সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীরাসহ বিভিন্ন অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও গ্রেপ্তার করা হয়নি কিশোর গ্যাং সদস্যদের। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ আলহাজ আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহব্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নাম ব্যবহার করে নাসিক ১নং ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতা গাজী মনির হোসেন ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লায় নির্বিঘ্নে তার বাহিনীদের দিয়ে অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। তার নেতৃতে রয়েছে একটি বিশাল কিশোর গ্যাং গ্রুপ। তারা নাসিক ১নং ওয়ার্ডের সুলতানের মোড়, প্রাইমারি স্কুল ও রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গল্লিতে বসে স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের ইভটিজিং করে আসছে। তাদের ভয়ে এলাকার কেহ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা। থানা পুলিশের সাথে মনিরের রয়েছে গভির সক্ষতা।
গাজী মনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক বার সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারনে ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। এনিয়ে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আতংক, গাজী মনির হোসেন যেনো মূর্তমান আতংক। তার নাম শুনলেই চুপষে যায় এলাকাবাসী। আর যারা এর প্রতিবাদ করে তাদের নানাভাবে নির্যতিত ও হয়রানীর শিকার হতে বলে নাম না বলার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান।
জানাগেছে, গত ২৫ মার্চ রাতে সুলতানের মোড়ে কাঁচপুর থেকে আসা সুমন নামে একজনকে আটক করে ফিটিং দিয়ে তার কাজ থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়, পরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশ নাম্বারে ১০ হাজার টাকা আনতে বাধ্য করে।
এ ঘটনায় সুমনের মহাজন আব্দুল মতিন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থলে গিয়ে মন্টুর বড় ভাই রবিন ও তার পিতা রফিক মিয়াকে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে বিএনপি’র নেতা গাজী মনির হোসেন বিচার করে দেওয়া আশ্বস দিয়ে তাদেরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।
আরও জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম গাজী ইসমাইল এর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে মাদক ব্যবসা, চাদাঁবাজি ও কিশোরগ্যাং সদস্যরা বেপরোয়া, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দলীয়ভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সুযোগ সন্ধানী কিছু আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপিতে পুনর্বাসন করার অভিযোগ রয়েছে গাজী মনিরের বিরুদ্ধে।
গত ৩ জুলাই নাসিক ১নং ওয়ার্ডের তালতলা ক্লাবে গাজী মনিরের অফিসে নাঈম (২১) নামে এক যুবককে ধরে এনে ৫০ হাজার টাকা চাদাঁবাজির অভিযোগে নাঈমের মা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে গাজী মনির, গাজী সোহান, গাজী স্বপন, বাবুল, নাছির, বিপ্লব নাম উল্লেখ করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই বুধবার দুপুর ২ টার সময় চিটাগাংরোড নাঈম (২১) নামে এক যুবক তার কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে উক্ত বিবাদীরা তাকে ফোন করে তালতলা ক্লাব সংলগ্ন গাজী মনিরের অফিসে নিয়ে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাদাঁ দাবি করে। পরবর্তীতে বাদী নিপা বেগমকে ফোন করে উক্ত দাবিকৃত টাকা নিয়ে তার ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে বলে গাজী মনিরসহ বিবাদীরা।
এক পর্যায়ে তাদের সাথে একটি সমঝোতা করে তার ছেলেকে নিয়ে আসে-মা নিপা বেগম। এছাড়াও নাসিক ১নং ওয়ার্ডের তালতলা ক্লাব এলাকার কিছু আওয়ামীলীগ এর চামচা রাতারাতি বনে যায় বিএনপি’র নেতা। তারা বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করেই এলাকায় ফের নিয়ন্ত্রন করতে শুরু করেছে মাদক ব্যবসা, চাদাঁবাজি সহ কিশোর গ্যাংয়ের মতো বিভিন্ন অপকর্ম। গাজী মনিরের নেতৃত্বে রয়েছে ফারুক, গাজী সোহান, গাজী স্বপন, মন্টু, ফারুক, শিপলু ও বিল্পবসহ বিশাল একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ। তারা এলাকায় চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা ও ফিটিংসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে গাজী মনিরের ইশারায়।
এ বিষয়গুলো অভিযুক্ত গাজী মনির অপপ্রচার বলে বলেন, মহল্লার ছেলেপেলেরা একটি খারাপ মেয়ের সাথে ছেলেকে পাওয়ায় আটক করে। দুর্ব্যবহার করেছিল সেই ঘটনার গতকাল এলাকার মুরুব্বীদের নিয়ে সুস্থ সমাধান করে দেওয়া হয়েছে ।
দিকে সচেতন মহল আশংকা করেছেন গাজী মনির ও তার বাহিনীদের এখনই দমন না করলে এলাকার আইনশৃংখলার অবনতিসহ বড় ধরণের নাশকতা ঘটতে পারে। অপরদিকে এলাকার শান্তিশৃংখলা রক্ষা করতে স্থানীয় সাধারণ জনগণ আইনশৃংখলাবাহিনী র্যাব, পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রতিনিধির নাম 











