামী দোসর মাসুম রূপগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা; ছাত্র গ্রেফতার

জেলাবাসীর দাবি এসপি শুধু বস্তিতে নয়,অপরাধীদেরপৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদেরও ধরতে হবে

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

 

স্টাফ রিপোর্টার :

জেলায় সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী ও অপরাধ দমন অভিযানে সাফল্য পেলেও সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— অভিযান কি শুধু বস্তি, গলি ও ফুটপাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? অপরাধের মূল নেটওয়ার্ক যারা এসি রুমে বসে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা কবে?

এ নিয়ে ক্ষোভ ও প্রত্যাশা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের স্পষ্ট বার্তা: চুনোপুঁটি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপরাধের অর্থায়নকারী ও পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক অভিযানে মাঠপর্যায়ের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও কিশোর গ্যাং, মাদক ও চাঁদাবাজির বড় নেটওয়ার্ক যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

এক বাসিন্দা বলেন, আমরা একজন যোগ্য ও কর্মঠ পুলিশ সুপার পেয়েছি। বিশেষ অভিযানে আপনারা প্রমাণ করেছেন চাইলেই অপরাধ দমন সম্ভব। তবে এবার সময় এসেছে প্রমাণ করার যে ‘আইন সবার জন্য সমান’— সে অপরাধী বস্তিতে থাকুক কিংবা বিলাসবহুল অফিসে।

তাদের দাবি, যেসব স্থান থেকে চাঁদাবাজি, মাদকের বড় ডিল ও দখলবাজির পরিকল্পনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও সমান তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে কোনো অনিয়ম থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তেরও দাবি জানান তারা।

নাগরিকদের এই উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের অভিযান শুধু রাস্তার বিক্রেতা বা মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় ডিলার, পরিবহনকারী এবং অর্থের যোগানদাতাদের তালিকা তৈরি করছি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নেটওয়ার্কের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত যাব। কারো রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা পদ দেখা হবে না। অপরাধ করলে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

এসপি আরও জানান, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতে ব্যবস্থা—এটিই আমাদের নীতি। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে। এজন্য জনগণের তথ্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ তথ্য দিলে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে।পুলিশ সুপার আরও বলেন, মাদক ওই হচ্ছে সমস্ত অপরাধের মূল। মাদক সেবন করেই সকল অপরাধের সৃষ্টি হয়। তাই প্রথমেই মাদকের উপর কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা থেকে সম্পূর্ণ মাদক নির্মূল করতে পারলে অনেকাংশেই অপরাধ কমে আসবে।

পুলিশের ভেতরে কোনো অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক ও অপরাধের মূলোৎপাটনে শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়। অর্থের উৎস, রাজনৈতিক ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক সপ্তাহে জেলা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জবাসী এখন দেখতে চায়—এই অভিযান কতটা ধারাবাহিক থাকে এবং তা কতটা ‘উপর থেকে নিচ’ পর্যন্ত পৌঁছায়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াজ থেকে ফেরার পথে ডাকাতির মুখে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী

জেলাবাসীর দাবি এসপি শুধু বস্তিতে নয়,অপরাধীদেরপৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদেরও ধরতে হবে

আপডেট সময় : ১০:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার :

জেলায় সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী ও অপরাধ দমন অভিযানে সাফল্য পেলেও সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— অভিযান কি শুধু বস্তি, গলি ও ফুটপাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? অপরাধের মূল নেটওয়ার্ক যারা এসি রুমে বসে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা কবে?

এ নিয়ে ক্ষোভ ও প্রত্যাশা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের স্পষ্ট বার্তা: চুনোপুঁটি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপরাধের অর্থায়নকারী ও পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক অভিযানে মাঠপর্যায়ের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও কিশোর গ্যাং, মাদক ও চাঁদাবাজির বড় নেটওয়ার্ক যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

এক বাসিন্দা বলেন, আমরা একজন যোগ্য ও কর্মঠ পুলিশ সুপার পেয়েছি। বিশেষ অভিযানে আপনারা প্রমাণ করেছেন চাইলেই অপরাধ দমন সম্ভব। তবে এবার সময় এসেছে প্রমাণ করার যে ‘আইন সবার জন্য সমান’— সে অপরাধী বস্তিতে থাকুক কিংবা বিলাসবহুল অফিসে।

তাদের দাবি, যেসব স্থান থেকে চাঁদাবাজি, মাদকের বড় ডিল ও দখলবাজির পরিকল্পনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও সমান তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে কোনো অনিয়ম থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তেরও দাবি জানান তারা।

নাগরিকদের এই উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের অভিযান শুধু রাস্তার বিক্রেতা বা মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় ডিলার, পরিবহনকারী এবং অর্থের যোগানদাতাদের তালিকা তৈরি করছি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নেটওয়ার্কের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত যাব। কারো রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা পদ দেখা হবে না। অপরাধ করলে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

এসপি আরও জানান, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতে ব্যবস্থা—এটিই আমাদের নীতি। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে। এজন্য জনগণের তথ্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ তথ্য দিলে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে।পুলিশ সুপার আরও বলেন, মাদক ওই হচ্ছে সমস্ত অপরাধের মূল। মাদক সেবন করেই সকল অপরাধের সৃষ্টি হয়। তাই প্রথমেই মাদকের উপর কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা থেকে সম্পূর্ণ মাদক নির্মূল করতে পারলে অনেকাংশেই অপরাধ কমে আসবে।

পুলিশের ভেতরে কোনো অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক ও অপরাধের মূলোৎপাটনে শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়। অর্থের উৎস, রাজনৈতিক ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক সপ্তাহে জেলা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জবাসী এখন দেখতে চায়—এই অভিযান কতটা ধারাবাহিক থাকে এবং তা কতটা ‘উপর থেকে নিচ’ পর্যন্ত পৌঁছায়।