প্রেমিককে অপহরণের ১ মাস পর প্রেমিকাসহ ৩ অপহরণকারি গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রেমিকা সেজে ১ মাস আগে চাচাত ভাই প্রেমিক মো: আব্দুল আজিজ(১৮) নামে একযুবককে অপহরণ করে আটক রেখে ৮৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়। আরো ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে, অপহৃতকে হত্যার হুমকির অভিযোগে প্রেমিকা লিপি আক্তারসহ ৩ অপহরণকারিকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার বাড্ডা ও মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার মির্জাচর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তর বাড্ডার ১৯৮ নম্বর মিস্ত্রিতলায় থাকা রবিনের ভাড়া বাসা থেকে অক্ষাত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ভিকটিম আব্দুল আজিজ ও তার ব্যবহৃত মোবাইল সেট।
আটকরা হলো- মূলহোতা লিপি আক্তার ও তার সহযোগি রবিন এবং সুমন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড এলাকাস্থ পিবিআই‘র কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই‘র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, সোনারগাঁ থানার মো: মাছুস (২৮) নামে একজন গত ৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ জানায়, গত ১ মাস আগে তার ভাই আব্দুল আজিজকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে ৮৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ প্রদান করা হয়েছে। তারপর অজহরণকারিরা আব্দুল আজিজকে মুক্তি না দিয়ে আরো ২ লাখ টাকা দাবি করছে। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে আব্দুল আজিজকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি প্রদান করছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিপিআই পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম পরিদর্শক মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পারেন গত ৪ আগস্ট বিকেল ৩ টার দিকে গরু বিক্রির ৮৪ হাজার টাকা নিয়ে আব্দুল আজিজ নিখোঁজ হয়। তার কোন সন্ধান না পেয়ে ১৯ আগস্ট সোনারগাঁ থানায় একটি জিডি করা হয়। পরে অপহরণকারিরা ভিকটিমের ফোন দিয়ে তার বাড়ির লোকজনকে জানায় তাকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করছে। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টায় ২ লাখ টাকা দাবি করে। না দিলে ভিকটিমকে হত্যা করা হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ৬ ঘন্টার মধ্যেই বাড্ডা থেকে প্রথমে রবিনকে তার পর সুমন ও পরে মূলহোতা লিপি আক্তারকে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। ৮৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে গ্রহণ করার কথা আটকরা স্বীকার করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার। ধৃত অপহরণকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে সোনারগাঁ থানা পুলিশের কাছে হস্তন্তর করা হয়েছে।