সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে কোটি টাকা বাণিজ্যের মিশনে নেমেছেন শ্রমিক নেতা দেলোয়ার হোসেন। ক্ষমতার প্রভাবখাটিয়ে দোকান পাট ও পরিবহন টিকিট কাউন্টার বসানোর জন্য রাতের অধাঁরে সরকারি জায়গায় নির্মাণ করেছেন টিনের ঘর। সওজ কর্তৃপক্ষের দাবি বাধা দিলেও দখলদার তা মানছেন না।
অভিযোগ উঠেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল মোড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিনস্থ সরকারি জায়গায়টি দখল করেছেন বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির শিমরাইল শাখার সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেন। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে গত রোববার রাতে প্রায় ৮ ফুট প্রশস্থ ও দুইশতাধিক ফুট লম্বা টিনের ঘর। দোকান ও বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসের টিকিট কাউন্টার বসানোর জন্য ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরটির পশ্চিম পাশে নব নির্মিত হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্প। ক্যাম্পের দেয়াল ঘেঁসে পূর্ব দিকে বাড়ানো হয়েছে ঘরটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবহনের কাউন্টার মালিক জানান, তারা শিমরাইল পুরাতন ট্রাফিক বক্স থেকে পশ্চিম দিকে সৌদি বাংলা টাওয়ার পর্যন্ত সরকারি জায়গা কাউন্টার চালিয়ে আসছেন। শিমরাইলে প্রায় অর্ধশতাধিক কাউন্টার রয়েছে। মহাসড়ক প্রশস্থ করায় এখন বসতে পারছেনা। কাউন্টার বসানোর জন্য ট্রাক টার্মিনালের সামনে ঘর করে দিচ্ছে দেলোয়ার হোসেন। প্রতিটি কাউন্টারের জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম ও দৈনিক ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে দেলোয়ারকে। অন্যকোন উপায় না থাকায় অধিকাংশ কাউন্টার মালিক রাজি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সওজ কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে প্রায় দুই একর সরকারি জায়গা রয়েছে। সরকারি জায়গায়টি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে।জমির পূর্ব ও উত্তর পাশে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট ও একাধিক শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়। দক্ষিণ পাশে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। মাঝখানে ট্রাক টার্মিনাল। তৎকালিন সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ২০০৪ সালে জলাশয় ভরাট করে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করে ইজারা দিয়েছিল। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ার পর ২০১২ সালে বার্ষিক ১২ লাখ টাকায় টার্মিনালটি ইজারা দেওয়া হয়। ইজারা নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর আলোচিত নূর হোসেন ও নিহত নজরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। নজরুল ইসলামসহ সাত হত্যা কান্ডের পর থেকে টার্মিনালটি আর ইজারা দেওয়া হচ্ছেনা। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু ইজারা ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ সওজের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে শ্রমিক নেতা দেলোয়ার হোসেন ও নূরুজ্জামান জজ ট্রাক টার্মিনালটি নিয়ন্ত্রন করছেন।
সরকারি জায়গা দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, দূর-দূরন্ত এলাকার যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে যাত্রীবাহী বাসের কাউন্টার বসানোর জন্য ঘরটি নির্মাণ করেছি। সওজ কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি নেননি বলে জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস বলেন, সরকারি জায়গা দখল ও ঘর নির্মাণ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দখলকারী আমাদের বাধা মানছেনা।
প্রতিনিধির নাম 























