নারায়ণগঞ্জ ০৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফতুল্লায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার কল্যাণ তহবিলের চেক বিতরণে -রাষ্ট্র ও প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে : ডিসি রায়হান, কবির নারায়ণগঞ্জে রেল সেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটা প্রকল্পেরই অংশ: রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নারায়ণগঞ্জে এইচএসি কেন্দ্র পরিদর্শন: ‘সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নের প্রত্যাশা’ ডিসির ফতুল্লায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, দুই ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির উদ্যোগ ডিসির সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যক্তিকে পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে শিক্ষা-থেরাপি সামগ্রী বিতরণ করেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন দক্ষতাই স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মূল হাতিয়ার’: ডিসি রায়হান কবির ফতুল্লায় ঘুমন্ত স্বামীকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

বাবাকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজান ছেলে

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

ফতুল্লা প্রতিনিধি : মুক্তিযোদ্ধা আ: হালিমের (৭২) দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েকে সম্পত্তির ভাগ দেওয়ার কথা শুনেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে একমাত্র ছেলে এইচএম মাসুদ (৪২)। এজন্য পাঁচ লাখ টাকা চুক্তিতে এক অটো ড্রাইভার মো. রুবেলকে (২৭) যুক্ত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্বাসরোধ করে বাবাকে হত্যাও করেন। তবে সেই হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির নাটক সাজান ছেলে মাসুদ।

রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদরদপ্তরে রুবেলকে গ্রেফতারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আ: হালিমের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা তোলেন তিনি। সেই টাকা থেকে দুই মেয়েকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছেলেকে জানান হালিম। এছাড়া হালিম তার সম্পত্তির ভাগও দিতে চান দুই মেয়েকে। এতেই মুক্তিযোদ্ধা বাবা আ: হালিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে মাসুদ। এই পরিকল্পনায় যুক্ত করেন পরিবারের পূর্বপরিচিত অটো ড্রাইভার মো. রোবেলকে (২৭)।

‘রুবেল মুক্তিযোদ্ধা আ: হালিমের পরিবারের পূর্বপরিচিত। তিনি পরিবারটির বিভিন্ন কাজকর্ম করে বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। ঘটনার দিন মাসুদ রুবেলকে ফোন দিয়ে দ্রুত তাদের বাড়িতে যেতে বলেন। রাতে ফোন পেয়ে রুবেল বাসায় প্রবেশ করে। বাসার ২য় তলায় যেখানে মাসুদ এবং তার বাবা বসবাস করে সেখানে গিয়ে পূর্ব থেকেই অবস্থান নেয়। রাতে মাসুদের বাবা আ: হালিম (৭২) ঘুমিয়ে পড়লে তারা উভয়ই তার রুমে প্রবেশ করে।’

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার আরও বলেন, তারা প্রথমে বিছানার মশারি খুলে, ছেলে মাসুদ তার বাবার হাত পা চেপে ধরে এবং রুবেল তার দুই হাত দিয়ে আ: হালিমের গলা চেপে ধরে। এতে হালিম চিৎকার দিলে রুবেল বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। মারা যাওয়ার পর তার ছেলে মাসুদ তার ঘরে থাকা ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মাপার যন্ত্র দিয়ে ব্লাড প্রেসার মেপে মৃত্যু হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হন। পরে আলমারি থেকে ৫ লাখ টাকা এবং তাদের বাসার সিসি টিভি ক্যামেরার ডিবিআর বক্স বাইরে ফেলে দেওয়ার জন্য রুবেলকে দেন তিনি।

‘তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ডাকাতির নাটক সাজাতে আসামি রুবেল নিহতের ছেলে মাসুদাকে পাটের রশি দিয়ে হাত-পা এবং গামছা দিয়ে মুখ বেধে ফ্লোরে ফেলে রাখে। আর বাসা থেকে টাকা এবং সিসি টিভি ক্যামেরার ডিবিআর বক্স নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনার পর আশপাশের মানুষকে ডাকাতরা তাকে বেঁধে তার বাবাকে হত্যা করেছে বলে জানায় মাসুদ। পরদিন রুবেলকে পলাতক থাকার কথাও বলে মাসুদ।’

তিনি বলেন, ঘটনার পর পলাতক থাকেন মো. রুবেল। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর গতকাল শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় তার বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত অপর আসামি মাসুদকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সেটাও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ফতুল্লায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

বাবাকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজান ছেলে

আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ফতুল্লা প্রতিনিধি : মুক্তিযোদ্ধা আ: হালিমের (৭২) দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েকে সম্পত্তির ভাগ দেওয়ার কথা শুনেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে একমাত্র ছেলে এইচএম মাসুদ (৪২)। এজন্য পাঁচ লাখ টাকা চুক্তিতে এক অটো ড্রাইভার মো. রুবেলকে (২৭) যুক্ত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্বাসরোধ করে বাবাকে হত্যাও করেন। তবে সেই হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির নাটক সাজান ছেলে মাসুদ।

রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদরদপ্তরে রুবেলকে গ্রেফতারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আ: হালিমের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা তোলেন তিনি। সেই টাকা থেকে দুই মেয়েকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছেলেকে জানান হালিম। এছাড়া হালিম তার সম্পত্তির ভাগও দিতে চান দুই মেয়েকে। এতেই মুক্তিযোদ্ধা বাবা আ: হালিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে মাসুদ। এই পরিকল্পনায় যুক্ত করেন পরিবারের পূর্বপরিচিত অটো ড্রাইভার মো. রোবেলকে (২৭)।

‘রুবেল মুক্তিযোদ্ধা আ: হালিমের পরিবারের পূর্বপরিচিত। তিনি পরিবারটির বিভিন্ন কাজকর্ম করে বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। ঘটনার দিন মাসুদ রুবেলকে ফোন দিয়ে দ্রুত তাদের বাড়িতে যেতে বলেন। রাতে ফোন পেয়ে রুবেল বাসায় প্রবেশ করে। বাসার ২য় তলায় যেখানে মাসুদ এবং তার বাবা বসবাস করে সেখানে গিয়ে পূর্ব থেকেই অবস্থান নেয়। রাতে মাসুদের বাবা আ: হালিম (৭২) ঘুমিয়ে পড়লে তারা উভয়ই তার রুমে প্রবেশ করে।’

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার আরও বলেন, তারা প্রথমে বিছানার মশারি খুলে, ছেলে মাসুদ তার বাবার হাত পা চেপে ধরে এবং রুবেল তার দুই হাত দিয়ে আ: হালিমের গলা চেপে ধরে। এতে হালিম চিৎকার দিলে রুবেল বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। মারা যাওয়ার পর তার ছেলে মাসুদ তার ঘরে থাকা ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মাপার যন্ত্র দিয়ে ব্লাড প্রেসার মেপে মৃত্যু হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হন। পরে আলমারি থেকে ৫ লাখ টাকা এবং তাদের বাসার সিসি টিভি ক্যামেরার ডিবিআর বক্স বাইরে ফেলে দেওয়ার জন্য রুবেলকে দেন তিনি।

‘তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ডাকাতির নাটক সাজাতে আসামি রুবেল নিহতের ছেলে মাসুদাকে পাটের রশি দিয়ে হাত-পা এবং গামছা দিয়ে মুখ বেধে ফ্লোরে ফেলে রাখে। আর বাসা থেকে টাকা এবং সিসি টিভি ক্যামেরার ডিবিআর বক্স নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনার পর আশপাশের মানুষকে ডাকাতরা তাকে বেঁধে তার বাবাকে হত্যা করেছে বলে জানায় মাসুদ। পরদিন রুবেলকে পলাতক থাকার কথাও বলে মাসুদ।’

তিনি বলেন, ঘটনার পর পলাতক থাকেন মো. রুবেল। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর গতকাল শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় তার বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত অপর আসামি মাসুদকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সেটাও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিন।