বিড়ি-মদ খাওয়া, প্রেম করা এইগুলা কই পাইছেন? আমিই তো দিছি : পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক : ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করে হঠাৎ আলোচনায় আসা ঢাকাই ছবির নায়িকা পরীমনি এক পরিচালককে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‌‘আপনি পরিচালক হইয়া ৫ বছরে একটা সিনেমা বানান আর আমার এক বছরে পাঁচ সিনেমা রিলিজ হয়, আমার তো প্রচুর সমস্যা! আপনারে প্রযোজক বাগাইতে দিলাম না, ওরে সমস্যা’!

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্মৃতি পরীমনি নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দিয়ে সেটি তার ভেরিফায়েড পেজ থেকে শেয়ার করেন।

সেখানে নায়িকা লিখেছেন—বিড়ি-মদ খাওয়া, প্রেম করা এইগুলা কই পাইছেন? আমিই তো দিছি।

পরীমনির স্ট্যাটাসটি হুবহু দেওয়া হলো—

‘‘সমস্যা হইলো …আমি মাইয়া লোক কিন্তু লুতুপুতু মাইয়া টাইপ আচরণ করি নাই আপনার সঙ্গে, ঘইটা গেল সমস্যা!
চিকন সুরে ভাইয়া ভাইয়া করি নাই আপনারে, বিশাল সমস্যা!

কাজের ফাঁকে আলগা রসের পিরিতের আলাপ করি নাই, ব্যাস এই তো সমস্যা! কাজে মতপ্রকাশের অধিকার দেখাইছি, তাতেই সমস্যা!

আপানার চোক্ষের সামনে আরো পাঁচ-দশজনের মতো না হারাইয়া যাইয়া দিন দিন ক্যারিযার বানাইতেছি, নাম কামাইতেছি…এইখানে হইয়া গেল সমস্যা!

আপনি পরিচালক হইয়া ৫ বছরে একটা সিনেমা বানান আর আমার এক বছরে পাঁচটা সিনেমা রিলিজ হয়, আমার তো প্রচুর সমস্যা!

আপনারে প্রযোজক বাগাইতে দিলামনা, ওরে সমস্যা!

শুটিং সেটে উহ আহ করা দামরা ধইরা নগদে থাপড়াই, চরম সমস্যা!

কোনো রকম চামচামি না নিয়া আপনার মুখের উপরে তিতা সত্য বইলা দেই, আমারই তো সমস্যা!

তার পর তো বিড়ি খাওয়া, মদ খাওয়া, প্রেম করা, বিদেশে ইচ্ছামতো ঘুরতে যাওয়া, শুয়োরের বাচ্চা-বালছাল বইলা গালিটালি দেওয়া, পিরিয়ড নিয়া কথা বলা এইগুলাতো আছেই! পাইছেন কই এইগুলা? আমিই তো দিছি।

আপনাদের মন ভরে না কেন বলেন তো!?

আহারে একটু জিরান এইবার। ক্ষমা দেন। অন্যায়কে অন্যায় বলতে শিখেন! অপরাধীকে অপরাধী বলতে শিখেন। একটা ন্যায়ের জন্যে লড়াইয়ের সাথে থাকেন। না পারলে এইবার অন্তত নিজের ব্যাক্তিগত হিংসাত্মক আক্রমণ কইরেন না প্লিজ।

এই লড়াই শুধু যে আমার একার না এইটা বোঝার সু-জ্ঞান উদয় হোক সবার।’’

গত ১৩ জুন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী পরীমনি। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে পর দিনই সাভার থানায় শুধু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন তিনি। ১৪ জুন উত্তরার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযুক্ত নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে মাদকসহ গ্রেফতার করে।