সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেল এসিল্যান্ড অফিসে নানান অনিয়মের অভিযোগ

সিদ্বিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার অবসর প্রাপ্ত এক শিক্ষক দম্পত্তি জালকুড়ি মৌজায় ২০ শতাংশ জমির নামজারী তথা মিউটেশনের জন্য অনলাইনে আবেদন ফরম সম্পন্ন করে জমা দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেল এসিল্যান্ড অফিসে যান মঙ্গলবার সকাল ১০টায়। সেখান থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো, ১০ শতাংশের উপরে জমি হলে এসিল্যান্ডের অনুমতি ছাড়া আবেদন জমা নেওয়া যাবে না। তারা বলেন, আমাদের তো সকল কাগজপত্রের ফটোকপি সাথে দেওয়া আছে, তাহলে কেন আমাদের আবেদন জমা নিবেন না। সংশ্লিষ্ট ডেক্স থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এটা এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশ। এর আগে তারা ২ দিন ঘুরাঘুরি করে শহরের খানপুরের একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে আবেদন পত্রটি অনলাইনে ফরম সম্পন্ন করেন। পরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এসিল্যান্ডের জন্য অপেক্ষা করে জমা না দিয়েই চলে আসেন। একই অবস্থা হয়ে ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ শামীম নামে এক জমির মালিকের। বুধবার সকালে তিনি তাদের ৫ ভাইয়ের নামে নামজারীর জন্য ২৪ শতাংশ জমির একটি অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেল এসিল্যান্ড অফিসে যান। সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, আগে এসিল্যান্ড স্যারকে দেখাতে হবে। এসিল্যান্ড স্যার সম্মতি দিলেই তার আবেদন গ্রহন করা হবে। পরে তিনি, অন্য একজনের সহায়তায় এসিল্যান্ডের সাথে দেখা করে আবেদনটি জমা দিয়ে আসেন। ঐ আবেদন জমা হইছে কি না তা আগামী সপ্তাহে তাকে অফিসে এসে খবর নেওয়ার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষক দম্পত্তি জানান,- হয়রানি আর ভোগান্তি কী এসিল্যান্ড অফিসে না এলে বোঝা যায় না। অফিস নিয়মে প্রত্যেক ধাপে ঘুষ দিয়েই ফাইল এসিল্যান্ডের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছানো হয়। এতে সহযোগিতা করে অফিসের কর্মচারী-দালাল সিন্ডিকেট। একই অবস্থা সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি অফিস গুলোতে কম ঘুষে বেশি ঘোরাঘুরি করতে হয় আর বেশি ঘুষে কাজ তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। তবে যারা সরাসরি ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে মোটা অংকের টাকায় চুক্তি করে নামজারী করান তাদের এসিল্যান্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। এমন কি আবেদন ফরমে কোন সাক্ষরও করতে হয় না জমির মালিকদের। জমির মালিকরা নিজে যারা ঘুষছাড়া নামজারী করাতে চান তাদের উপর ই এসন হয়রানির খড়ক পড়ে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজা মো: গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, কাগজপত্রে জটিলতার কারণে আমাকে দেখিয়ে আবেদনফরম জমা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তাহলে আপনার অনুপস্থিতিতে কিভাবে সাধারণ মানুষের আবেদনফরম জমা নিবে এমন প্রশ্ন করা হলে, তিনি উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।

তবে এ বিষয়ে কথা হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: সেলিম রেজা বলেন, কাগজপত্রে জটিলতা থাকলেও আবেদন ফরম নিতে বাধ্য থাকবে। কাগজপত্র মূলত আবেদন গ্রহন করার পরবর্তীতে যাচাই বাচাই করা হয় , এসিল্যান্ড না থাকলে আবেদন ফরম নেওয়া যাবে না এমন কোনো নিয়ম নেই। এ  বিষয়টি দেখবেন বলেও জানান তিনি।