স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের চরম অসদাচরণের শিকার হয়েছেন ‘বাংলাদেশ সমাচার’-এর বিশেষ প্রতিনিধি শেখ সুমন। একজন গণমাধ্যমকর্মীর সাথে ওসির এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অপেশাদার আচরণে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৪ জুলাই শুক্রবার দুপুরে পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহের জন্য বন্দর থানায় যান সাংবাদিক শেখ সুমন। এ সময় তিনি থানার ওসি জামাল উদ্দিনের কাছে একটি বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও বক্তব্য চাইলে ওসি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তথ্য প্রদানে সহযোগিতা করার পরিবর্তে তিনি ওই সাংবাদিকের সাথে অত্যন্ত বাজে ও দুর্ব্যবহারমূলক আচরণ করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, ওসি জামাল উদ্দিন তথ্য অধিকার আইনের মনগড়া ও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলেন এবং উপস্থিত সবার সামনে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, বন্দর থানায় ওসি জামাল উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সাংবাদিকদের সাথে এমন অপেশাদার আচরণ করে আসছেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও গণমাধ্যমের সাথে এমন বৈরী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করেন তারা।
পরবর্তীতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক শেখ সুমন মুঠোফোনে ওসির সাথে যোগাযোগ করলে ওসি জামাল উদ্দিন নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় নিজের সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, ”সাংবাদিক ভাইটিকে আমি তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে পারিনি, যার কারণে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।”
এদিকে ওসির এমন আচরণে ক্ষুব্ধ বন্দর এলাকার কর্মরত সাংবাদিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা মনে করেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ও অবাধ তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভবিষ্যতে যেন কোনো সংবাদকর্মী এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হেনস্তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে এবং বন্দর থানায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা বজায় রাখতে ঢাকা বিভাগীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
প্রতিনিধির নাম 


















