নারায়ণগঞ্জ ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ফতুল্লায় স্টেডিয়াম সংলগ্ন লিংক রোডে ট্রাকের চাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু হরিজন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ডিসির কাছে স্মারকলিপি দিল হরিজন ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ গড়েতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা র‍্যালি প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের সাথী এনটিভি: রিয়াদে জমকালো আয়োজনে ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নারায়ণগঞ্জে রাস্তায় ময়লা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা : ডিসি আইবিএন নিউজ বাংলাদেশ ব্যুরোর ডেপুটি ব্যুরো চিফ হলেন এসএম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ দেশীয় অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল গ্রেপ্তার বন্দরে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে ওসির অসদাচরণের শিকার সাংবাদিক, তীব্র ক্ষোভ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক; হাইকোর্টের রুল ।

নাসিক ১ নং ওয়ার্ডে সরকারি হালট দখল করার অনুমতি দিলেন কাউন্সিলর

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ অগাস্ট ২০২২
  • ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাগলা বাড়ী এলাকায় সরকারি হালট দখল করে নির্মিত বহুতল ভবন না ভাঙায় সড়ক নির্মাণে বিঘœ ঘটছে। সড়কটি কাগজে কলমে ১৬ ফুট প্রশস্ত থাকলেও সিটি করপোরেশন ১২ ফুট প্রশস্ত করার টেন্ডার দিয়েছেন। কিছু ভবন আংশিক ভাঙা হলেও অধিকাংশ ভবন রয়েছে বহাল তবিয়তে। ফলে সড়কটি কোথায় ১০ ফুট কোথায় ৮ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। সড়কটি সরকারি হালট হলেও তা দখলমুক্ত না করে একটি পরিবারকে সরকারি জায়গায় ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আনোয়ার ইসলাম ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফর। অথচ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারি জায়গায় কাউকে স্থাপনা নির্মাণের লিখিত অনুমতি দিতে পারেন না কাউন্সিলর। এনিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ।
জানা গেছে, মিজমিজি পুর্বপাড়া পাগলাবাড়ী ক্যানেলপাড় হতে মজিববাগ মসজিদ পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি সরকারি হালট। সিএস ও আরএস রেকর্ডেও তা হালট হিসেবে রাখা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বিভিন্ন লোকজন সরকারি হালটটি দখল করে নির্মাণ করে বহুতল ভবন। কাগজে কলমে ১৬ ফুট প্রশন্ত রাস্তা থাকলেও বাড়ী-ঘর নির্মাণের ফলে কোথায় ৮ ফুট কোথায় ৬ ফুট প্রশস্ত রাখা হয়। এতে এরাস্তা দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশন রাস্তাটি ১২ ফুট প্রশস্ত করার টেন্ডার করেন। পরে মেপে বিভিন্ন বাড়ী ভাঙার জন্য লাল দাগ দেওয়া হয়। রহস্য জনক কারণে রাস্তার একপাশের কিছু বাড়ী ভাঙা হলেও আরেক পাশে বহাল তবিয়তে থাকে। এসব বাড়ী না ভাঙায় রাস্তা ১২ ফুট প্রশস্ত করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে কোথায় ১০ ফুট কোথায় ৮ ফুট প্রশস্ত করেই রাস্তা করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাস্তার পাশে জাহাঙ্গীর নামে একলোকের বাড়ীর নিচ তলার দেওয়াল আংশিক ভাঙা হলেও উপরের ছাদ ভাঙা হয়নি। বাড়ীর মালিক দুই বছরের সময় চেয়ে ছাদ থেকে আরো দুইটি রুম করার জন্য নাসিক ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এতে কাউন্সিলর বাড়ীর মালিককে রুম করার অনুমতি দেয়। অনুমতি পত্রে ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফরের সিল স্বাক্ষর রয়েছে। নিচে ফিলার ছাড়া ছাদে দুইটি রুম করা ঝুকিপূর্ণ। যেহেতু রাস্তার পাশে তাই তা ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হালটে কাউকে স্থাপনা নির্মাণের লিকিত অনুমতি কাউন্সিলর দিতে পারেন না। দেশের প্রচলিত আইন অনুয়ায়ী তা বেআইনী। তাছারা কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে ভবন ঠিকিয়ে রেখেছে বহু বাড়ীর মালিক। যারা অর্থিক সুবিধা দিতে পারেনি তাদের বাড়ী ঠিকই ভাঙা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দুই পাশের বাড়ী ভাঙতে হয়। অথচ ভাঙা হয়েছে একপাশে। তাউ আংশিক। টেন্ডার অনুযায়ী রাস্তাটি ১২ ফুট প্রশস্ত করা ও সরকারি হালট দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, মানবিক বিবেচনায় একটি পরিবারকে অস্থায়ীভাবে দুই বছরের জন্য সময় দিয়ে বসবাসের জন্য দুইটি রুম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দুই বছর পরে ভেঙে ফেলা হবে।
সংরক্ষিত কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফর বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেছি সব ভবন ভেঙে রাস্তাটি ১২ ফুট প্রশস্ত করতে। কিন্তু ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সিদ্ধান্তের বাইরে আমি কিছু করতে পারছিনা। জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আলেয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিল স্বাক্ষর দিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছে। কাউন্সিলর দিলে আমার দিতে হয়। তবু আমি লিখে দিয়েছি মানবিক কারণে সময় দেওয়া গেল।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

নাসিক ১ নং ওয়ার্ডে সরকারি হালট দখল করার অনুমতি দিলেন কাউন্সিলর

আপডেট সময় : ১২:২৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ অগাস্ট ২০২২

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাগলা বাড়ী এলাকায় সরকারি হালট দখল করে নির্মিত বহুতল ভবন না ভাঙায় সড়ক নির্মাণে বিঘœ ঘটছে। সড়কটি কাগজে কলমে ১৬ ফুট প্রশস্ত থাকলেও সিটি করপোরেশন ১২ ফুট প্রশস্ত করার টেন্ডার দিয়েছেন। কিছু ভবন আংশিক ভাঙা হলেও অধিকাংশ ভবন রয়েছে বহাল তবিয়তে। ফলে সড়কটি কোথায় ১০ ফুট কোথায় ৮ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। সড়কটি সরকারি হালট হলেও তা দখলমুক্ত না করে একটি পরিবারকে সরকারি জায়গায় ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আনোয়ার ইসলাম ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফর। অথচ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারি জায়গায় কাউকে স্থাপনা নির্মাণের লিখিত অনুমতি দিতে পারেন না কাউন্সিলর। এনিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ।
জানা গেছে, মিজমিজি পুর্বপাড়া পাগলাবাড়ী ক্যানেলপাড় হতে মজিববাগ মসজিদ পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি সরকারি হালট। সিএস ও আরএস রেকর্ডেও তা হালট হিসেবে রাখা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বিভিন্ন লোকজন সরকারি হালটটি দখল করে নির্মাণ করে বহুতল ভবন। কাগজে কলমে ১৬ ফুট প্রশন্ত রাস্তা থাকলেও বাড়ী-ঘর নির্মাণের ফলে কোথায় ৮ ফুট কোথায় ৬ ফুট প্রশস্ত রাখা হয়। এতে এরাস্তা দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশন রাস্তাটি ১২ ফুট প্রশস্ত করার টেন্ডার করেন। পরে মেপে বিভিন্ন বাড়ী ভাঙার জন্য লাল দাগ দেওয়া হয়। রহস্য জনক কারণে রাস্তার একপাশের কিছু বাড়ী ভাঙা হলেও আরেক পাশে বহাল তবিয়তে থাকে। এসব বাড়ী না ভাঙায় রাস্তা ১২ ফুট প্রশস্ত করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে কোথায় ১০ ফুট কোথায় ৮ ফুট প্রশস্ত করেই রাস্তা করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাস্তার পাশে জাহাঙ্গীর নামে একলোকের বাড়ীর নিচ তলার দেওয়াল আংশিক ভাঙা হলেও উপরের ছাদ ভাঙা হয়নি। বাড়ীর মালিক দুই বছরের সময় চেয়ে ছাদ থেকে আরো দুইটি রুম করার জন্য নাসিক ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এতে কাউন্সিলর বাড়ীর মালিককে রুম করার অনুমতি দেয়। অনুমতি পত্রে ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফরের সিল স্বাক্ষর রয়েছে। নিচে ফিলার ছাড়া ছাদে দুইটি রুম করা ঝুকিপূর্ণ। যেহেতু রাস্তার পাশে তাই তা ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হালটে কাউকে স্থাপনা নির্মাণের লিকিত অনুমতি কাউন্সিলর দিতে পারেন না। দেশের প্রচলিত আইন অনুয়ায়ী তা বেআইনী। তাছারা কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে ভবন ঠিকিয়ে রেখেছে বহু বাড়ীর মালিক। যারা অর্থিক সুবিধা দিতে পারেনি তাদের বাড়ী ঠিকই ভাঙা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দুই পাশের বাড়ী ভাঙতে হয়। অথচ ভাঙা হয়েছে একপাশে। তাউ আংশিক। টেন্ডার অনুযায়ী রাস্তাটি ১২ ফুট প্রশস্ত করা ও সরকারি হালট দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, মানবিক বিবেচনায় একটি পরিবারকে অস্থায়ীভাবে দুই বছরের জন্য সময় দিয়ে বসবাসের জন্য দুইটি রুম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দুই বছর পরে ভেঙে ফেলা হবে।
সংরক্ষিত কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফর বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেছি সব ভবন ভেঙে রাস্তাটি ১২ ফুট প্রশস্ত করতে। কিন্তু ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সিদ্ধান্তের বাইরে আমি কিছু করতে পারছিনা। জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আলেয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিল স্বাক্ষর দিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছে। কাউন্সিলর দিলে আমার দিতে হয়। তবু আমি লিখে দিয়েছি মানবিক কারণে সময় দেওয়া গেল।