সংবাদ শিরোনাম ::
Vibra con los casinos que marcan tendencia en entretenimiento আড়াইহাজার উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের মতবিনিময় বিএনপি নেতা মামুনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ মাদকের আখড়ায় পরিণত সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা সাংবাদিক কাজী মোদাচ্ছের হোসেন সুলতান এর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সিদ্ধিরগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় হামলা, মারধর : নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট আড়াইহাজা‌রে দলীয় পরিচয়ে অন্যায় করলে ছাড় নয়: রাকিবুল ইসলাম রাকিব পদ্মা অয়েল পিএলসি এর মহাব্যবস্থাপক আসিফ মালিক’কে বিদায় সংবর্ধনা বাংলা ৫২ নিউজ ডটকমের ১০ম বর্ষে পদার্পণ আড়াইহাজারে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ইর্ষান্বিত হয়েই আজাদের বিরু’দ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে : উপজেলা বিএনপি

অস্ত্রের মুখে ১ ব্যক্তিকে অপহরণ করে হত্যা চেষ্টা অভিযোগ বিএনপি নেতা শাহ আলম মানিকের বিরুদ্ধে

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদালতে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুল (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে সশস্্র বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে পিস্তলের বাট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম মানিকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি সীমা ডাইং এলাকা থেকে তাকে কয়েকটি হাইয়েস ও মোটরসাইকেলযোগে অপহরণ করে সুমিলপাড়া আইলপাড়া এলাকায় এনে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
অপহরণের শিকার বাবুল সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া আইলপাড়ার ক্রাউন সিমেন্ট রেডিমিক্স ফ্যাক্টরী সংলগ্ন এলাকার মৃত শরিয়তউল্লাহ গেদার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র মতে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে খবর পেয়ে এলাকাবাসী লাঠি-সোটা নিয়ে বিএনপির ওই নেতাসহ তার বাহিনীকে ধাওয়া করলে শাহ আলম মানিকসহ তার বাহিনী পালিয়ে যায়। এসময় বাবুলকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবুল জানান, আমাদের বসতঘরের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য শাহ আলম মানিক দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমরা জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শাহ আলম মানিক আমাদের হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ আদালতে শাহ আলম মানিককে প্রধান আসামী করে ৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালত থেকে শাহ আলম মানিকের কাছে নোটিশ আসার পর সে আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে সে খবর পায় আমি জালকুড়ি সীমা ডাইং এর কাছে আছি। তখন শাহ আলম মানিক ৩টি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলযোগে ৩০-৩৫ জনের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে সন্ধ্যায় আমাকে জালকুড়ি সীমা ডাইং এলাকা থেকে অপহরণ করে মারধর শুরু করে এবং টেনে হিচড়ে গাড়িতে তুলে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের চর সুমিলপাড়ায় নিয়ে আসে। এ সময় শাহ আলম মানিক আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাদা দাবি করে এবং মামলা প্রত্যাহার করে বসতঘর ছেড়ে দিতে বলে। আমি রাজি না হওয়ায় শাহ আলম মানিক পিস্তলের বাট দিয়ে আমার চেহারায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় আমি ওই বিএনপি নেতার পায়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাই। তবুও তারা আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
এদিকে বাবুলকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করার খবর পেয়ে বিএনপি কর্মী রুহুল আমিনের নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠি-সোটা নিয়ে ধাওয়া করলে শাহ আলম মানিক তার দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহ আলম মানিক বলেন, শুনেছি কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে বিএনপি কর্মী রুহুল ও তার লোকজন। তবে আমি নিজ চোখে দেখিনি এবং শব্দও পাইনি। কি কারণে রুহুল লাঠি-সোটা হাতে ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে কাকে ধাওয়া করেছে আমি কিছুই জানিনা। তবে তারা আমার বাড়ি-ঘরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে এবং গাছে সাটানো আমার ছবিসহ ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে। ঘটনার সময় আমি ভয়ে একটি সিমেন্ট কারখানায় আশ্রয় নিয়েছি। তিনি কাউকে অপহরণ ও মারধর করেননি বলে জানান। তবে বাবুলের যে জমি, সে জমি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক এবং বাবুল ও তার ভাই আবুলগংরা জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছে বলে শাহ আলম মানিক জানান।
অপরদিকে, বিএনপি কর্মী রুহুল আমিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম মানিক দলবল নিয়ে বাবুল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য জালকুড়ি থেকে অপহরণ করে এনে মারধর করছে এমন খবর পেয়ে আমরা এলাকাবাসী বাবুলকে উদ্ধার করতে লাঠি-সোটা নিয়ে ছুটে যাই কিন্তু আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই বাবুলকে মারধর করে মুমুর্ষ অবস্থায় ফেলে শাহ আলম মানিকগং পালিয়ে যায়। এখানে গুলিবর্ষণের কোন ঘটনা ঘটেনি এবং শাহ আলম মানিকের বাড়ি-ঘরে আমরা কেউ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করিনি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ শাহীনুর আলম জানান, বিএনপি নেতা শাহ আলম মানিক জালকুড়ি থেকে বাবুলকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করার খবর পেয়ে এলাকাবাসী লাঠিসেটা নিয়ে বাবুলকে উদ্ধার করেতে ছুটে যায়। তবে কোন গুলির ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Vibra con los casinos que marcan tendencia en entretenimiento

অস্ত্রের মুখে ১ ব্যক্তিকে অপহরণ করে হত্যা চেষ্টা অভিযোগ বিএনপি নেতা শাহ আলম মানিকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদালতে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুল (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে সশস্্র বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে পিস্তলের বাট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম মানিকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি সীমা ডাইং এলাকা থেকে তাকে কয়েকটি হাইয়েস ও মোটরসাইকেলযোগে অপহরণ করে সুমিলপাড়া আইলপাড়া এলাকায় এনে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
অপহরণের শিকার বাবুল সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া আইলপাড়ার ক্রাউন সিমেন্ট রেডিমিক্স ফ্যাক্টরী সংলগ্ন এলাকার মৃত শরিয়তউল্লাহ গেদার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র মতে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে খবর পেয়ে এলাকাবাসী লাঠি-সোটা নিয়ে বিএনপির ওই নেতাসহ তার বাহিনীকে ধাওয়া করলে শাহ আলম মানিকসহ তার বাহিনী পালিয়ে যায়। এসময় বাবুলকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবুল জানান, আমাদের বসতঘরের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য শাহ আলম মানিক দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমরা জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শাহ আলম মানিক আমাদের হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ আদালতে শাহ আলম মানিককে প্রধান আসামী করে ৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালত থেকে শাহ আলম মানিকের কাছে নোটিশ আসার পর সে আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে সে খবর পায় আমি জালকুড়ি সীমা ডাইং এর কাছে আছি। তখন শাহ আলম মানিক ৩টি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলযোগে ৩০-৩৫ জনের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে সন্ধ্যায় আমাকে জালকুড়ি সীমা ডাইং এলাকা থেকে অপহরণ করে মারধর শুরু করে এবং টেনে হিচড়ে গাড়িতে তুলে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের চর সুমিলপাড়ায় নিয়ে আসে। এ সময় শাহ আলম মানিক আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাদা দাবি করে এবং মামলা প্রত্যাহার করে বসতঘর ছেড়ে দিতে বলে। আমি রাজি না হওয়ায় শাহ আলম মানিক পিস্তলের বাট দিয়ে আমার চেহারায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় আমি ওই বিএনপি নেতার পায়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাই। তবুও তারা আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
এদিকে বাবুলকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করার খবর পেয়ে বিএনপি কর্মী রুহুল আমিনের নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠি-সোটা নিয়ে ধাওয়া করলে শাহ আলম মানিক তার দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহ আলম মানিক বলেন, শুনেছি কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে বিএনপি কর্মী রুহুল ও তার লোকজন। তবে আমি নিজ চোখে দেখিনি এবং শব্দও পাইনি। কি কারণে রুহুল লাঠি-সোটা হাতে ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে কাকে ধাওয়া করেছে আমি কিছুই জানিনা। তবে তারা আমার বাড়ি-ঘরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে এবং গাছে সাটানো আমার ছবিসহ ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে। ঘটনার সময় আমি ভয়ে একটি সিমেন্ট কারখানায় আশ্রয় নিয়েছি। তিনি কাউকে অপহরণ ও মারধর করেননি বলে জানান। তবে বাবুলের যে জমি, সে জমি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক এবং বাবুল ও তার ভাই আবুলগংরা জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছে বলে শাহ আলম মানিক জানান।
অপরদিকে, বিএনপি কর্মী রুহুল আমিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম মানিক দলবল নিয়ে বাবুল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য জালকুড়ি থেকে অপহরণ করে এনে মারধর করছে এমন খবর পেয়ে আমরা এলাকাবাসী বাবুলকে উদ্ধার করতে লাঠি-সোটা নিয়ে ছুটে যাই কিন্তু আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই বাবুলকে মারধর করে মুমুর্ষ অবস্থায় ফেলে শাহ আলম মানিকগং পালিয়ে যায়। এখানে গুলিবর্ষণের কোন ঘটনা ঘটেনি এবং শাহ আলম মানিকের বাড়ি-ঘরে আমরা কেউ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করিনি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ শাহীনুর আলম জানান, বিএনপি নেতা শাহ আলম মানিক জালকুড়ি থেকে বাবুলকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করার খবর পেয়ে এলাকাবাসী লাঠিসেটা নিয়ে বাবুলকে উদ্ধার করেতে ছুটে যায়। তবে কোন গুলির ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।