ড্যান্স গ্রুপের গ্রান্ড মাষ্টার ডাকাত সর্দার রনি

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় “বন্ধু  ড্যান্স একাডেমী” নামক একটি ড্যান্স গ্রুপের গ্র্যান্ড মাষ্টার সাখাওয়াত হোসেন রনি (২৫)। সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে তিনি। ড্যান্স গ্রুপের আড়ালে ডাকাত সর্দার হয়ে উঠেন রনি। বিয়ে, জন্মদিন ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে ড্যান্স কনসার্টের আড়ালে করতেন ডাকাতি। বিদেশী পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সর্দার সাখাওয়াত হোসেন রনিসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। ডাকাতির প্রস্তুতি কালে শুক্রবার (২৬ আগস্ট) শেষ রাতে সোনারগাঁ উপজেলার পূর্বভবনাথপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে আদমজী র‌্যাব-১১ সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে ভয়ঙ্কর এতথ্য জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলো- আড়াইহাজারের জাঙ্গালিয়া দামীরদার গ্রামের মৃত নুকুর ছেলে মোহেল (৩২), ঢাকার ধামরাইল থানার চৌটাইল এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৬), সাভার থানার কাতলাপুর এলাকার মৃত ওমর হোসেনের ছেলে ইসমাইল (৩৮), সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর সেনপাড়ার মৃত নাক্কু মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৩) ও গোপালগঞ্জ সদরের রাউৎপাড়া এলাকার নারায়ণচন্দ্র দের ছেলে সুজন দে (৩০)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ম্যাগাজিন ভর্তি একটি বিদেশী পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি (তাঁজা), এক রাউন্ড গুলি (ব্লাংক), একটি ছোরা, একটি রামদা, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুইটি তালা ভাঙ্গার শাবল।
র‌্যাব অধিনায়ক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত সর্দার সাখাওয়াত হোসেন রনি স্বীকার করেছে, সে নিজেকে কাঁচপুর এলাকায় “বন্ধু ড্যান্স একাডেমী” নামক একটি ড্যান্স গ্রুপের গ্র্যান্ড মাষ্টার পরিচয়ে বিয়ে, জন্মদিন বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ড্যান্স কনসার্ট অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন প্রবাসী ও ধনী ব্যক্তিদের বাড়ী টার্গেট করে ভিকটিমের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে সে তার টার্গেট করা বাড়ীগুলোতে পরিকল্পিত ভাবে ডাকাতি করতো। ডাকাতি করতে গিয়ে মানুষকে মারধর, ছুরিকাঘাত এমনকি হত্যাও করা হত।
তিনি আরো জানান, ডাকাত সর্দার সাখাওয়াত হোসেন রনির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলা রয়েছে আড়াইহাজার থানায় তিনটি, সোনারগাঁও থানায় একটি। সোহেলের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় তিনটি, সোনারগাঁও থানায় একটি অস্ত্রসহ ডাকাতি ও একটি মাদক মামলা রয়েছে। শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি অস্ত্রসহ ডাকাতি ও দুইটি ধর্ষণসহ বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। সুজন দের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ থানায় একটি চুরি ও মুকছেদপুর থানায় একটি ধর্ষণসহ হত্যা মামলা রয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।