সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার ডালিম মোহাম্মদ গংদের ৫৪ শতাংশ জমি দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে শাহ পরাণ শিপুর বিরুদ্ধে। বর্তমান বাজার দরে এ জমির মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
জমির অংশিদার জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজায় ক্রয়সূত্রে ৮২ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন হোসেন মাদবর। সাহেব আলী, ছাহেদ আলী, আয়াত আলী ও আশরাফ আলী নামে ৪ ছেলে এবং তুলি বিবি নামে এক মেয়ে রেখে মারা যান হোসেন মাদবর। ফরায়েজ মতে পৈত্রিক ওয়ারিশসূত্রে প্রত্যেক ছেলে ১৮ শতাংশ ও মেয়ে ৯ শতাংশ জমির মালিক হন। ভোগদখলে থাকা অবস্থায় একাধিক ওয়ারিশ রেখে মারা যান সাহেব আলী, ছাহেদ আলী, আয়াত আলী, আশরাফ আলী ও তুলি বিবি। এর পর থেকে এ জমি দেখভাল করতেন মৃত আশরাফ আলীর ছেলে জহির। ক্রয়সূত্রে মালিকানা দলিল, সিএস ও এসএ রেকর্ডে মালিকানার ধারাবাহিকথা ঠিক ছিল। অন্য অংশিদারদের সড়লতার সুযোগ নিয়ে জহির সমস্ত জমি তার নিজের করে নেয়। জহির মারা যাওয়ার পর তার ছেলে শাহ পরান শিপু আরএস রেকর্ডমূলে গোপনে নিজের নামে নামজারী করে। শিপু সমস্ত জমির একক মালিক দাবি করে বর্তমান বাজার দরের চেয়ে অনেক কম মূল্যে এক জমি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেয়। ওই ব্যবসায়ী বায়নাসূত্রে মালিক দাবি করে জমিতে বালু ভরাট শুরু করলে শিপু ও তার পিতার চালাকি সামনে আশে। তখন অন্য ৪৫ জন অংশিদারের পক্ষে ডালিম মোহাম্মদ বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করেন। মামলা নিস্পত্তির আগেই গত ১০ অক্টোবর জমিতে বাউন্ডারী দেয়াল করার প্রস্ততি শুরু করেন জমি ব্যবসায়ী। ফলে মঙ্গলবার সকালে জমির সকল অংশিদার একত্র হয়ে দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করার উদ্যোগ নেন। তারা সবাই জমিতি গিয়ে ফরায়েজ অনুযায়ী পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওনা শাহ পরান শিপুর ১৮ ও তুলি বিবির ৯ শতাংশ আলাদা করে ৫৪ শতাংশ নিজেদের দখলে নেন।
মামলার বাদী ডালিম মোহাম্মদ জানান, শাহ পরান শিপু অপর কেউ নয়। আমাদের চাচাতো ভাই। তুলি বিবির অংশসহ শিপুগং ২৭ শতাংশের মালিক। কিন্তু সে একাই ৮২ শতাংশ বিক্রি করে দিয়েছে। তা জানার পর সকল অংশিদারের পক্ষ থেকে আমি আদালতে মামলা করেছি। মামলা নিস্পত্তি হওয়ার আগে কাউকে জমির দখল নিতে দেবনা ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ পরান শিপু বলেন, এ জমি আমার দাদারাই বিক্রি করে গেছে। যাদের কাছে বিক্রি করে ছিল তাদের কাছ থেকে আমার পিতা আবার কিনে নিয়েছে। ফলে পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে আমি সমস্ত জমির মালিক।
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: 


















